সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার (Kolkata) জনপ্রিয় একজন নেটপ্রভাবীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরজুড়ে। বান্ধবীকে নিজের বাড়িতে জোর করে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়, মারধর করা হয় এবং ভয় দেখানো হয়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেহালা থানায় (Behala Police Station) এফআইআর রুজু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, অনলাইন জনপ্রিয়তার আড়ালে কতটা নিরাপদ বাস্তব জীবন? পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক বেহালার বাসিন্দা এবং সমাজমাধ্যমে যথেষ্ট জনপ্রিয়। অভিযোগকারী ২২ বছরের তরুণী তাঁর বান্ধবী। দু’জনের পরিচয় বন্ধুত্বের সূত্রেই। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বন্ধুত্বের টানেই ওই তরুণী অভিযুক্ত নেটপ্রভাবীর বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। তরুণীর অভিযোগ, সেদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু করে পরের দিন অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁকে বাড়ির ভিতরেই জোর করে আটকে রাখা হয়।
তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়। পুলিশকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁকে ঘুষি মারা হয়েছে, জোর করে অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয়েছে এবং পোশাক ধরে টানাটানি করা হয়েছে। কোনও একটি বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়, সেই বচসার মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। তরুণীর দাবি, অভিযুক্ত তাঁকে ভয় দেখান এবং বাইরে যেতে বাধা দেন। এই ঘটনার পরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও সাহস করে থানার দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। বুধবার তিনি বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) ১২৭ (২), ১১৫ (২), ৭৪ এবং ৩৫১ (২) ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত নেটপ্রভাবীর ফেসবুক (Facebook) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩২ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। ইনস্টাগ্রামেও (Instagram) তাঁর অনুসারীর সংখ্যা হাজারের বেশি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর অনুগামীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন, সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, অনলাইন পরিচিতির ভিত্তিতে তৈরি সম্পর্ক কতটা নিরাপদ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিল যে, নেটদুনিয়ার পরিচিতি আর বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা এক বিষয় নয়। ডিজিটাল মাধ্যমে যাঁদের আমরা প্রতিদিন দেখি, যাঁদের কথায় প্রভাবিত হই, তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণ সব সময় একই রকম হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি বলেই মত সমাজবিজ্ঞানীদের।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, সমাজমাধ্যমের কথোপকথন এবং ঘটনার সময়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত নেটপ্রভাবীর কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁর আইনজীবীর তরফেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শহরের আইনজীবী মহলের একাংশ বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বেআইনি ভাবে কাউকে আটকে রাখা, শারীরিক নিগ্রহ ও শ্লীলতাহানি, সব ক’টিই গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে পরিচিত মুখ হওয়ায় এই মামলার সামাজিক প্রভাবও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, ঘটনাটি সামনে আসতেই নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতার মতো মহানগরেও যদি পরিচিত বান্ধবীর কাছেই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়, তবে অপরিচিত পরিবেশে বিপদের আশঙ্কা কতটা, সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। একই সঙ্গে এই ঘটনা একটি বার্তা দিচ্ছে, আইনগত পথে এগোনোই শেষ পর্যন্ত ন্যায় পাওয়ার একমাত্র রাস্তা। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে শহরবাসী। সমাজমাধ্যমের ঝলমলে জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা আদালতের প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত কলকাতার নেটদুনিয়ায় এই ঘটনা গভীর আলোড়ন ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Molestation Case, Child Abuse Case West Bengal | গোপনাঙ্গে হাত বুলিয়ে নাবালিকাকে নির্যাতন, অভিযুক্তকে আরামবাগ আদালত শোনাল কড়া সাজা




