সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : অবসর-পরবর্তী জীবনে চিকিৎসা খরচই অনেক সময় হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগব্যাধির আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনই বাড়ে হাসপাতালের বিল। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তির ঘোষণা করল। বৃহস্পতিবার রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে পেনশনভোগী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম’ (West Bengal Health Scheme) -এর আওতায় ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধার ঊর্ধ্বসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ফলে দু’লক্ষ টাকার বেশি চিকিৎসা খরচ হলেও এখন আর অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে না পেনশনভোগীদের। উল্লেখ্য, এত দিন পর্যন্ত রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা সর্বোচ্চ দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পেতেন। এই সীমা অতিক্রম করলেই নিজেদের পকেট থেকে পুরো টাকা মেটাতে হতো। নতুন বাজেট প্রস্তাবে সেই জায়গাতেই বড় বদল আনল নবান্ন। বাজেট নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা খরচ যদি দু’লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরোয়, তবু পেনশনভোগীরা বাকি অংশের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খরচের মাত্র ২৫ শতাংশ নিজেদের দিতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের অবসরজীবনের সুরক্ষার দিক থেকে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় জানান, রাজ্যের পেনশনভোগীদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, ‘চিকিৎসা খরচ আজকাল খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা যাতে চিকিৎসার জন্য আর্থিক চিন্তায় না পড়েন, সেই কারণেই এই সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে রাজ্য সরকার। এই ক্যাশলেস সুবিধা পেতে হলে সরকারি প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। তবে সেই হাসপাতাল সরকারি হতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। রাজ্য সরকারের প্যানেলে থাকা বেসরকারি হাসপাতালেও এই সুবিধা মিলবে। বর্তমানে রাজ্যের ভিতরে এবং রাজ্যের বাইরে মিলিয়ে মোট ১১টি প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম’-এর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করালেও পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন।
শুধু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাই নন, রাজ্যের কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যেরাও এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা পান। এত দিন পর্যন্ত সকলে দু’লক্ষ টাকা করে ক্যাশলেস সুবিধা পেতেন। কিন্তু অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ায় এই নতুন সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, অবসর নেওয়ার পরে পেনশনই মূল ভরসা। সেখানে বড় কোনও অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বহু মানুষ ঋণের বোঝায় জড়িয়ে পড়েন। নতুন এই নিয়ম চালু হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতাও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মত তাঁদের। প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী বাজেটে শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, সামাজিক সুরক্ষার আরও একাধিক ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে মাসিক অনুদান ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ও পুরনো সব উপভোক্তাই এই বর্ধিত অর্থ পাবেন। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে দাবি নবান্নের। এ ছাড়াও, আশাকর্মীদের ভাতা ১০০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মীরা ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাজেটে সেই দাবি মেটানোয় স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের মধ্যেও।
যুব সমাজের জন্যও ঘোষণা রয়েছে। মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে। যদিও এই ডিএ বৃদ্ধি বকেয়া ডিএ মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তবু চলতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একে স্বস্তির পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা খাতে ক্যাশলেস সুবিধা বৃদ্ধি রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত। দু’লক্ষের বেশি খরচ হলেও এখন আর পুরো বিলের বোঝা বইতে হবে না, এই আশ্বাসই বহু পেনশনভোগীর কাছে আগামী দিনের ভরসা হয়ে উঠছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Talent in USA, Elon Musk Immigration Comment | আমেরিকার উন্নয়নে ভারতীয়দের বিশাল অবদান : অভিবাসন নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্য আলোচনায়




