শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : গত ২৪ ঘণ্টায় সঙ্গীতপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম অরিজিৎ সিংহ (Arijit Singh)। বলিউডের বড়পর্দায় আর প্লেব্যাক গাইবেন না, গায়কের এমন ঘোষণায় সমাজমাধ্যমে আবেগের ঢেউ উঠেছে। কেউ বিস্মিত, কেউ মনখারাপের কথা বলছেন, আবার কেউ শিল্পীর স্বাধীন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এই আবহেই অরিজিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন দেশের আরও এক জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal)। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, কোনও শিল্পীকে গণ্ডিতে বাঁধা যায় না, বরং পরিবর্তনের পথেই শিল্পীর প্রকৃত বিকাশ।
অরিজিৎ ও শ্রেয়া দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অন্যতম ভরসার নাম। একসঙ্গে বহু স্মরণীয় গানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন তাঁরা। তাই অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তে শ্রেয়ার প্রতিক্রিয়া আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় শ্রেয়া লেখেন, ‘এটা একটা নতুন শুরু, অরিজিৎ। তোমাকে নতুন ভাবে দেখার জন্য আমি সত্যিই উত্তেজিত। কখনও বলব না, এটা কোনও অধ্যায়ের শেষ। এই মাপের একজন শিল্পীকে কখনও কোনও গণ্ডিতে বাঁধা উচিত নয়। প্রিয় অরিজিৎ, এটাই সময় আরও গর্জে ওঠার।’ শ্রেয়ার এই বক্তব্যে যেমন সহমর্মিতা রয়েছে, তেমনই আছে শিল্পীর স্বাধীনতার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন। অন্যদিকে, অরিজিতের ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন সিদ্ধান্ত? নিজেই নিজের এক্স হ্যান্ডলে (X handle) সে কথা স্পষ্ট করেছেন গায়ক। অরিজিৎ লিখেছেন, ‘এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম। অবশেষে সাহস জোগাড় করতে পেরে ঘোষণা করলাম।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সৃজনশীল ক্লান্তির প্রসঙ্গ। গায়ক জানিয়েছেন, ‘আমি খুব সহজেই একঘেয়েমিতে ভুগি। সেই কারণেই আমার গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট প্রায়ই বদলে বদলে মঞ্চে পারফর্ম করি। কিন্তু দীর্ঘদিন একই কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এখন নতুন ধরনের সঙ্গীতের খোঁজে নামছি।’ অরিজিৎ-এর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, প্লেব্যাক গান থেকে সরে আসা মানে গান থেকে বিদায় নয়। তবে নতুন সুর, নতুন আঙ্গিক এবং ভিন্ন অভিব্যক্তির সন্ধানেই এই সিদ্ধান্ত। সঙ্গীত মহলের একাংশের মতে, বড়পর্দার গানের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে, চিত্রনাট্য, পরিস্থিতি, পরিচালকের চাহিদা। সেই গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এসে স্বাধীন ভাবে সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করার তাগিদই হয়তো অরিজিতকে এই পথে হাঁটতে অনুপ্রাণিত করেছে।

শ্রেয়া ঘোষালের মন্তব্য এই জায়গাতেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শিল্পীর পরিচয় কোনও একটি ফরম্যাটে সীমাবদ্ধ হতে পারে না। শ্রেয়ার কথায়, একজন শিল্পী কখনও শুধু ‘প্লেব্যাক সিঙ্গার’ বা ‘স্টেজ পারফর্মার’ নন, তিনি সর্বাগ্রে একজন স্রষ্টা। সেই স্রষ্টার স্বাধীনতাই তাঁর শক্তি। অরিজিতের ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতার প্রকাশ হয়তো এখন অন্য পথে। সমাজমাধ্যমে অবশ্য ভক্তদের আবেগ মিশ্র প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। কেউ লিখছেন, ‘বড়পর্দায় অরিজিতের কণ্ঠ ছাড়া সিনেমা কল্পনাই করা যায় না।’ আবার কেউ বলছেন, ‘যদি নতুন সঙ্গীত আসে, তা হলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত।’ অনেকেই শ্রেয়ার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলছেন, শিল্পীকে তাঁর মতো করে পথ বেছে নিতে দেওয়াই প্রকৃত শ্রদ্ধা। সঙ্গীত ও শিল্পমহলের মতে, এটি ভারতীয় সঙ্গীত জগতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কারণ, এত বড় মাপের একজন শিল্পী যখন প্রকাশ্যে বলেন যে তিনি একঘেয়েমি কাটাতে নতুন পথ খুঁজছেন, তখন তা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও বার্তা পৌঁছে দেয়। সাফল্যের শিখরে থেকেও যে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটাই এই সিদ্ধান্তের মূল শিক্ষা।
অরিজিতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্য তিনি এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। প্লেব্যাক থেকে সরে এলেও কি স্বাধীন অ্যালবাম, লাইভ প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক সঙ্গীতে তাঁকে বেশি দেখা যাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত অধরাই। তবে তাঁর ঘোষণায় এটুকু স্পষ্ট, সঙ্গীত তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে, শুধু প্রকাশের মাধ্যম বদলাতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অরিজিৎ সিংহের এই সিদ্ধান্ত এবং শ্রেয়া ঘোষালের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে একটি বড় বার্তা উঠে আসছে, শিল্পের পথে কোনও স্থির গণ্ডি নেই। আজ যে সিদ্ধান্ত চমক লাগাচ্ছে, কাল সেটাই হয়ত নতুন ধারার জন্ম দেবে। আর সেই নতুন ধারার অপেক্ষায় রইলেন অগণিত সঙ্গীতপ্রেমী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Arijit Singh directorial debut, Nawazuddin Siddiqui Arijit Singh film | অরিজিৎ সিংয়ের ছবিতে নওয়াজউদ্দিন ও পঙ্কজ, শান্তিনিকেতনে জমজমাট শুটিংয়ের প্রস্তুতি




