সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য বড় স্বস্তির খবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চলতি অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষিত নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুবসাথী’ (Banglar Yuvasaathi) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১৫ আগস্ট নয়, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই ভাতা চালু হবে। অর্থাৎ নতুন অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গেই দশম শ্রেণি পাশ করা বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে।উল্লেখ্য, নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটে প্রকল্পের ঘোষণা হলেও কবে থেকে ভাতা মিলবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। সেই অস্পষ্টতা দূর করতেই তিনি এ দিন ঘোষণা করেন, ‘১ এপ্রিল থেকেই যুবসাথী প্রকল্প চালু হচ্ছে। নতুন অর্থবর্ষ ওই দিন থেকেই শুরু হয়, তাই দেরি না করে ওই দিন থেকেই কার্যকর করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় দশম শ্রেণি বা মাধ্যমিক পাশ করা যুবক-যুবতীরাই ভাতা পাবেন। বয়স হতে হবে ন্যূনতম ২১ বছর এবং সর্বাধিক ৪০ বছর। এই বয়সসীমার মধ্যেই শুধুমাত্র বেকার যুবসমাজকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে এই প্রকল্প। একবার এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হলে সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসে মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই কেউ যদি চাকরি পেয়ে যান, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, ‘যত দিন চাকরি পাবেন না, তত দিন ভাতা পাবেন। চাকরি পেয়ে গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না।’ তাঁর কথায়, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল চাকরি না পাওয়া যুবকদের ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা দেওয়া, যাতে তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে সব ধরনের সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এই ভাতা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেলে যুবসাথীর ভাতা মিলবে না। তিনি বলেন, ‘ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী বা স্মার্ট কার্ডের মতো প্রকল্পের সুবিধা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা এই ভাতা পাবেন।’ এর মাধ্যমে প্রকল্পের সুবিধা যাতে একই ব্যক্তির কাছে বারবার না যায়, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছে রাজ্য সরকার।এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যজুড়ে বড় পরিসরে শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ভাতা দিতে গেলে আবেদন জমা নিতে হবে। তাই আমরা কাগজে বিজ্ঞাপন দেব এবং ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯৪টি শিবির করব, একেবারে দুয়ারে সরকারের মতো।’ এই শিবিরগুলিতে একাধিক দফতরের প্রতিনিধিরা থাকবেন বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শিবিরে তিনটি বিভাগ থাকবে। যুবসাথী প্রকল্পের জন্য থাকবে যুব ও ক্রীড়া দফতর (Youth & Sports Department)। পাশাপাশি ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে দু’বার ২০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রকল্পে কৃষি দফতর (Agriculture Department) যুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও মাইনর ইরিগেশন (Minor Irrigation Department) এবং বিদ্যুৎ দফতর (Power Department) -এর প্রতিনিধিরাও থাকবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, এই শিবিরগুলি চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিনে শিবির বন্ধ থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিবিরের দিনক্ষণ ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে কেউ তথ্যের অভাবে বঞ্চিত না হন। আবেদন পদ্ধতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁরা আবেদন জমা দেবেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে রসিদ পাবেন। আবেদনপত্র ডিজিটাইজ় করা হবে ঠিকই, কিন্তু অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে না। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সময় খুব কম। অনলাইনে আবেদন নিলে কে পাঠাল, কে পাঠাল না, তা রিভিউ করতে সময় লাগবে। তাতে অনেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আমরা তা চাই না। তাই সবাই কষ্ট করে এসে দরখাস্ত জমা দেবেন।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ রাজ্যের সব প্রকল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস সরকারের কাছে রয়েছে। সেই তথ্য মিলিয়েই আবেদন যাচাই করা হবে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে সব তালিকা আছে। কাউকে বঞ্চিত করব না, আবার নিয়মের বাইরে কাউকে সুবিধাও দেওয়া হবে না।’
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী রমজান এবং হোলির শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে সব উৎসব পালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প প্রসঙ্গেও কথা বলেন। জানান, বাজেটের কারণে কিছুটা দেরি হলেও এপ্রিল থেকেই নিয়মিত টাকা দেওয়া শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্ট বলা হয়েছিল, কিন্তু এপ্রিলে অর্থবর্ষ শুরু হয়। তাই ওই দিন থেকেই করছি।’ উল্লেখ্য, ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য একটি বড় আর্থিক ভরসা হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মনে করছেন বড় অংশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly: কোচের ভূমিকায় ‘মহারাজ’! প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে ফাইনালে তুলে সহকারী শন পোলকের প্রশংসায় ভাসলেন সৌরভ




