প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : দক্ষিণী চলচ্চিত্র দুনিয়ায় অল্প বয়সেই যাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে, তিনি শ্রীলীলা (Sreeleela)। অল্লু অর্জুন (Allu Arjun) -এর সঙ্গে ‘কিসিক’ গানে তাঁর ঝলক পুরুষ অনুরাগীদের হৃদয়ে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল। বয়স মাত্র ২৪ হলেও অভিনয়জীবনে সাফল্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু আলোঝলমলে পর্দার বাইরেও একেবারে অন্য শ্রীলীলার খোঁজ মিলেছে, যিনি ২১ বছর বয়সেই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অবিবাহিত হয়েও তিন কন্যাসন্তানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ দিন ধরে সেই সত্য আড়ালে রাখার কারণও সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন। গত বছর নিজের জন্মদিনে আচমকাই অনুরাগীদের সামনে শ্রীলীলা প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন তাঁর তিন কন্যাসন্তানের সঙ্গে। এত দিন ধরে ব্যক্তিগত এই অধ্যায় গোপন রাখায় বিস্মিত হয়েছিল তাঁর ভক্তমহল। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন এত বড় বিষয় প্রকাশ্যে আনেননি তিনি? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই সেই নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

শ্রীলীলার জীবনের এই অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল ২০১৯ সালে। তখন তিনি নিজের প্রথম ছবি ‘কিস্’ (Kiss) -এর কাজ শুরু করেছেন। সেই সময় একটি অনাথ আশ্রমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দেয় তাঁর ভাবনাচিন্তা। সেখানেই গুরু (Guru) এবং শোভিতা (Shovita) নামে দুই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অভিনেত্রীর কথায়, প্রথম দেখাতেই তাঁদের প্রতি গভীর মায়া জন্মে যায়। তাঁর মনে হয়, এই দুই শিশুকে যদি একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ দেওয়া যায়, তা হলে তাঁদের জীবন অনেকটাই বদলে যেতে পারে।
এই ভাবনাই তাঁকে বিয়ের আগেই মাতৃত্বের পথে নিয়ে যায়। শ্রীলীলা সিদ্ধান্ত নেন, গুরু ও শোভিতাকে দত্তক নেবেন। বয়স তখন মাত্র ২১। সমাজের প্রচলিত ধারণা, প্রশ্ন কিংবা কটাক্ষের কথা ভেবেও তিনি পিছিয়ে যাননি। নিজের মন যা বলেছে, সেটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অভিনেত্রীর মতে, মাতৃত্ব মানে শুধু জন্ম দেওয়া নয়, বরং যত্ন, দায়িত্ব আর নিঃস্বার্থ ভালবাসা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে তাঁর পরিবার আরও বড় হয়। শ্রীলীলা আরও এক কন্যাসন্তানকে দত্তক নেন। তিন কন্যাসন্তানের মা হলেও তিনি নিজেকে প্রচারের আলোয় আনতে চাননি। তাই বহু দিন ধরে সন্তানদের কথা তিনি প্রকাশ্যে আনেননি। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর বক্তব্য, ‘আমি ওদের সঙ্গে থাকি না, কিন্তু ওদের অসম্ভব ভাল করে যত্ন নেওয়া হয়। প্রথমে আমি কাউকে জানাইনি। পরে অবশ্য যে আশ্রম থেকে ওদের দত্তক নিয়েছিলাম, তাঁরাই অনুরোধ করেন। আমার এমন উদ্যোগের কথা অন্যরা জানলে হয়তো আরও মানুষ অনুপ্রাণিত হতে পারেন।’
শ্রীলীলার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তাঁর পারিবারিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) বাসিন্দা এবং তাঁর মা স্বর্ণলতা (Swarnalatha) একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ।

ছোটবেলা থেকেই মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও দায়িত্ব নিয়ে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন শ্রীলীলা। শোনা যায়, শিল্পপতি শুভকর রাও সুরপানেনি-এর (Shubhakara Rao Surapaneni) সঙ্গে মায়ের বিচ্ছেদের পরে তাঁর জন্ম। যদিও পরবর্তীতে শ্রীলীলা ও ওই শিল্পপতি দু’জনেই তাঁদের মধ্যে কোনও পারিবারিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখার পর শ্রীলীলার নামের সঙ্গে নানা গুঞ্জন জড়ালেও তিনি বরাবরই নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট থাকতে পছন্দ করেন। মাতৃত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে তিনি ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন।

তাঁর মতে, সন্তানেরা যেন অপ্রয়োজনীয় চর্চা বা মিডিয়ার চাপে না পড়ে, সেটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে শ্রীলীলা দক্ষিণী ছবির ব্যস্ত অভিনেত্রী। একের পর এক বড় প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি। তবু তিন কন্যাসন্তানের দায়িত্ব থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেননি। যদিও তিনি সন্তানদের সঙ্গে একই ছাদের নীচে থাকেন না, তবু তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। আশ্রমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিশ্চিত করেন, যেন কোনও অভাব না থাকে। শ্রীলীলার এই সিদ্ধান্ত সমাজে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

অবিবাহিত হয়েও দত্তক নিয়ে মাতৃত্ব গ্রহণ, এই বিষয়টি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর বার্তা স্পষ্ট, মাতৃত্ব বা অভিভাবকত্বের সংজ্ঞা শুধুই সামাজিক নিয়মে বাঁধা নয়, বরং তা মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, পরিচিতি, সাফল্য ও জনপ্রিয়তার মাঝেও শ্রীলীলার এই নীরব মানবিক যাত্রা তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছে। পুষ্পাখ্যাত (Pushpa) এই অভিনেত্রী শুধু পর্দার তারকা নন, বাস্তব জীবনেও তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্তের উদাহরণ। আলো-ঝলমলের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনটি শিশুর জীবনে নতুন আলো জ্বালানোর এই গল্প নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Priyanka Chopra Nick Jonas, Indian kadha benefits : নিক জোনাসকে ‘অর্ধেক ভারতীয়’ বানালেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সেলেব দাম্পত্যের গল্পে ঘরোয়া কাড়া থেকে উৎসবের রঙ




