O Panneerselvam joins DMK | তামিলনাড়ু ভোটের আগে বড় চমক! ডিএমকে-তে যোগ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওপিএস, বদলাচ্ছে সমীকরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ভোটের প্রাক্কালে বড় মোড়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বহিষ্কৃত এআইএডিএমকে নেতা ও পন্নীরসেলভম (O. Panneerselvam), তিনি দ্রাবিড় রাজনীতিতে ‘ওপিএস’ নামেই পরিচিত, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন এম কে স্ট্যালিন (M. K. Stalin)-এর দল ডিএমকে (DMK)-তে। সাত মাস আগে স্ট্যালিনের সঙ্গে প্রাতর্ভ্রমণ-আলোচনার পর৷ তিনি এনডিএ জোট ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই রাজনৈতিক দূরত্ব পেরিয়ে এবার সরাসরি শাসক শিবিরে নাম লেখানোয় দক্ষিণের রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। আগামী এপ্রিল-মে মাসে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরলের সঙ্গেই এই রাজ্যগুলিতে ভোটপর্ব সম্পন্ন হবে। তার আগে ওপিএস-এর ডিএমকে-তে অন্তর্ভুক্তি যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষত দক্ষিণ তামিলনাড়ুর থেনি ও রামনাথপুরম অঞ্চলে থেভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে পন্নীরসেলভমের প্রভাব রয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা।

আরও পড়ুন : Cooch Behar BLO murder case, teacher kills wife in Cooch Behar | কোচবিহারে নৃশংসতা: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ শিক্ষক-বিএলওর বিরুদ্ধে, গ্রেফতার অভিযুক্ত

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রামনাথপুরম কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন ওপিএস। সেখানে এডাপাডি কে পলানীস্বামী (Edappadi K. Palaniswami) -এর নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এই ফলাফল অনেকের কাছেই ইঙ্গিতবহ ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই প্রভাবশালী নেতাকে দলে টেনে নেওয়া ডিএমকে-র কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে ওপিএস দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা (J. Jayalalithaa) -এর অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে। দুর্নীতি মামলায় জেলযাত্রা কিংবা অসুস্থতার সময় তিন দফায় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব তাঁর হাতেই অর্পণ করেছিলেন ‘আম্মা’। সেই বিশ্বাস ও আনুগত্যই তাঁকে রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে জয়ললিতার প্রয়াণের পর এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরে শুরু হয় নেতৃত্বের টানাপোড়েন।

প্রথম দিকে শশীকলা গোষ্ঠীর সমর্থনে পন্নীরসেলভম কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হলেও পরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। শশীকলা দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর ক্ষমতার ভার আরও দৃঢ়ভাবে চলে যায় পলানীস্বামীর হাতে। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকট হয়। পন্নীর ও পলানী শিবিরের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় সংগঠনের অন্দরে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সক্রিয় মধ্যস্থতায় দুই গোষ্ঠী আপাতত একত্রিত হলেও সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে যায়। সেই সময় পন্নীরসেলভম উপমুখ্যমন্ত্রী ও দলের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পান, আর মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামী হন সহ-সমন্বয়কারী। উল্লেখ্য, ২০২১-এর ভোটে এআইএডিএমকে পরাজিত হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২২ সালে সাধারণ পরিষদের বৈঠক ডেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ পলানী শিবির পন্নীরসেলভম ও তাঁর অনুগামীদের দল থেকে বহিষ্কার করে। সেই থেকেই ওপিএস আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন। এনডিএ জোট ছেড়ে ধীরে ধীরে নিজের স্বাধীন অবস্থান তিনি পরিষ্কার করেন।

সাম্প্রতিক যোগদানের অনুষ্ঠানে ডিএমকে নেতৃত্ব ওপিএস-কে স্বাগত জানিয়ে জানায়, ‘রাজ্যের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়ের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ।’ পন্নীরসেলভমও বলেন, ‘মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, দক্ষিণ তামিলনাড়ুর ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতেই এই জোটবদল। থেনি ও রামনাথপুরমে থেভর সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থন ওপিএস-এর দিকে ঝুঁকে থাকায় শাসকদলের সংগঠনগত সুবিধা বাড়তে পারে। অন্য দিকে, এআইএডিএমকে শিবিরে এই পদক্ষেপ নিয়ে কটাক্ষ শোনা গেছে। পলানীস্বামী অনুগামীরা দাবি করছেন, ‘দলীয় ভিত্তি ছেড়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।’ যদিও ওপিএস ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘দীর্ঘদিনের অবমাননা ও বহিষ্কারের পর নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ বেছে নেওয়াই স্বাভাবিক।’ উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে দ্রাবিড় দলগুলির ভিতর ভাঙাগড়া নতুন নয়। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এমন শিবিরবদল ভোট-সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই জল্পনা। ডিএমকে ইতিমধ্যেই সংগঠন মজবুত করতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সমর্থন জোরদার করছে। সেই প্রক্রিয়ায় ওপিএস-এর অন্তর্ভুক্তি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর নির্বাচনী প্রচারে। ওপিএস কী ডিএমকে প্রার্থীদের হয়ে সক্রিয় প্রচারে নামবেন? তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব কতটা ভোটে রূপান্তরিত হবে? প্রশ্ন একাধিক। তবে এটুকু নিশ্চিত, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dayanidhi Maran women empowerment remark | নারী ক্ষমতায়নের মঞ্চে উত্তর-দক্ষিণ বিতর্ক, দয়ানিধি মারানের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন