Dev SIR hearing | ভোটের আগে কমিশনের দরজায় দেব, অভিজ্ঞতার আড়ালে প্রবীণ ভোটারদের পক্ষে করজোড়ে বার্তা সাংসদ-অভিনেতার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : তিনবারের সাংসদ, জনপ্রিয় অভিনেতা দেব (Dev) ওরফে দীপক অধিকারী (Deepak Adhikari)। রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন জগতেও যাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। সেই দেবই বুধবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নোটিসে হাজিরা দিয়ে শুনানির অভিজ্ঞতা জানালেন প্রকাশ্যে। শুনানি শেষে তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল হালকা রসিকতা, তেমনই ছিল গভীর উদ্বেগ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে। বুধবার যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে শুনানিতে হাজিরা দিতে যান ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ। সকাল থেকেই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দেব। ছবি : সংগৃহীত

কারণ, দেবের নামে নির্বাচন কমিশনের নোটিস আসার পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শাসকদলের তরফে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, দেব নিজে শুনানি শেষে একেবারেই আলাদা সুরে কথা বলেন।

আরও পড়ুন : SIR Hearing, Fake Voters India | এসআইআরের শুনানিতে ভুয়ো ভোটারের খোঁজ, চূড়ান্ত তালিকা থেকে আপাতত বাদ ১১ হাজারের বেশি নাম

হাসিমুখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব প্রথমেই বলেন, ‘ভোট আসছে। রাজ্যের নাম যেন খারাপ না হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি জানান, শুনানিতে তাঁর কোনও ভোগান্তি হয়নি। বরং অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। দেবের কথায়, ‘আমি নিয়ম মেনেই ফর্ম পূরণ করেছিলাম। তার পর শুনানিতে ডাকা হয়েছে শুনে আইন মেনে হাজিরা দিয়েছি। কী কী নথি লাগবে, আগে থেকেই খোঁজ নিয়ে গিয়েছিলাম।’ শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে দেব জানান, প্রামাণ্য নথি হিসাবে তিনি পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কোনও রকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ভিতরে অনেক ছবি তুললাম, অনেককে অটোগ্রাফ দিলাম, কিছু কাগজে সই করলাম। এই ছিল পুরো অভিজ্ঞতা।’ দেবের এই মন্তব্যে যেমন হালকা হাসির রেশ ছিল, তেমনই ছিল বিষয়টির স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা। তবে নিজের অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তিনি কথা বলেন সাধারণ ভোটারদের সমস্যা নিয়ে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কথা উঠে আসে বারবার। দেব বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। কমিশনের ভুল, না আমার ভুল, সেটা বলার জায়গায় আমি নেই। কিন্তু আমি ২০১১ সাল থেকে ভোট দিচ্ছি। সেগুলো কি ভুল ভোট ছিল? এত বছর পরে হঠাৎ করে এই বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা কেন?’ তাঁর প্রশ্ন, যদি এসআইআর হওয়াই দরকার ছিল, তা হলে এক বছর আগে বা অনেক আগেই কেন শুরু হল না?

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঠাণ্ডার মধ্যে কত মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে! অনেক প্রবীণ নাগরিক আছেন, যাঁদের আধ ঘণ্টা দাঁড়ানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। তাঁদের কথা কি কেউ ভাবছে?’ নির্বাচন কমিশনের কাছে করজোড়ে আবেদন জানিয়ে দেব বলেন, ‘আমাদের দল জিতুক বা অন্য দল জিতুক, কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার যেন কমিশনের চক্করে পড়ে না যায়।’ দেবের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, তিনি একদিকে যেমন শাসকদলের সাংসদ, অন্যদিকে তেমনই নিজেকে কোনও রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে নাগরিক সমস্যার দিকেই আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘রাজনীতি চলতেই থাকবে। এক দলে থাকলে অন্য দল হ্যারাস করবে, আর ও দলে থাকলে এ দল করবে, এটাই বাস্তব। কিন্তু ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

উল্লেখ্য, দেবের জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে (Ghatal)। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকতেন। পরে অভিনয়ের সূত্রে তিনি আবার বাংলায় ফেরেন এবং কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ টানা তিনবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছেন তিনি। তাই তাঁর নামে এসআইআর নোটিস আসা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে।শাসকদলের তরফে এই নোটিসকে ‘হয়রানি’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে দেব নিজে সেই পথে হাঁটেননি। বরং শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, ‘ভোট আসছে। এই সময়ে আমাদের কথাবার্তা যেন রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট না করে।’ তিনি নেতাদের বাক্‌সংযমের বার্তাও দেন। দেবের শুনানিতে হাজিরা দেওয়া শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, তা হয়ে উঠেছে ভোটারদের অধিকার, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অভিনেতা-সাংসদের এই অবস্থান রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে নাগরিক স্বার্থের প্রশ্নকে সামনে আনছে, এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

 

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Badalta Bharat Mera Anubhav Winners | ‘বদলতা ভারত, মেরা অনুভব’-এ সৃজনশীলতার ধ্বনি: নতুন ভারতের গল্প বললেন দেশের নাগরিকরা, বিজয়ীদের ঘোষণা কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন