সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : ভারতের জ্বালানি খাতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের কয়লা উৎপাদন ও সরবরাহের পরিসংখ্যান। কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক (Ministry of Coal) জানিয়েছে, ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক কয়লা খনিগুলিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২০.৪৯ মিলিয়ন টন (এমটি)। একই সময়ে খনি থেকে কয়লা সরবরাহ বা ডিসপ্যাচ হয়েছে ১৭.৭২ মিলিয়ন টন। গত বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদনে ১৮.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে, যা খাতটির ধারাবাহিক প্রসারকে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকারি সূত্রে উল্লেখ, ‘উৎপাদন বৃদ্ধির এই হার প্রমাণ করে যে খনি কার্যক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিচালনার ফল মিলছে।’ ফেব্রুয়ারির তথ্য শুধু মাসিক ভিত্তিতেই নয়, আর্থিক বর্ষ ২০২৫-২৬-এর সামগ্রিক চিত্রেও উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনি থেকে মোট কয়লা উৎপাদনে ১১.৫৮ শতাংশ বছরওয়ারি বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সময়ে মোট ডিসপ্যাচ বেড়েছে ৬.৭৮ শতাংশ। কয়লা মন্ত্রক জানায়, ‘উৎপাদন ও সরবরাহে এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি খনি খাতে উন্নত সমন্বয়, সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ফল।’ খনি মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তি প্রয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এই সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রাফিক উপস্থাপনায়ও গত কয়েক মাসে উৎপাদন ও সরবরাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরা পড়েছে। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত উদ্যোগের ফলে খনি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা এসেছে। মন্ত্রকের এক আধিকারিকের কথায়, ‘পরিকল্পিত নীতি, কঠোর নজরদারি এবং অংশীদারদের সক্রিয় সহযোগিতায় উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।’ ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ কয়লার উপর নির্ভরশীল। ফলে ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনির এই বৃদ্ধি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নিয়মিত ডিসপ্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারিতে ১৭.৭২ মিলিয়ন টন কয়লা সরবরাহ সেই দিক থেকে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ক্যাপটিভ খনি মূলত বিদ্যুৎ, ইস্পাত বা সিমেন্ট উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির নিজস্ব প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহৃত হয়, আর বাণিজ্যিক খনি থেকে বাজারে সরাসরি বিক্রি করা হয় কয়লা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্যিক খনি নিলাম প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, ‘দ্রুত অপারেশনাল অনুমোদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে খনি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১১.৫৮ শতাংশে পৌঁছনো খনি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একই সঙ্গে ডিসপ্যাচ বৃদ্ধির ৬.৭৮ শতাংশ হার শিল্প চাহিদার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে। জ্বালানি চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহে বিঘ্ন কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পরিকল্পনা এগোচ্ছে। ‘দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তি চাহিদা পূরণে কয়লা খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,’ জানানো হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে। উল্লেখ্য, খনি খাতে উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। খনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রুত লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার ফলে ডিসপ্যাচ সময়ও কমেছে। শিল্পমহলের মতে, উৎপাদন ও সরবরাহে ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমাবে।
পরিবেশগত মান রক্ষা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে খনি পরিচালনাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, খনি সম্প্রসারণের পাশাপাশি টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়। ভারতের জ্বালানি মানচিত্রে কয়লার ভূমিকা এখনও কেন্দ্রীয়। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটলেও শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে কয়লার প্রয়োজনীয়তা বহাল। সেই প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর উৎপাদন ও ডিসপ্যাচ পরিসংখ্যান অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। সরকারি নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের সমন্বয়ে কয়লা খাত যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে, তা সাম্প্রতিক তথ্যেই প্রতিফলিত। উৎপাদনের এই ঊর্ধ্বগতি আগামী মাসগুলিতেও বজায় থাকলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yubasathi online apply time, WB unemployment scheme 2026 | প্রতিদিন মাত্র ২ ঘণ্টা খোলা থাকবে ‘যুবসাথী’ পোর্টাল: অনলাইনে আবেদনে নতুন সময়সীমা, কীভাবে করবেন আবেদন জেনে নিন



