East India Company bankruptcy news | ১৭০ বছর পর ফের দেউলিয়া ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’! ইতিহাসের ছায়া কী আবার ফিরে এল?

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : একদা যে নাম শুনলেই ভারতীয় উপমহাদেশের উপনিবেশিক অতীত চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেই ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ (East India Company) আবারও দেউলিয়া। প্রায় ১৭০ বছর আগে প্রথমবারের মতো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ বাণিজ্যিক শক্তির এই প্রতীক। কিন্তু ২০১০ সালে এক ভারতীয় শিল্পপতির উদ্যোগে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর ফের অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে দ্বিতীয়বারের জন্য লাটে উঠল সংস্থাটি। ফলে ব্রিটিশ ও ভারতীয় ইতিহাসে বহুচর্চিত এই নামকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : India GDP Q3 2025-26 | ৭.৮% জিডিপি গ্রোথ: বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতের অর্থনীতির উত্থান

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (East India Company) -এর যাত্রা শুরু হয় ১৬০০ সালে। প্রথমে নীল, নুন, মশলা, রেশম ও চায়ের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে তারা ভারত ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে। পরবর্তীকালে সেই বাণিজ্যিক কার্যকলাপই রূপ নেয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়। ব্যক্তিগত প্রায় আড়াই লক্ষ সৈন্য নিয়ে সংস্থাটি একসময় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশে শাসন কায়েম করে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, কোম্পানির অর্থনৈতিক নীতির ফলে বেঙ্গল প্রভিন্স-সহ বহু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং বিপুল প্রাণহানি ঘটে। উপনিবেশিক শাসনের স্মৃতি তাই এই সংস্থার নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে। কোম্পানির প্রশাসনিক কর্তৃত্ব শেষ হয় এবং শুরু হয় ব্রিটিশ রাজত্ব। প্রথমবারের মতো তখনই প্রায় বন্ধ হয়ে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। দীর্ঘ সময় ধরে নামটি ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহেতা (Sanjeev Mehta) কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নেন। তাঁর উদ্যোগে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ আবার বাজারে আত্মপ্রকাশ করে উচ্চমানের চা, মশলা ও মুখরোচক খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়, ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক এখন এক ভারতীয়’। অনেকে এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হিসেবেও দেখেছিলেন। উপনিবেশের শাসকের ব্র্যান্ড ভারতীয়ের হাতে চলে যাওয়াকে কেউ কেউ ‘প্রতিশোধের রূপক’ বলে আখ্যা দেন।

আরও পড়ুন : Bill Gates Epstein Controversy | এপস্টিন-যোগে ‘দায় আমার’ : গেট্‌স ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সামনে স্বীকারোক্তি বিল গেট্‌সের, ক্ষমা চাওয়ার দাবি রিপোর্টে

কিন্তু সেই পুনর্জাগরণ দীর্ঘস্থায়ী হল না। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জীব মেহেতার মূল কোম্পানি ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামাঙ্কিত একাধিক সংস্থা ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে পড়ে। কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে ব্যর্থতা, বিপণন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং ধারদেনার বোঝা মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত সংস্থাটি দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। ফলে ১৭০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে গেল ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামধারী ব্যবসায়িক উদ্যোগ। অন্যদিকে, ইতিহাসে আরও একটি ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র উল্লেখ রয়েছে, ফরাসি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (French East India Company)। ১৬৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাও ভারতে ব্যবসা বিস্তার করেছিল। তবে ১৭৬৯ সালে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং ফরাসি সরকার সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। ১৭৯৪ সালে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় সেই কোম্পানি। অন্যদিকে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক আর্থিক লেনদেন ঘিরেও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মধ্যপ্রদেশের সীহোরের বাসিন্দা বিবেক রুথিয়ার (Vivek Ruthiyar)। তাঁর দাবি, ১৯১৭ সালের ৪ জুন তাঁর দাদু শেঠ জুম্মালালের কাছ থেকে ব্রিটিশ প্রশাসনের তৎকালীন রাজনৈতিক এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিস ৩৫,০০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সুদের হিসেবে বর্তমানে সেই বকেয়া কয়েক কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ঐতিহাসিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপনিবেশিক অতীতের নাম ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ আজ আবার অর্থনৈতিক ব্যর্থতার কারণে শিরোনামে। একসময় যে সংস্থা বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব ফেলেছিল এবং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল, সেই নাম এখন কেবল একটি ব্র্যান্ড হিসেবেই টিকে থাকার চেষ্টা করছিল। পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজার প্রতিযোগিতা ও আর্থিক সঙ্কটের মুখে তা টিকল না। ইতিহাসের পরিক্রমায় এই দ্বিতীয় দেউলিয়া হওয়া অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। উপনিবেশিক অতীত, অর্থনৈতিক উত্থান-পতন এবং আধুনিক কর্পোরেট বাস্তবতা, এসব নিয়ে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী।
আরও পড়ুন : England beat New Zealand in T20 World Cup Super Eight | নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের দাপট, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভাগ্য এখনও নির্ধারিত নয়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন