Madhyamik Exam 2026 AI Cheating | মাধ্যমিক ২০২৬-এ এআই দিয়ে টুকলি! মোবাইল স্ক্যান করে উত্তর লিখতে গিয়ে ধরা তিন পরীক্ষার্থী, হতবাক পরীক্ষকরাও

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব বর্ধমান: মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই ভবিষ্যতের প্রথম বড় সোপান। সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এ বার নজিরবিহীন কাণ্ডে স্তম্ভিত শিক্ষা দফতর থেকে পরীক্ষক সকলেই। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এ (Madhyamik Exam 2026) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence বা AI) -এর সাহায্যে টুকলির চেষ্টার অভিযোগে তিন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। মোবাইল ফোন লুকিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে প্রশ্নপত্র স্ক্যান করে এআই অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহ, এমন ঘটনাই সামনে এসেছে বলে পর্ষদ সূত্রে খবর।

মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Secondary Education)-এর নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও নজরদারির ফাঁক গলে তিনটি পৃথক কেন্দ্রে তিন পরীক্ষার্থী মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করে। পরে পরীক্ষকদের তৎপরতায় ধরা পড়ে যায় গোটা ঘটনা। নিয়ম মেনে তাঁদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসি (Galsi) এলাকার একটি ঘটনায় একজন পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনে স্ক্যান করে একটি এআই-ভিত্তিক অ্যাপের সাহায্যে সম্ভাব্য উত্তর সংগ্রহ করছিল। পরে সেই উত্তর খাতায় লেখার সময় পরীক্ষকের নজরে বিষয়টি আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী গলসির সাঁকো সিএস স্কুল (Sanko C.S. School) -এর পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে এবং তিনি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন গলসির কালীমতি দেবী স্কুলে (Kalimati Devi School)। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে উচালন হাইস্কুলে (Uchalan High School)। সেখানে সেহারাবাজার সি কে স্কুলের (Seharabazar C.K. School) একজন পরীক্ষার্থী মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। আরও একটি ঘটনা সামনে আসে কাটোয়া দুর্গাদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়ে (Katwa Durgadasi Chaudhurani Girls’ School)। সেখানে কাটোয়া কে ডি ইনস্টিটিউটের (Katwa K.D. Institute) একজন পরীক্ষার্থী মোবাইলসহ আটক হয়।

পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ব্যবহার করে এআই অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে পর্ষদ। মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনার অমিত কুমার ঘোষ (Amit Kumar Ghosh) বলেন, ‘মধ্যশিক্ষা পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রবেশের আগে তল্লাশি চালানো হয়। তবুও কিছু ক্ষেত্রে নজরদারির ফাঁক গলে মোবাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘যে সমস্ত পরীক্ষার্থী নিয়ম ভেঙেছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্ষদের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল করা ছাড়া অন্য কোনও পথ ছিল না।’

শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, তেমনই পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। আগে টোকাটুকি মানে ছিল চিরকুট, বই বা বেআইনি নোট। এখন তার জায়গা নিয়েছে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং এআই-ভিত্তিক অ্যাপ। এক পরীক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে উত্তর পাওয়া যাচ্ছে, এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। আমরা খাতা দেখছিলাম, আচমকাই লক্ষ্য করি পরীক্ষার্থী বারবার নিচের দিকে তাকাচ্ছে। পরে মোবাইল উদ্ধার হতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।’

ঘটনার পর থেকেই শিক্ষা দফতরে আলোচনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন কি না। অনেকেই মনে করছেন, শুধু তল্লাশি নয়, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের কথাও ভাবা উচিত। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রযুক্তি শিক্ষার সহায়ক হলেও তা যেন অসৎ পথে ব্যবহার না হয়। একজন অভিভাবক বলেন, ‘এআই শেখা খারাপ নয়, কিন্তু পরীক্ষায় প্রতারণা করার জন্য ব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।’ শিক্ষাবিদদের মতে, এই ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা। স্কুল স্তর থেকেই ডিজিটাল নৈতিকতা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো প্রয়োজন। শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা এমনিতেই নানা কারণে চর্চায়। তার মধ্যে এআই ব্যবহার করে টুকলির ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলিতে নজরদারি আরও কড়া করা হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে যে, প্রযুক্তির এই যুগে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে কী নতুন কৌশল নেবে শিক্ষা পর্ষদ? আপাতত তিন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত তাঁদের শিক্ষাজীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত শিক্ষা মহলের বড় অংশের। মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, এআই (Artificial Intelligence) যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনই অসতর্ক ব্যবহারে তা বিপদের কারণও হতে পারে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কী পদক্ষেপ নেয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Secondary Education)।

 

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi Parliament Speech | অনুপ্রবেশ থেকে নীতি রাজনীতি, রাজ্যসভায় এক নিশ্বাসে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে আক্রমণ নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন