Solar Eclipse 2026, Ring of Fire eclipse | বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ, সাড়ে চার ঘণ্টার ‘রিং অফ ফায়ার’ | ভারত থেকে কী দেখা যাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য?

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ মঙ্গলবার আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে আসছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩১ মিনিট ধরে চলবে এই মহাজাগতিক ঘটনা। বিশ্বের একাধিক প্রান্ত থেকে দৃশ্যমান হলেও ভারত থেকে তা দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি ‘অগ্নিবলয়’ বা ‘রিং অফ ফায়ার’ ধরনের সূর্যগ্রহণ, যা আকাশে বিরল দৃশ্যের জন্ম দেয়। সূর্যগ্রহণ মূলত ঘটে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর নির্দিষ্ট অবস্থানগত সমীকরণের ফলে। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং চাঁদ পৃথিবীকে। এই নিরবচ্ছিন্ন গতির ফলে কখনও কখনও তিনটি মহাজাগতিক বস্তু একই সরলরেখায় অবস্থান নেয়। সেই সময় চাঁদ যদি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তবে পৃথিবী থেকে সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণ আড়াল হয়ে যায়, তখনই ঘটে সূর্যগ্রহণ।

আরও পড়ুনLaschamps Excursion, Earth magnetic field collapse | ৪১ হাজার বছর আগে মহাজাগতিক অস্থিরতা বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর মানুষের জীবন

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA -এর বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, এই গ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরবর্তী অবস্থানে থাকবে। ফলে চাঁদ আকারে কিছুটা ছোট দেখাবে এবং সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারবে না। সূর্যের প্রান্তে তখন উজ্জ্বল আলোর বলয় দৃশ্যমান হবে, যা দেখতে আগুনের আংটির মতো। এই কারণেই একে বলা হয় ‘অগ্নিবলয়’ বা ‘রিং অফ ফায়ার’। বিজ্ঞানীদের কথায়, ‘চাঁদ যখন সূর্যের কেন্দ্রভাগ আড়াল করে, তখন চারপাশ দিয়ে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে আগুনের বলয়ের মতো আকার নেয়।’ অন্যদিকে, ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার দুপুর ৩টা ২৬ মিনিটে গ্রহণ শুরু হবে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে শেষ হবে এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। মোট স্থায়িত্ব প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩১ মিনিট। বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট নাগাদ গ্রহণ সর্বাধিক পর্যায়ে পৌঁছবে। সেই সময় সূর্যের চারপাশে অগ্নিবলয় প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড দৃশ্যমান থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় দর্শকদের জন্য কিছুটা হতাশার খবর রয়েছে। গ্রহণ শুরু হওয়ার সময় সূর্য ভারতে দিগন্তরেখার নীচে নেমে যেতে থাকবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সূর্যাস্ত হবে। ফলে দেশের কোনও প্রান্ত থেকেই এই সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘গ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার জন্য সূর্যের আকাশে অবস্থান অপরিহার্য। কিন্তু গ্রহণের মূল পর্যায় ভারতে সূর্যাস্তের সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তা দেখা যাবে না।’

সবচেয়ে স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখা যাবে আন্টার্কটিকা মহাদেশে। বিশেষ করে Antarctica -এর কনকর্ডিয়া (Concordia) ও মিরনি (Mirny) গবেষণাকেন্দ্র থেকে গ্রহণের পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। আফ্রিকার দক্ষিণাংশ, যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, জিম্বাবোয়ে ও জাম্বিয়া থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলির কিছু অংশ থেকেও এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সূর্যগ্রহণকে ঘিরে বৈজ্ঞানিক আগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কৌতূহলও প্রবল। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। যথাযথ সোলার ফিল্টার বা গ্রহণদর্শন চশমা ছাড়া সূর্য দেখা উচিত নয়। যদিও ভারতে এই গ্রহণ দৃশ্যমান নয়, তবু আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলি অনলাইন সম্প্রচারের মাধ্যমে তা দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ দৃশ্যগত বিস্ময় যেমন, তেমনি এটি মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগও এনে দেয়। সূর্যের করোনা বা বহিরাবরণ অধ্যয়ন, আলোর বিকিরণ বিশ্লেষণ ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব পর্যবেক্ষণে গ্রহণ বিশেষ সহায়ক। বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘প্রতিটি গ্রহণ আমাদের সৌরজগতের গতিবিদ্যা বোঝার নতুন জানালা খুলে দেয়।’ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ আরও বেশি। সামাজিক মাধ্যমেও ইতিমধ্যেই ‘রিং অফ ফায়ার সোলার ইক্লিপস’ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বহু পর্যটক গ্রহণ দেখার জন্য দক্ষিণ মেরু বা দক্ষিণ গোলার্ধের নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাড়ি জমিয়েছেন। যদিও ভারত থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, তথাপি বিশ্বজুড়ে এটি এক বিরল মহাজাগতিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে। আকাশে অগ্নিবলয়ের সেই ঝলক আবারও মনে করিয়ে দেবে, আমাদের ক্ষুদ্র পৃথিবী বৃহৎ মহাবিশ্বের এক সামান্য অংশ মাত্র। বিজ্ঞান ও প্রকৃতির এই অনন্য সমন্বয় প্রত্যক্ষ করতে মুখিয়ে রয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন