সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বডোদরা : বন্ধুত্ব কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বদলে যায়। মেয়েদের আইপিএলের ফাইনাল ঠিক তেমনই ছবি ভেসে এল। এক দিকে খুব কাছের বন্ধু স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana), অন্য দিকে জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues)। ম্যাচ শেষে হাসি ফুটল মন্ধানার মুখে, আর আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হল জেমাইমার দিল্লি ক্যাপিটালসকে (Delhi Capitals)। ২০৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতে দ্বিতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)। গত মরসুমে পুরুষদের আইপিএলে ট্রফি জিতেছিল বিরাট কোহলি (Virat Kohli) -এর দল। এবার মহিলাদের আইপিএলের ট্রফিও গেল একই ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘরে। এই প্রথম কোনও দল পুরুষ ও মহিলা দু’টি আইপিএল ট্রফির মালিক হল। তবে ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিচারে কোহলিদের থেকেও এক ধাপ এগিয়ে মন্ধানারা। কারণ, বেঙ্গালুরু মহিলা দল ইতিমধ্যেই দু’টি আইপিএল ট্রফি জিতে ফেলেছে।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ২০৩ রান। মহিলাদের আইপিএলের ইতিহাসে ফাইনালে কোনও দলের এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির শুরুটা খুব স্বচ্ছন্দ ছিল না। ওপেনার শেফালি বর্মা (Shafali Verma) ও লিজ়েল লি (Lizelle Lee) পাওয়ার প্লে-তে উইকেট না হারালেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি। শেফালি ১৩ বলে ২০ রান করে আউট হন। লিজ়েল করেন ৩০ বলে ৩৭ রান। ইনিংসে গতি আনেন জেমাইমা রদ্রিগেজ ও লরা উলভার্ট (Laura Wolvaardt)। দু’জনে ফাঁক খুঁজে চার মারতে শুরু করেন। বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন লরেন বেল (Lauren Bell)। তিনি এই ম্যাচে মাত্র ১৯ রান দেন এবং গোটা টুর্নামেন্টে তাঁর করা ১২৮টি ডট বল নতুন রেকর্ড গড়ে। জেমাইমা ৩৭ বলে ৫৭ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে দিল্লি বড় স্কোরের ভিত গড়ে ফেলেছে। পাঁচ নম্বরে মারিজান কাপ (Marizanne Kapp) -এর বদলে শিনেল হেনরিকে (Shinelle Henry) নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। এই কৌশল কাজে লাগে। ডেথ ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিং করে হেনরি ১৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন উলভার্ট, তিনি ২৫ বলে ৪৪ রান করেন। শেষ পর্যন্ত দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ২০৩/৪।
বডোদরার মাঠে এই টুর্নামেন্টে ১৬০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল মাত্র একবার। তাই ফাইনালে ২০৪ রানের লক্ষ্য দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, বেঙ্গালুরুর কাজটা সহজ হবে না। সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফর্মে থাকা গ্রেস হ্যারিস (Grace Harris) আউট হওয়ায়। কিন্তু চাপকে পাত্তা দেননি স্মৃতি মন্ধানা ও জর্জিয়া ভল (Georgia Voll)। দু’জনে পাওয়ার প্লে-র পুরো সুবিধা নেন। শুরুতে ভলের স্ট্রাইক রেট বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে নেন মন্ধানা। দিল্লির ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ভুল হতে থাকে। ক্যাচ পড়ে যায়, বোলারেরা লাইন-লেংথ হারান। অভিজ্ঞ স্নেহ রানা (Sneh Rana) ও শ্রী চরণির (Sri Charani) মতো বোলারদের কাছ থেকেও সহজ রান বেরিয়ে আসে। প্রথমে অর্ধশতরান করেন ভল। টুর্নামেন্টের শুরুতে সুযোগ না পেলেও একাদশে জায়গা পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না মন্ধানাও। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। প্রতি ওভারে ১০-এর বেশি রান উঠতে থাকে। দিল্লির বোলারেরা কোনও ভাবেই এই জুটি ভাঙতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে ওঠে, যা এই মরসুমের সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্ব।
এই আইপিএলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে ৯৬ রান করেছিলেন মন্ধানা। অর্থাৎ, দিল্লির বিরুদ্ধে বড় রান করার অভ্যাস তাঁর আগেই ছিল। ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হল না। চলতি টুর্নামেন্টে হরমনপ্রীত কৌরকে (Harmanpreet Kaur) টপকে কমলা টুপিও তিনি জিতে নেন। শেষ দিকে কিছুটা নাটক তৈরি করে দিল্লি। মিন্নু মণি (Minnu Mani) ভলকে আউট করে জুটি ভাঙেন। ভল ৫৪ বলে ৭৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দ্রুত ম্যাচ শেষ করার জন্য রিচা ঘোষ (Richa Ghosh) নামানো হলেও তিনি ৬ রান করে আউট হন। শেষ ১২ বলে ১৮ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। সেই সময় আউট হন মন্ধানাও। তাঁর সংগ্রহ ৪১ বলে ৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে। দিল্লি তখন অল্প হলেও রোশনাই দেখতে শুরু করেছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় রাধা যাদব (Radha Yadav) -এর সহজ ক্যাচ ফেলেন মিন্নু। সেই ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়। পর পর দু’টি চার মেরে দু’বল বাকি থাকতেই রাধা বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে দেন।
এই জয়ের গুরুত্ব মন্ধানার কাছে শুধু ট্রফির নয়, ব্যক্তিগত লড়াইয়েরও। কয়েক মাস আগে একদিনের বিশ্বকাপে ভারতের জয়ে বড় ভূমিকা নেওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় এসেছিল। সেই সব আলোচনাকে পিছনে ফেলে তিনি ক্রিকেটেই জবাব দিলেন। বোঝালেন, মাঠে নামলে তিনি কেবল একজন ব্যাটার নন, তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Chota Chiku fan, Kohli | মাঠে ‘ছোটা চিকু’ দেখে থমকে গেলেন বিরাট! রোহিতকে ডেকে নিজের শৈশব দেখালেন কোহলি, উচ্ছ্বসিত আট বছরের গর্বিত




