Dipsita Dhar | দীপ্সিতা ধর কি অজন্তা বিশ্বাসের পথেই? সিপিএম সদস্যপদ নবীকরণ ঘিরে জোর জল্পনা, উত্তরপাড়া সমীকরণে নতুন মোচড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রাক্তন ছাত্রনেতা প্রতীক-উর রহমানকে ঘিরে যখন সিপিএমের অন্দরে চাপা টানাপোড়েন, তখনই দলের আর এক পরিচিত মুখ দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar) -এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পেরিয়েও তিনি এখনও সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নবীকরণ করেননি। এই ঘটনাই ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সম্ভাবনার সমীকরণ। সিপিএমের (Communist Party of India Marxist) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সদস্যপদ নবীকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে জানুয়ারির মধ্যেই তা প্রাথমিক স্তরে শেষ হয়ে জেলা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। আবার পার্টিকেন্দ্রের সদস্যপদ যাঁদের রয়েছে, তাঁদের নবীকরণও সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেরে ফেলা হয়। কিন্তু দীপ্সিতা ধর-এর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, একি শুধুই বিলম্ব, না কি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা?

উল্লেখ্য, দীপ্সিতার দলীয় সদস্যপদ পশ্চিমবঙ্গে নয়, দিল্লিতে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়-এ (Jawaharlal Nehru University) পড়াশোনার সূত্রেই তিনি সেখানে পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে তাঁর সদস্যপদ নবীকরণের বিষয়টি দিল্লি ইউনিটের আওতায় পড়ে। এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমার পার্টি সদস্যপদ দিল্লিতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুনর্নবীকরণের সময় রয়েছে।’ একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘পার্টির সদস্যপদ এবং রিনিউয়াল পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেটা সংবাদমাধ্যম জানছে কীভাবে, সে বিষয়ে আমার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কী আছে, বুঝতে পারছি না।’ তাঁর বক্তব্যে সরাসরি অস্বীকার না থাকলেও পরিষ্কার, এখনও পর্যন্ত তিনি নবীকরণ করেননি। আবার ৩১ মার্চের মধ্যে করবেন কি না, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। শুধু বলেছেন, ‘সময় রয়েছে।’ এই ‘সময় রয়েছে’ মন্তব্যই রাজনৈতিক মহলে জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Rajya Sabha seats, Trinamool Congress MP change | জোড়া আসনে ছ’জন সাংসদ! পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা সমীকরণে নজিরবিহীন পালাবদল, এবার তৃণমূল কাকে পাঠাবে?

দলের অন্দরমহলে অনেকেই স্মরণ করাচ্ছেন কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা। সিপিএমের প্রয়াত প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস (Anil Biswas) -এর কন্যা অজন্তা বিশ্বাস (Ajanta Biswas) একসময় দলীয় অবস্থান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) -এর মুখপত্রে উত্তর সম্পাদকীয় লিখে পশ্চিমবঙ্গে নারী আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে সিপিএম তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরের বছরই তিনি দলীয় সদস্যপদ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে, অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দীপ্সিতাও কী কোনও মতাদর্শগত বা সাংগঠনিক অসন্তোষে সেই পথেই হাঁটবেন?

দিল্লি সিপিএম সূত্রে খবর, দীপ্সিতার মতো যাঁদের সদস্যপদ ওই ইউনিটে রয়েছে, তাঁদের অধিকাংশের নবীকরণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে দীপ্সিতার ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, বিষয়টি ‘অতিসরল’ নয়। তাঁদের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে তিনি কোনও নির্দিষ্ট শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত নন। গত বছরের জুলাইয়ের পর তাঁর সঙ্গে কোনও গণসংগঠনের প্রত্যক্ষ সম্পর্কও নেই। ফলে তিনি নাকি ‘বিরক্ত’ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এখানেই এসে যুক্ত হয়েছে প্রতীক-উর রহমান (Pratik-Ur Rahaman) পর্ব। দলের ভিতরে তাঁর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আলোড়ন, তা দীপ্সিতাকেও প্রভাবিত করছে বলে ঘনিষ্ঠদের দাবি। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রাথমিকভাবে একটা ভাবনা ছিল। কিন্তু প্রতীক-উর পর্ব তাঁকে আরও ভাবাচ্ছে। তিনি দেখতে চাইছেন, প্রতীক-উর কী করেন।’ যদিও এই বিষয়ে দীপ্সিতা নিজে কোনও মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে কয়েকটি বিতর্কসভায় দেখা যায়নি বলেও দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। হাওড়ার এক যুবনেত্রীর বক্তব্য, ‘সায়রা শাহ হালিম (Saira Shah Halim) ও তো দলের সদস্য নন। ফলে দীপ্সিতা আর তাঁর কাজের ফারাক নেই। একজন কমিউনিস্ট যে আদর্শ ও পরিসর খুঁজে পান, তা যদি না মেলে, তবে ভাবতে তো হবেই।’ এই মন্তব্যে স্পষ্ট, প্রশ্নটা কেবল সাংগঠনিক নয়, আদর্শগত বলেও ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে উত্তরপাড়া (Uttarpara) বিধানসভা কেন্দ্রের সমীকরণ। গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর (Sreerampur) কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন দীপ্সিতা। সেই কেন্দ্রে উত্তরপাড়া বিধানসভা অংশে তিনি ৫০ হাজারের বেশি ভোট পান, যা সাতটি বিধানসভার মধ্যে সর্বাধিক। ফলে জেলা সিপিএমে জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। স্থানীয় কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে জোরালো করেছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অন্য কথা বলছে। সূত্রের খবর, বড় কোনও পরিবর্তন না হলে উত্তরপাড়ায় প্রার্থী হতে পারেন যুবনেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি উত্তরপাড়া, কোতরং (Kotrung), কানাইপুর (Kanaipur), নবগ্রাম (Nabagram), কোন্নগর (Konnagar) এলাকায় ধারাবাহিক কর্মসূচী করছেন। ফলে দীপ্সিতার সদস্যপদ নবীকরণ না করার বিষয়টি অনেকেই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। যদিও দীপ্সিতার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি ‘টিকিটের জন্য লালায়িত নন’। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত অবস্থান ও সাংগঠনিক বাস্তবতার মিশ্রণ। তবে রাজনীতির অঙ্কে প্রতীক-উর রহমান (Pratik-Ur Rahaman) -এর সিদ্ধান্ত এবং দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar) -এর সদস্যপদ নবীকরণ দু’টিই এখন নজরে রাখছে সিপিএম (CPM) শিবির। উল্লেখ্য, ৩১ মার্চের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। আপাতত ‘সময় রয়েছে’ এই মন্তব্যই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Anubhav Sinha Mamata Banerjee biopic |বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বড়পর্দায় আনতে চান অনুভব! কেন আকর্ষণীয় চরিত্র মমতা?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন