সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★সাশ্রয় নিউজ, আহমেদাবাদ : আহমেদাবাদের গ্যালারি তখন দাঁড়িয়ে। নিশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে হাজারো দর্শক। এক ম্যাচে দু’দুবার জয়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হারতে হল আফগানিস্তানকে। জোড়া সুপার ওভারের নাটকীয়তায় দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) কাছে পরাস্ত হল তারা। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নায়ক হয়েও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না কেকেআরের প্রাক্তন তারকা রহমানুল্লা গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz)।
উল্লেখ্য, প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮৭ রান। জবাবে আফগানিস্তানও ১৮৭ রানে অল আউট হয়ে যায়। সেখান থেকেই শুরু নাটকের দ্বিতীয় অধ্যায়, সুপার ওভার। সেটিও টাই! ফলে ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শুরুটা ভাল হয়নি অধিনায়ক এডেন মার্করাম (Aiden Markram) -এর। তিনি মাত্র ৫ রান করেই ফিরে যান। কিন্তু কুইন্টন ডি’কক (Quinton de Kock) ও রায়ান রিকেলটন (Ryan Rickelton) মিলে ১১৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের রাশ টেনে নেন। ডি’কক করেন ৫৯ এবং রিকেলটন ৬১ রান। আফগান বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে একসময় মনে হচ্ছিল ২২০-র গণ্ডি পেরিয়ে যাবে প্রোটিয়ারা। কিন্তু ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন রশিদ খান (Rashid Khan)। এক ওভারেই ডি’কক ও রিকেলটনকে ফিরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের গতি থামিয়ে দেন তিনি। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (Dewald Brevis) ২৩ ও ডেভিড মিলার (David Miller) ২০ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ট্রিস্টান স্টাবস (Tristan Stubbs) মাত্র ১ রানে আউট হন। ফলে ১৮৭ রানে আটকে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস।
১৮৮ রানের লক্ষ্যে নামা আফগানিস্তানের শুরুটা টালমাটাল। একের পর এক উইকেট পড়ছিল। কিন্তু অন্য প্রান্তে আগুন ঝরাচ্ছিলেন রহমানুল্লা গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি চার ও সাতটি ছক্কা মারেন তিনি। পেস-স্পিন নির্বিশেষে আক্রমণ চালান। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রায় একাই। কিন্তু তাঁর আউট হওয়াই যেন আফগানিস্তানের আশা-ভরসায় ধাক্কা দেয়। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। কাগিসো রাবাডা (Kagiso Rabada) -এর প্রথম বলেই নুর আহমেদ (Noor Ahmad) আউট হন। দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্যাপন শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু আম্পায়ারের ইশারায় ধরা পড়ে ‘নো বল’। জীবন পান নুর। পরের বলেই ছক্কা। তারপর আরও নাটক, আবার নো বল। শেষ তিন বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু ফজলহক ফারুকি (Fazalhaq Farooqi) দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তানের হয়ে আজমতুল্লা ওমরজাই (Azmatullah Omarzai) ৬ বলে ১৭ রান তোলেন। জবাবে শেষ বলে ৭ রান দরকার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। ফারুকির বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে সমতা ফেরান স্টাবস। ফলে দ্বিতীয় সুপার ওভারের অবতারণা। দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৪ রান। লক্ষ্য কঠিন। চার বলে দরকার ২৪। গুরবাজ তখনও হাল ছাড়েননি। টানা তিন বলে তিনটি ছক্কা! মুহূর্তে ম্যাচে ফেরে আফগানিস্তান। কিন্তু শেষ বলেই তাঁর বিদায়। জয় হাতছাড়া হয়। গুরবাজের মুখে তখন শুধুই হতাশার ছাপ। এই ম্যাচে কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দুই সুপার ওভারেই বল হাতে দেখা গেল ফারুকি ও ওমরজাইকে। অথচ স্পিন ছিল আফগানিস্তানের প্রধান শক্তি। অধিনায়ক রশিদ খান বা নুরকে বল না দেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও বিতর্ক। ২৪ রানের লক্ষ্যে শুরুতে মহম্মদ নবিকে (Mohammad Nabi) নামানো কী সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? তিনি দু’বল খরচ করে আউট হন। সেই বলগুলো যদি গুরবাজ পেতেন, ফল ভিন্ন হতে পারত বলেই মত ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের।
ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার শিবিরে স্বস্তি। মার্করামদের কাছে এটি শুধু জয় নয়, মানসিক লড়াইয়ে সাফল্য। অন্যদিকে আফগানিস্তানের জন্য এই হার তীব্র আক্ষেপের। বিশেষ করে গুরবাজের অসাধারণ ইনিংস জলে যাওয়ায় হতাশ সমর্থকেরা।ক্রিকেটবিশ্বে এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই ‘সেরা টি-টোয়েন্টি থ্রিলার’ -এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। জোড়া সুপার ওভার, নো বলের নাটক, শেষ বলে ছক্কা- এটি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Uttarer Hawa, Raiganj Literary Festival | রায়গঞ্জে ‘উত্তরের হাওয়া’ লিটিল ম্যাগাজিন মেলা: উত্তরবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা মাতাল তিন দিন




