Chhattisgarh Free Coaching Scheme | নির্মাণশ্রমিকদের সন্তানদের ছত্তিশগড় সরকারের বিনামূল্যের কোচিং প্রকল্প, ভরসা পাচ্ছে হাজারো পড়ুয়া

SHARE:

ছত্রিশগড় ফ্রী কোচিং স্কিম

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রায়পুর : ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) রাজ্যে নির্মাণশ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল রাজ্য সরকার। ‘মুখ্যমন্ত্রী বিনামূল্য কোচিং সহায়তা প্রকল্প’ রাজ্যের সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে যোগ্য পড়ুয়াদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সুগম করা হচ্ছে। প্রশাসনিক পরিষেবা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং, রেল, পুলিশ সহ নানা স্তরের পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোচিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত নির্মাণশ্রমিকদের সন্তানরা।

আরও পড়ুন : Baramulla Landslide | ভূমিধসে স্তব্ধ কাশ্মীরের জাতীয় সড়ক, বারামুল্লায় আটকে শত শত যানবাহন, দুর্ভোগে যাত্রীরা

এপ্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় সিভিল সার্ভিস, রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), ব্যাঙ্ক, রেলওয়ে এবং পুলিশ সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গঠনমূলক পাঠক্রম চালু করা হয়েছে। পড়ুয়াদের সুবিধার্থে অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল নির্মাণশ্রমিক পরিবারের সন্তানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং তাঁদের প্রতিভাকে সঠিক পথ দেখানো। দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অভাবের কারণে বহু মেধাবী পড়ুয়া উচ্চস্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। সেই বাস্তব পরিস্থিতিকে বদলাতেই রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পিত পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, অভিজ্ঞ মেন্টর এবং পরীক্ষাভিত্তিক পাঠক্রমের মাধ্যমে পড়ুয়াদের প্রস্তুতি আরও মজবুত করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত গোটা ছত্তিশগড় জুড়ে এই প্রকল্পে ১০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন। শুধু রাজ্যের রাজধানী রায়পুর (Raipur) শহরেই এই সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রশাসনের মতে, আগামী দিনে এই সংখ্যাটি আরও বাড়বে। কারণ, প্রকল্পটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি পরিবার তাঁদের সন্তানদের এই সুযোগের আওতায় আনতে আগ্রহী হচ্ছেন। এই বিনামূল্যের কোচিং ব্যবস্থায় শুধুমাত্র পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়নি। পড়ুয়াদের মানসিক প্রস্তুতি, পরীক্ষাভীতি কাটানো, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক কৌশল নির্ধারণের দিকেও বিশেষ লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ মেন্টররা নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই সফল প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চাই নির্মাণশ্রমিক পরিবারের সন্তানরাও যেন সমান সুযোগ পায়। অর্থের অভাবে যাতে কারও স্বপ্ন থেমে না যায়।’ তাঁদের দাবি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও যুব ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষায় বিনিয়োগ যে কতটা জরুরি, এই উদ্যোগ তারই বাস্তব উদাহরণ।
উল্লেখ্য যে, অনলাইন কোচিংয়ের সুবিধার ফলে পড়ুয়ারা বাড়িতে বসেই ক্লাস করতে পারছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিও লেকচার, নোটস, মক টেস্ট এবং নিয়মিত মূল্যায়নের সুযোগ থাকায় প্রস্তুতির মান আরও উন্নত হচ্ছে। আবার যাঁরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়তে স্বচ্ছন্দ, তাঁদের জন্য অফলাইন কোচিং সেন্টারও চালু রয়েছে। এই দ্বৈত ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির পড়ুয়ারা সমানভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

শিক্ষা সচেতকদের একাংশের মতে, এই প্রকল্প রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে উঠে আসা পরীক্ষার্থীরা প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছালে সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলি আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। এতে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে বলে তাঁদের মত। ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, আগে অর্থের অভাবে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পেতেন না। এখন বিনামূল্যের কোচিং, গাইডেন্স ও নিয়মিত সহায়তা পেয়ে তাঁরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন। কেউ প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দিতে চান, কেউ আবার ব্যাঙ্ক বা রেলে চাকরির স্বপ্ন দেখছেন। এই প্রকল্প সেই স্বপ্নগুলিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ছত্তিশগড় সরকারের এই বিনামূল্যের কোচিং সহায়তা প্রকল্প সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। নির্মাণশ্রমিকদের সন্তানদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে এই প্রকল্প আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ছবি : প্রতীকী

আরও পড়ুন : Female associate professor of medical college physically assaulted : চলন্ত ট্রেনে অধ্যাপিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন