সোমনাথ আচার্য ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : নিজেকে ভালবাসা কি সত্যিই সহজ? মনোবিদদের মতে, সুস্থ আত্মসম্মান আর আত্মগরিমার মধ্যে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম। নিজের প্রতি যত্ন আর ভালোবাসা যেখানে মানসিক স্থিতি এনে দেয়, সেখানে অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতা সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, কিছু রাশির মানুষের মধ্যে এই আত্মকেন্দ্রিক প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এঁরা নিজের ভুল দেখতে পান না, বরং আত্মগরিমায় এতটাই নিমগ্ন থাকেন যে নিজেরাই নিজেদের কাছে ঈশ্বরসম হয়ে ওঠেন। নিজের সিদ্ধান্ত, মতামত বা আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন এঁরা অনুভব করেন না। ফলে আশপাশের মানুষের অনুভূতি বা মতামত প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। জ্যোতিষ মতে, এমন পাঁচটি রাশি রয়েছে যাঁদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
মেষ রাশির (Aries) জাতক-জাতিকারা স্বভাবতই আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী। ছোট বয়স থেকেই লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে চলার প্রবণতা তাঁদের মধ্যে প্রবল। একবার কোনও উদ্দেশ্য স্থির করলে তা পূরণ করার পথে তাঁরা বাধা মানতে চান না। এই জেদ এবং দৃঢ়তা তাঁদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গেলেও, অনেক সময় তা আত্মকেন্দ্রিকতায় রূপ নেয়। মেষ রাশির মানুষ নিজেদের লক্ষ্য এবং চাওয়াকেই জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। লক্ষ্যপূরণের পথে অন্য কেউ কষ্ট পেলেও তাতে বিশেষ বিচলিত হন না। নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার বদলে তাঁরা মনে করেন, তাঁদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এই মানসিকতার ফলে পারিবারিক বা পেশাগত সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিথুন রাশির (Gemini) জাতক-জাতিকারা কৌতূহলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে পরিচিত। নতুন মানুষ, নতুন ধারণা এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি তাঁদের আগ্রহ সীমাহীন। তবে এই জ্ঞানপিপাসা অনেক সময় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয়। নিজের বুদ্ধি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার উপর এতটাই ভরসা করেন যে অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চান না। মিথুন রাশির মানুষেরা অনেক সময় মনে করেন, তাঁরা যেটা ভাবছেন সেটাই একমাত্র সঠিক, বাকিরা সবাই ভুল পথে হাঁটছেন। এই মানসিকতা তাঁদের কথাবার্তায় এবং আচরণে প্রকাশ পায়, যা আশপাশের মানুষের কাছে অহংকার হিসেবে ধরা পড়ে।
সিংহ রাশির (Leo) জাতক-জাতিকারা প্রশংসা ভালোবাসেন, বরং বলা যায় প্রশংসাই তাঁদের শক্তির উৎস। অন্যের চোখে নিজেকে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতে পারলে তাঁরা তৃপ্তি পান। সিংহ রাশির মানুষেরা মনে করেন, তাঁরাই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রক এবং সিদ্ধান্তগ্রহণকারী। যাঁরা তাঁদের গুণগান করেন বা সমর্থন জানান, তাঁদের প্রতিই সিংহের মন নরম থাকে। কিন্তু যাঁরা সমালোচনা করেন বা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাঁদের থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। অন্যের আবেগ বা অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা কম হওয়ায় সিংহ রাশির মানুষেরা অনেক সময় আত্মকেন্দ্রিক বলে চিহ্নিত হন।বৃশ্চিক রাশির (Scorpio) জাতক-জাতিকাদের আত্মকেন্দ্রিকতা প্রথম দেখায় বোঝা যায় না। বাইরে থেকে তাঁরা গম্ভীর এবং সংযত মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে নিজেদের আবেগকে রক্ষা করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। বৃশ্চিক রাশির মানুষেরা সহজে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। কোনও ঘটনায় আঘাত পেলে বা কষ্ট পেলে, তার দায়ভার অনেক সময় অন্যের উপর চাপিয়ে দেন। নিজের আচরণ বা সিদ্ধান্তের ভুল দিকগুলো খতিয়ে দেখার মানসিকতা তাঁদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি এবং দূরত্ব তৈরি হতে পারে। মকর রাশির (Capricorn) জাতক-জাতিকারা শৃঙ্খলা এবং নিয়মের মধ্যে জীবন কাটাতে ভালোবাসেন। কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্যপূরণের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা প্রশ্নাতীত। কিন্তু এই লক্ষ্যনিষ্ঠতাই অনেক সময় তাঁদের মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মকর রাশির মানুষেরা আবেগের চেয়ে বাস্তবতা ও সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনে পুরনো সম্পর্ক ভাঙতেও তাঁরা পিছপা হন না। নিজের কাজ, পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েই তাঁরা এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে অন্যের অনুভূতির দিকে নজর দেওয়ার সময় পান না। এই স্বভাব তাঁদের আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই পাঁচ রাশির মানুষের মধ্যে আত্মগরিমা ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রবণতা বেশি হলেও, তা যে অপরিবর্তনীয় এমন নয়। সচেতনতা, আত্মবিশ্লেষণ এবং অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তুললে এই প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নিজের ভুল স্বীকার করাই যে ব্যক্তিগত উন্নতির প্রথম ধাপ, তা বুঝতে পারলেই জীবনে আসতে পারে ভারসাম্য ও শান্তি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Astrological Benefits of Chandan | চন্দনের আশ্চর্য প্রভাব: ভাগ্য ফেরাতে পারে এই ছয় টোটকা, জানুন কীভাবে করবেন




