সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ (FY 2025-26) -এ ভারতের কয়লা শিল্পে স্পষ্ট গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনি (Captive and Commercial Mines) থেকে কয়লা উৎপাদন এবং সরবরাহ বা ডিসপ্যাচ, উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক বৃদ্ধির ছবি উঠে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে এই খনিগুলি থেকে মোট কয়লা উৎপাদন হয়েছে ১৯.৪৮ মিলিয়ন টন (MT), আর একই সময়ে ডিসপ্যাচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮.০২ মিলিয়ন টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫.৭৫ শতাংশ, যা কয়লা খাতে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3)-এ ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলি থেকে মোট কয়লা উৎপাদন হয়েছে ৫৪.১৪ মিলিয়ন টন। একই সময়ে ডিসপ্যাচ হয়েছে ৫০.৬১ মিলিয়ন টন। এই ত্রৈমাসিকে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৫.৩৫ শতাংশ। সূত্রের মতে, এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে খনিগুলির অপারেশনাল গতি শুধু বজায় থাকেনি, তা আরও মজবুত হয়েছে।

চলতি অর্থবর্ষে ডিসেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলির উৎপাদন আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ৯.৭২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়লা ডিসপ্যাচ বেড়েছে ৬.৯৮ শতাংশ। কয়লা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মতে, এটি শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং খনন দক্ষতা, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং খনির ক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহারের ফল। একজন আধিকারিকের কথায়, ‘ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলিতে উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা প্রমাণ করছে যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে।’ তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এই বৃদ্ধির পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইস্পাত শিল্প এবং সিমেন্ট শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে সরাসরি কয়লা সরবরাহ করে। ফলে এই খনিগুলির উৎপাদন বৃদ্ধি মানে দেশের শিল্পক্ষেত্রে কাঁচামালের জোগান আরও স্থিতিশীল হওয়া। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং শিল্প উৎপাদনও গতি পায়। ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উৎপাদনের তুলনায় ডিসপ্যাচের পরিমাণ সামান্য কম হলেও তা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে। শিল্প মহলের মতে, এটি মূলত মজুত ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা-সরবরাহের সময়গত সমন্বয়ের ফল। এক শিল্প বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, ‘উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিসপ্যাচও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এটি প্রমাণ করে যে বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং কয়লা ব্যবস্থাপনা মোটের উপর ভারসাম্যপূর্ণ।’
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, দেশে শক্তি নিরাপত্তা (Energy Security) নিশ্চিত করতে কয়লা উৎপাদনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটছে, তবুও কয়লা এখনও ভারতের শক্তি মিশ্রণের একটি বড় অংশ। সেই কারণেই ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলির কর্মদক্ষতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।চলতি অর্থবর্ষে যে হারে উৎপাদন ও ডিসপ্যাচ বেড়েছে, তাতে শিল্প মহলের আশা, বছরের শেষে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়তে পারে। কয়লা খাতের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির দাবি, উন্নত পরিকল্পনা, পরিবহণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে খনন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়েছে।
একটি সংযুক্ত গ্রাফে দেখা যাচ্ছে, মাসওয়ারি এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উৎপাদন ও ডিসপ্যাচ, দু’টিই ঊর্ধ্বমুখী। এই গ্রাফিক তথ্য কয়লা খাতে ধারাবাহিক উন্নতির ছবিটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা বজায় থাকলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে কাঁচামালের ঘাটতি নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ক্যাপটিভ ও কমার্শিয়াল খনিগুলির শক্তিশালী পারফরম্যান্স কয়লা শিল্পের ভিত আরও মজবুত করছে। উৎপাদন ও ডিসপ্যাচে এই স্থায়ী বৃদ্ধি শুধু খনি ক্ষেত্রের সাফল্য নয়, বরং দেশের শক্তি ও শিল্প পরিকাঠামোর জন্যও একটি ইতিবাচক সংকেত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Matua community, Narendra Modi message | মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা মোদীর, নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে আশ্বাস দিলেও তীব্র প্রশ্ন তুলল তৃণমূল




