IIMC PhD Programme in Media and Communication | প্রথমবার পিএইচডি কোর্স চালু করল আইআইএমসি, মিডিয়া গবেষণায় খুলল দরজা

SHARE:

আইআইএমসি পিএইচডি কোর্স, IIMC PhD Programme in Media and Communication,

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের গণমাধ্যম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হল। ভারতীয় জনসংযোগ ও গণযোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ভারতীয় জনসঞ্চার প্রতিষ্ঠান, আইআইএমসি (Indian Institute of Mass Communication- IIMC) তাদের ৬০ বছরের শিক্ষাযাত্রায় প্রথমবারের মতো পিএইচডি পাঠ্যক্রম চালু করল। ১ জানুয়ারি ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডক্টরাল প্রোগ্রামের সূচনা হয়েছে, যা সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ ও ডিজিটাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন : India Jordan Relations, Amman Meeting | আম্মানে ঐতিহাসিক বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ -এর আলোচনায় ভারত-জর্ডন সম্পর্ক নতুন গতি

আইআইএমসি (IIMC), বর্তমানে ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই পিএইচডি কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পূর্ণকালীন ও অর্ধকালীন, দুই ধরনের গবেষকের জন্যই অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর স্তরে শিক্ষা দিয়ে আসা আইআইএমসি-র জন্য এই পিএইচডি কোর্স চালু হওয়া নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউজিসি-নেট (UGC-NET) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। অন্যদিকে, ইউজিসি-নেট ছাড়া আবেদনকারী অর্ধকালীন প্রার্থীদের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এরপর ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং গোটা ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ মার্চ ২০২৬। কোর্সওয়ার্ক শুরু হবে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে।

আরও পড়ুন : Sonakshi-Zahir’s Luxurious Dream Home Unveiled | বসার ঘরে বাইক, বারান্দায় ডিম্বাকৃতি গর্ত: সোনাক্ষী-জ়াহিরের চোখধাঁধানো স্বপ্নমহল

পিএইচডি ভর্তি পোর্টালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইআইএমসি-এর উপাচার্য ড. প্রজ্ঞা পালিওয়াল গৌড় (Dr. Pragya Paliwal Gaur) বলেন, ‘এই পিএইচডি পাঠ্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য উদীয়মান ভারতের জন্য গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব ও অর্থবহ অবদান রাখা’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন গবেষণাকে উৎসাহ দিতে চাই, যা চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উপযোগী হয়ে উঠবে’। তাঁর মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া পরিবেশে গভীর ও মৌলিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
উল্লেখ্য, এই নতুন অধ্যায়ের সূচনায় আইআইএমসি-র নতুন দিল্লি ক্যাম্পাসে ‘জ্ঞান বৃক্ষ’ হিসেবে একটি কোবিদার (Kovidaar) গাছ রোপণ করেন উপাচার্য ড. প্রজ্ঞা পালিওয়াল গৌড় (Dr. Pragya Paliwal Gaur)। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মতে, এই গাছ শুধু পরিবেশ জ্ঞানের বিস্তার ও শিকড় গড়ে ওঠার চিহ্ন হিসেবেও বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma social media post, Charaideo educational institute | স্বর্গদেউ চাওলুং চ্যু-কা-ফাকে সম্মান জানিয়ে আসামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস

আইআইএমসি-এর পিএইচডি প্রোগ্রামটির রূপরেখা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একটি শক্তিশালী একাডেমিক পরিবেশ গড়ে ওঠে এবং আন্তঃবিভাগীয় গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়া যায়। সাংবাদিকতা ও যোগাযোগবিদ্যার পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিই এই কোর্সের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চই ভবিষ্যতের মিডিয়া স্টাডিজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আরও পড়ুন : Idli Sambar Recipe | ইডলি ও সাম্বার রেসিপি | ঘরোয়া পদ্ধতিতে দক্ষিণ ভারতীয় প্রাতঃরাশ
এই ডক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় গবেষকরা সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ, ডিজিটাল মিডিয়া, স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন (Strategic Communication), মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট, চলচ্চিত্র অধ্যয়ন, রাজনৈতিক যোগাযোগ, উন্নয়ন যোগাযোগ, বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগের মতো বিষয়ে গভীর গবেষণার সুযোগ পাবেন। আইআইএমসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমসাময়িক ভারত ও বিশ্বে মিডিয়ার ভূমিকা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে এই গবেষণাগুলি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

দীর্ঘ ছয় দশক ধরে আইআইএমসি সাংবাদিকতা শিক্ষায় যে ভূমিকা পালন করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই পিএইচডি কোর্স চালু হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের বহু বিশিষ্ট সাংবাদিক, মিডিয়া পেশাদার ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এই প্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষা লাভ করেছেন। এবার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে উচ্চতর গবেষণার নতুন অধ্যায়। শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, এই উদ্যোগ ভারতের মিডিয়া গবেষণাকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। আইআইএমসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পিএইচডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে শুধু একাডেমিক জ্ঞান উৎপাদনই নয়, বরং নীতিনির্ধারণ, মিডিয়া শিল্প এবং সমাজের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাও লক্ষ্য। গবেষণালব্ধ ফলাফল যাতে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগে, সেই দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আইআইএমসি-তে পিএইচডি কোর্সের সূচনা ভারতের গণমাধ্যম শিক্ষায় এক নতুন পথ সূচনা করল। ৬০ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান যে গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতের মিডিয়া চর্চাকে নতুন পথ দেখাতে প্রস্তুত, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Live Times Xchange Ignites Transformative Dialogue on Mission Delhi @2047: Reimagining India’s Capital Future

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন