Banita Sandhu workout, celebrity fitness | রোগা বলেও কটাক্ষ! শরীরচর্চা ও দেশবদল নিয়ে অকপট বনিতা সন্ধু

SHARE:

ইংল্যান্ড থেকে ভারতে এসে শরীরচর্চার অভ্যাস বদল, কার্ডিয়ো থেকে ভারোত্তোলন, ফিটনেস ও সমাজের দৃষ্টি নিয়ে মুখ খুললেন বনিতা সন্ধু।

প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : সমাজের চোখে ‘সুন্দর’ হয়ে ওঠা যে কতটা কঠিন, তা বারবার প্রমাণ করেছেন বলিউডের অভিনেত্রীরা। কখনও ‘মোটা’ তকমা, কখনও আবার ‘অতিরিক্ত রোগা’ এই দুই চরমের মাঝখানেই যেন দাঁড়িয়ে তারকাদের শরীর নিয়ে চর্চা। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন মডেল-অভিনেত্রী বনিতা সন্ধু (Banita Sandhu)। ইংল্যান্ডে বড় হওয়া বনিতার কাছে হাঁটা, দৌড়নো ছিল দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ভারতে এসে বসবাস শুরু করার পর তিনি শরীরচর্চার ধরন বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস যাত্রা, মানসিক চাপ এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অকপট কথা বলেছেন বনিতা।

ইংল্যান্ড থেকে ভারতে এসে শরীরচর্চার অভ্যাস বদল, কার্ডিয়ো থেকে ভারোত্তোলন, ফিটনেস ও সমাজের দৃষ্টি নিয়ে মুখ খুললেন বনিতা সন্ধু।
বনিতা সন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Nepotism Ad | ‘সোনার চামচ মুখে নিয়েই জন্ম!’ নেপোটিজম বিতর্ককে বিদ্রুপ করে ভাইরাল সোনাক্ষী সিনহা, বলিউডে নতুন আলোচনার ঝড়

বিদ্যা বালন (Vidya Balan) যেখানে ‘মোটা’ বলে বারবার সমালোচিত হয়েছেন, সেখানে বনিতার দিকে আঙুল উঠেছে তাঁর ‘রোগা’ শরীর নিয়ে। অভিনেত্রীর মতে, সমাজে নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতা এখনও ভয়ানক রকম সক্রিয়। খুব অল্প বয়সেই তিনি এই চাপ অনুভব করেছিলেন। সেই কারণেই কৈশোর পেরোতেই শরীরচর্চাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নেন বনিতা। তবে তখনকার শরীরচর্চা আর আজকের শরীরচর্চার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেই বনিতা মনে করেন।বনিতা জানান, কম বয়সে তাঁর ফিটনেস মানে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্ডিয়ো। দিনে ৫ হাজার পা হাঁটা, দৌড়নো, স্টেপ মেশিনে সময় কাটানো, ঘাম ঝরানোই ছিল মূল লক্ষ্য। তখন শরীরচর্চা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছিল না। কী করলে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি উপকার হবে, তা বোঝার বয়সও হয়নি। অভিনেত্রীর কথায়, তখন তিনি যা মনে করতেন, সেটাই করতেন। শরীরের প্রয়োজন, পেশির যত্ন বা শক্তিবৃদ্ধি, এসব নিয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তা ছিল না।

এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তাঁর বাবা। বহু বছর ধরেই তিনি বনিতাকে বলতেন, শুধু কার্ডিয়ো নয়, শক্তিবৃদ্ধির ব্যায়ামও সমান জরুরি। কিন্তু যৌবনের শুরুতে সেই উপদেশ কানে তোলেননি অভিনেত্রী। কুড়ির কোঠার শুরুর দিক পর্যন্ত নিয়মিত কার্ডিয়োতেই ডুবে ছিলেন তিনি। তবে বয়স ত্রিশের কাছাকাছি আসতেই উপলব্ধি বদলাতে শুরু করে। এখন বাবার কথার গুরুত্ব বুঝতে পারছেন বনিতা। বর্তমানে তাঁর ফিটনেস রুটিনে বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে ভারোত্তোলন এবং শক্তিবৃদ্ধির অনুশীলন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই ধরনের ব্যায়াম করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। যদিও নিজেই স্বীকার করেছেন, এই ব্যায়ামের ধরন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এখনও সীমিত। তাই প্রশিক্ষক ছাড়া কখনওই ভারোত্তোলন করেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ওজন কী ভাবে তুলতে হয়, কোন পেশির উপর কতটা চাপ দেওয়া উচিত, এসব না জেনে করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।’ এই সতর্কতাই আজকের বনিতাকে আগের বনিতার থেকে আলাদা করেছে।

আরও পড়ুন : Aamir Khan Relationship, Marriage Breakup Reasons | পর পর দু’টি বিচ্ছেদের পর আত্মসমালোচনায় আমির খান: কাজপাগল মানসিকতা ও নিঃসঙ্গতার অভ্যাস কি দাম্পত্যের শত্রু?

শুধু জিম বা ওজন তোলা নয়, যোগাসনেও সমানভাবে বিশ্বাসী বনিতা। সপ্তাহে চার দিন শক্তিবৃদ্ধির অনুশীলন করলে অন্তত দু’দিন যোগাসন করতেই হয় তাঁর। মানসিক স্থিরতা, শরীরের নমনীয়তা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে যোগাসনের গুরুত্ব অপরিসীম বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ফিটনেস মানে শুধুই বাহ্যিক গড়ন নয়, বরং ভিতর থেকে সুস্থ থাকা। হাঁটা বা দৌড়নো থেকে খানিকটা দূরে সরে আসার পিছনেও রয়েছে একটি বাস্তব কারণ, দেশবদল। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন রাস্তায় দৌড়নো বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ছিল তাঁর প্রিয় অভ্যাস। সেখানে পরিকাঠামো এবং পরিবেশ দুটোই ছিল এই ধরনের শরীরচর্চার জন্য উপযোগী। কিন্তু ভারতে এসে সেই অভ্যাস বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিনেত্রীর মতে, এ দেশের রাস্তা দৌড়নোর জন্য ততটা নিরাপদ বা আরামদায়ক নয়। সেই কারণেই জিমই এখন তাঁর শরীরচর্চার প্রধান জায়গা।তবে পুরোপুরি যে হাঁটা বা দৌড়নো ছেড়ে দিয়েছেন, তা নয়। সুযোগ পেলে মুম্বইয়ে (Mumbai) বাড়ির কাছের পার্কে গিয়ে সেই শখ পূরণ করেন বনিতা। যদিও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বন্ধু বা ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়েই বেরতে হয় তাঁকে। এই বাস্তবতাও ভারতীয় শহুরে জীবনের এক অন্য দিক তুলে ধরে বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু, বনিতা সন্ধুর ফিটনেস যাত্রা শুধু শরীরচর্চার গল্প নয়, বরং সমাজের দৃষ্টি, মানসিক চাপ এবং নিজের শরীরকে নতুন করে বুঝে নেওয়ার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ‘মোটা’ বা ‘রোগা’ এই দুই শব্দের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের সুস্থতাকেই তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর সেই বার্তাই তাঁর অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yami Gautam motherhood experience | মা হওয়ার পর কাজে ফেরার কঠিন সিদ্ধান্ত, অনুতাপ আর অপরাধবোধের লড়াই : নিজের অভিজ্ঞতায় মাতৃত্বের বাস্তব ছবি তুলে ধরলেন ইয়ামি গৌতম

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন