সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মালদহ : মালদহে (Malda) নবনির্মিত একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে মালদহ মিশন হাসপাতাল (Malda Mission Hospital) -এর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে চার হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও কারও হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জাতীয় সড়কের ধারে গড়ে ওঠা এই নতুন নার্সিংহোমটি গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নার্সিং, গ্রুপ ডি, ল্যাব টেকনিশিয়ান, সিকিউরিটি গার্ড-সহ একাধিক পদে নিয়োগের কথা বলা হয়। শুধু মালদহ নয়, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ আশপাশের জেলাগুলি থেকেও বহু বেকার যুবক-যুবতী আবেদন করেন।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, ‘প্রথমে আমাদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়। পরে বলা হয়, ট্রেনিং নিতে হবে। সেই ট্রেনিংয়ের জন্য আলাদা করে টাকা জমা দিতে হবে।’ অভিযোগ, বিভিন্ন পদের জন্য প্রশিক্ষণ ফি আলাদা ছিল। কারও কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, কারও কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, ইউনিফর্ম বাবদও অর্থ নেওয়া হয়। এমনকি দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।একজন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থী জানান, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, ট্রেনিং শেষ হলেই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। অনেকে ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছে। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও কোনও নিয়োগ হয়নি।’ আরেকজনের কথায়, ‘যাঁরা আবেদন করেছিলেন, প্রায় সবাইকে ডাকা হয়েছিল। তখনই সন্দেহ হয়নি। এখন বুঝছি, পরিকল্পনা করেই টাকা তোলা হয়েছে।’
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদনকারীর কাছ থেকে এই ভাবে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি গড় হিসাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা করে ধরা হয়, তা হলে মোট অঙ্ক দাঁড়াতে পারে কয়েক কোটি টাকায়। যদিও এই পরিমাণ অর্থ আদায়ের বিষয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও সরকারি বক্তব্য সামনে আসেনি। উল্লেখ্য, সোমবার প্রতারিতদের একটি বড় দল নার্সিংহোমে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানায়। তাঁদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাঁদের চিনতে অস্বীকার করে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রতিবাদ করলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁরা কালিয়াচক থানায় (Kaliachak Police Station) অভিযোগ জানাতে যান। অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ জমা নিতে গড়িমসি করা হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য মেলেনি।
পরবর্তীতে চাকরিপ্রার্থীরা মালদহের জেলাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ তবে মালদহ মিশন হাসপাতালের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষ মুখ খোলেননি। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এত বড় সংখ্যক যুবক-যুবতীর কাছ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ সংগ্রহ করা হল, অথচ প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এল না? স্থানীয়দের একাংশের মতে, ‘বেকারত্বের সুযোগ নিয়েই এমন প্রতারণা চলছে। চাকরির আশায় মানুষ শেষ সম্বলটুকুও দিতে রাজি হয়ে যাচ্ছে।’
আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে। পাশাপাশি, বেআইনি ভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও যুক্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, বিশেষত এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায়।অন্যদিকে, মালদহের এই ঘটনা আবারও রাজ্যে বেসরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘যে কোনও প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে সরাসরি বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরকারি অনুমোদন ও বৈধ নথি যাচাই না করে অর্থ লেনদেন করা উচিত নয়।’ উল্লেখ্য, এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। প্রতারিত যুবক-যুবতীরা দ্রুত ন্যায়বিচার এবং তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছেন। প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sania Mirza Fitness Routine 2026 | ৪০ ছুঁইছুঁই বয়সেও ফিটনেসে চমক, ১০ বছর পরের স্বপ্ন পূরণে কঠোর অনুশীলনে সানিয়া মির্জা




