Mamata Banerjee on Election Commission | জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের ইঙ্গিত, দিল্লী থেকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) চালু হওয়ার পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক ইস্যুতে কাঠগড়ায় তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কখনও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, কখনও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা, ক্রমশই সংঘাতের সুর তীব্র হচ্ছে। সেই আবহেই এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ইমপিচমেন্ট’ -এর সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন মমতা। দিল্লীতে বসেই তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার নতুন দিল্লীর বঙ্গ ভবনে এসআইআর -এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা পরিবারগুলিকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাশে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দ্রুতই চলে আসে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আচরণ।

দিল্লীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘যদি কোনও বিষয় সত্যিই জনস্বার্থে হয় এবং তা বাস্তবসম্মত হয়, তবে আমরা চাইব মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।

আরও পড়ুন :Rohit Sharma IPL captain, Rohit Sharma team change | মুম্বাইয়ের ক্যাপ্টেন এখন KKR এ হিটম্যান

কিন্তু ইমপিচমেন্টের জন্য সংবিধানে ধারা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতেই পারে। অন্তত রেকর্ডে তো বিষয়টা থাকবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সাংবিধানিক প্রশ্নের দিকেও তা গড়াচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর ঠিক এক দিন আগেই নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমন আচরণ করা হয়েছে যেন উনি জমিদার আর আমরা চাকর। আমাদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে।’ সেই বৈঠক বয়কট করেই বেরিয়ে আসেন তিনি। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ইমপিচমেন্টের প্রসঙ্গ তোলায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে আরও একটি প্রসঙ্গ উঠে আসে। কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সম্প্রতি দাবি করেছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভবিষ্যতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হতে পারে। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মমতার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘যদি কোনও আইন মানুষের স্বার্থে হয় এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তবে তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিরোধী শিবির এককাট্টা হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পথে লড়াইয়ে নামার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ নতুন নয়। দলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় ভোটার তালিকায় ইচ্ছাকৃত ভাবে গরমিল করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও একাধিকবার বলেছেন, ‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না, ভোটার তালিকায় কারচুপি হলে ছেড়ে কথা বলব না।’ দিল্লিতে বসে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর এই ধারাবাহিক আক্রমণ সেই লড়াইয়েরই পরবর্তী ধাপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

কিন্তু, ইমপিচমেন্টের প্রশ্নটি বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিরোধীদের পক্ষে সেই সংখ্যা জোগাড় করা কঠিন। তবুও মমতার বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আলাদা। অনেকের মতে, তিনি মূলত নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে এবং বিষয়টিকে জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে আনতেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দিল্লীতে বসে এই মন্তব্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও আপস তিনি করবেন না। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে কমিশনের অন্দরে যে এই মন্তব্য স্বস্তির সঙ্গে দেখা হচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু, এসআইআর বিতর্ক থেকে শুরু করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের ইঙ্গিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Election Commission SIR | কালো পোশাক, ক্ষোভ আর বৈঠক বয়কট : ভোটার তালিকা বিতর্কে দিল্লীতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন