সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রাঁচি : ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) গ্রামীণ উন্নয়নের ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা আর গ্রামের মানুষের পরিশ্রম মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে টেকসই জীবিকার নতুন পথ। ঝাড়খণ্ড সরকার (Jharkhand Government) -এর উদ্যোগে চালু হওয়া ‘বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা’ (Birsa Harit Gram Yojana) গ্রামের মানুষের আয়ের প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে। এই যোজনার অধীনে গোশালায় (Gaushala) উৎপাদিত ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost) এখন গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে দিচ্ছে।রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গবাদি পশুপালন দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আগে গোশালায় উৎপন্ন গোবরের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় তা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু বিরসা হরিত গ্রাম যোজনার আওতায় সেই গোবরই এখন পরিণত হচ্ছে জৈব সারে। বিশেষ পদ্ধতিতে কেঁচো ব্যবহার করে তৈরি করা এই ভার্মিকম্পোস্ট জমির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়। ফলে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে গ্রামে তৈরি হচ্ছে নতুন আয়ের সুযোগ।

রাজ্য সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার গ্রামীণ পরিবার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গোশালাগুলিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে শেখানো হচ্ছে কীভাবে অল্প খরচে উন্নত মানের ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা যায়। এই সার স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি আশপাশের জেলাতেও বিক্রি করা হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে সমবায় গঠন করে বাজারজাতকরণের কাজও করছেন গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীদের মতে, এই প্রকল্প তাঁদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে। আগে যাঁরা দিনমজুরি বা অনিশ্চিত আয়ের উপর নির্ভর করতেন, তাঁরা এখন নিয়মিত আয় পাচ্ছেন। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আগে গোশালার গোবর শুধু ফেলে রাখা হত। এখন সেই গোবর থেকেই প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় হচ্ছে।’ এই আয় দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায়ও বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।
বিরসা হরিত গ্রাম যোজনার আরেকটি বড় দিক হল পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসার। জৈব চাষের দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকছেন ঝাড়খণ্ডের কৃষকেরা। ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে এবং ফসলের ফলন স্থিতিশীল থাকছে। কৃষিবিদদের মতে, রাসায়নিক সারের তুলনায় এই জৈব সার মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, যা ভবিষ্যতের কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকেও (Self Help Group) এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বহু মহিলা এখন গোশালাভিত্তিক ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা বাড়ছে। সামাজিক দিক থেকেও এই প্রকল্প গ্রামে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, কর্মসংস্থান বাড়লে গ্রাম থেকে শহরে কাজের খোঁজে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও কমবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েক হাজার মেট্রিক টন ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদিত হয়েছে। এর একটি বড় অংশ স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বাকিটা বাজারে বিক্রি করে রাজস্ব অর্জন করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, আগামী দিনে এই প্রকল্পের আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, গোশালাভিত্তিক এই উদ্যোগ ‘স্বনির্ভর ভারত’ (Self Reliant India) ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। একদিকে যেমন গ্রামীণ মানুষের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নের পথেও হাঁটছে রাজ্য। জৈব সার ব্যবহারের ফলে মাটির দূষণ কমছে, জলধারণ ক্ষমতা বাড়ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা এখন ঝাড়খণ্ডের গ্রামগুলিতে আশার আলো দেখাচ্ছে। গোশালার গোবর থেকে তৈরি হওয়া ভার্মিকম্পোস্ট শুধু সার নয়, তা এখন গ্রামীণ আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত। সরকারি উদ্যোগ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারা, এই তিনের মিলনেই ঝাড়খণ্ডে গড়ে উঠছে উন্নয়নের নতুন মডেল, যা ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Father kills daughter in Bankura | পারিবারিক বিবাদে ভয়াবহ পরিণতি: বাবার হাতে প্রাণ গেল বিবাহবিচ্ছিন্না তরুণীর, কুয়ো থেকে মিলল দেহ




