সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : প্রাকৃতিক চাষকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে বড়সড় উদ্যোগ নিল নীতি আয়োগ (NITI Aayog)। রাজ্য সহায়তা মিশন (State Support Mission) বা এসএসএম-এর অধীনে আয়োজিত দু’দিনের জাতীয় কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, স্টার্টআপ প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা একত্রিত হন। প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির প্রসার, মাঠ-পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং বাজার সংযোগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয় এই কর্মশালায়। কর্মশালার সূচনালগ্নে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় প্রাকৃতিক চাষ সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ নিয়মাবলি প্রকাশ করা হয়। নীতি আয়োগের পক্ষে জানানো হয়, ‘এই প্রশিক্ষণপুস্তক কৃষক, সম্প্রসারণ আধিকারিক এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের হাতে প্রাসঙ্গিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’ মাঠপর্যায়ে প্রয়োগযোগ্য কৌশল, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব উপাদান প্রস্তুতি এবং ব্যয় হ্রাসের পদ্ধতি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মশালায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত (Acharya Devvrat)। তিনি বলেন, ‘টেকসই ও কৃষককেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের পথ। প্রাকৃতিক চাষ মাটির উর্বরতা বাড়ায়, উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।’ তাঁর মতে, রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর কৃষি কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন : India GDP Q3 2025-26 | ৭.৮% জিডিপি গ্রোথ: বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতের অর্থনীতির উত্থান
এই কর্মশালায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (Junagadh Agricultural University), ড. ওয়াইএস পরমার উদ্যান ও বনবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয় (Dr. YS Parmar University of Horticulture and Forestry) এবং গুজরাট ন্যাচারাল ফার্মিং সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (Gujarat Natural Farming Science University) -সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থা। তাঁদের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে প্রাকৃতিক কৃষির ফলাফল, প্রযুক্তি সংযোজন এবং প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ও ওডিশা থেকে কৃষক ও কৃষি আধিকারিকরা অংশ নেন। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVK) বিজ্ঞানীরাও আলোচনায় অংশ নেন। প্রথম দিনের উন্মুক্ত আলোচনায় মোট ৭৭০ জন অংশগ্রহণকারী সরাসরি মতবিনিময় করেন। সেখানে প্রাকৃতিক চাষ গ্রহণের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেশন, বাজার সংযোগ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। একাধিক কৃষক জানান, ‘প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলের সঠিক বাজারমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগ্রহ আরও বাড়বে।’ কৃষক-নেতৃত্বাধীন মডেলের প্রয়োজনীয়তার দিকেও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্তরের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এপিডা (APEDA), নাবার্ড (NABARD), সহকারিতা মন্ত্রক, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন বিভাগ (Department of Animal Husbandry and Dairying), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (Ministry of Environment, Forest and Climate Change) এবং কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (Agricultural Technology Application Research Institute) -এর আধিকারিকরা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং পরিবেশগত সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রাকৃতিক চাষের ইকো-সিস্টেম গড়ে তুলতে নীতি ও বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন জরুরি। দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মাঠপর্যায়ে প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির প্রদর্শন দেখানো হয়। বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত্রে রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি, জৈব উপাদান প্রস্তুতির প্রক্রিয়া এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে জৈব উপকরণ তৈরির কৌশল উপস্থাপন করা হয়। কৃষকরা সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং উৎপাদন খরচ কমানোর বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন।
নীতি আয়োগের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রাকৃতিক চাষের প্রসার কেবল কৃষি খাত নয়, পরিবেশ সুরক্ষা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ কর্মশালায় অংশ নেওয়া স্টার্টআপ সংস্থাগুলি জৈব উপকরণ উৎপাদন, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং বাজার সংযোগের নতুন সমাধান তুলে ধরে। কৃষক উৎপাদক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা জানান, সমবায় ভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে প্রাকৃতিক চাষ আরও প্রসার পাবে। উল্লেখ্য যে, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান ইকো-সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তর নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক চাষকে কেন্দ্র করে এই জাতীয় কর্মশালা ভবিষ্যৎ কৃষিনীতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষক, গবেষক ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : Bihar hospital condition, Maithili Thakur BJP MLA | সরকারি নথির সঙ্গে মিলছে না বাস্তব চিত্র, আলিনগরের হাসপাতালের দুরবস্থা তুলে ধরে বিধানসভায় সরব বিজেপি বিধায়ক মৈথিলি ঠাকুর




