সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সাফল্যের দাবি করল কেন্দ্র। ভারত-আমেরিকা (India-US) বাণিজ্য চুক্তিকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জানালেন, এই চুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক পাবেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সাংসদের দাবি, মোদী জোর দিয়ে বলেছেন যে তাঁর সরকার সবসময়ই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তা সে বাণিজ্য চুক্তি হোক বা বাজেট।

এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি একটি বড় সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দেশের শিল্প, ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের উপকার হবে।’ বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের মতে, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই এই ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে। এই বৈঠকে এনডিএ জোটের শরিক দলগুলির সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য। তাঁদের মতে, এই চুক্তিগুলি ভারতীয় উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে এই বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
সূত্রের খবর, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সম্মত হয়েছে। আগে যেখানে মোট ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছিল, সেখানে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং আমেরিকার বাজারে ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গোটা দেশেই একটা ইতিবাচক উত্তেজনা রয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এখনও পর্যন্ত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৩৯টি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার অধিকাংশই উন্নত দেশ। কিরেন রিজিজুর কথায়, ‘এটা ঐতিহাসিক। এই ধরনের সাফল্যের ফলে দেশের ভেতরে এক ভাল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
https://www.facebook.com/100044527235621/posts/1697296981764527/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v
এনডিএ শরিক শিবসেনার সাংসদ মিলিন্দ দেওড়া (Milind Deora) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সমস্ত সাংসদদের বোঝান যে সরকার সবসময় ভারতের স্বার্থে কাজ করে, তা সে বাণিজ্য চুক্তি হোক বা বাজেট।’ তাঁর দাবি, ভারত-আমেরিকা এবং ভারত-ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তির কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর। ‘এই চুক্তিগুলি হয়েছে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের কারণেই। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন,’ বলেন দেওড়া। শিবসেনার আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং এনডিএ -এর শরিক শ্রীকান্ত শিন্ডে (Shrikant Shinde) জানান, বৈঠকে এনডিএ নেতারা প্রধানমন্ত্রী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর যে বড় অগ্রগতি হয়েছে, তা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এই আলোচনার ফলেই মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা হয়েছে, যা দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারতের জন্য লাভজনক। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে নানা টানাপোড়েন চলছে, তখন ভারতের পক্ষে এই ধরনের অনুকূল চুক্তি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও গতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি সহায়ক হবে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কমার ফলে ভারতীয় কৃষিজ পণ্য, ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা ক্ষেত্র আমেরিকার বাজারে আরও সহজে প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, এনডিএ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও ভারত বিশ্ব বাণিজ্যে নিজের অংশীদারিত্ব বাড়াতে এই ধরনের চুক্তির পথে এগোবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জাতীয় স্বার্থই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’ ওয়াকিবহাল মহলের মত, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের শাসক জোটের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস এবং উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা জোরদার। এই চুক্তি বাস্তবে কতটা সুফল আনে, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Sheikh Mohammed bin Zayed meeting | ভারত-আমিরশাহি বন্ধুত্বে নতুন গতি, দিল্লি বিমানবন্দরে UAE প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




