প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই ব্যাটসম্যানদের দাপট, চার-ছয়ের বৃষ্টি আর রানের পাহাড়। কিন্তু সেই ছোট ফরম্যাটেই এ বার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইতিহাস লিখে ফেললেন এক তরুণ স্পিনার। ভুটানের (Bhutan) ২২ বছরের বাঁ-হাতি স্পিনার সোনম ইয়েশে (Sonam Yeshey) এমন বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, যা এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেউ দেখাতে পারেননি। মাত্র চার ওভারে ১ মেডেন-সহ ৭ রান খরচ করে তুলে নিলেন ৮ উইকেট। এই অসাধারণ স্পেলেই তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন।
মায়ানমারের (Myanmar) বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই অসাধারণ বোলিং করেন সোনম ইয়েশে। ভুটানের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মায়ানমার দল মাত্র ৯.২ ওভারে ৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৮২ রানে ম্যাচ জেতে ভুটান। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন একাই সোনম। তাঁর বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা। অন্যদিকে, ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে তাকালে বোঝা যায়, সোনমের এই কীর্তি কতটা ব্যতিক্রমী। এত দিন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বাধিক ৭ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল। বহুবার সেই রেকর্ড দেখা গেলেও, ৮ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। সোনম ইয়েশে ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুলে নিয়ে সেই পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ১.৮০, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো আক্রমণাত্মক ফরম্যাটে অবিশ্বাস্য বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহল।
এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন সোনম। বল হাতে বৈচিত্র্য, নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং ব্যাটসম্যানদের মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতাই তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বাঁ-হাতি স্পিনে কখনও ফ্লাইট, কখনও গতি কমিয়ে ব্যাটসম্যানদের ভুল করাতে বাধ্য করেন তিনি। ফলস্বরূপ একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মায়ানমারের ব্যাটিং লাইন-আপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জন্ম সোনমের। ভুটান ক্রিকেটের যুব ব্যবস্থারই তৈরি এই প্রতিভা। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ (Under-19) পর্যায়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ছোট বয়স থেকেই বাঁ-হাতি স্পিন বোলিংয়ে তিনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। ব্যাট করেন ডান হাতে, যদিও তাঁর মূল পরিচয় একজন বোলার হিসেবেই। চলতি বছরের শুরুতেই ভুটানের সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পান সোনম। দলে পা রাখার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে যে পরিবর্তন এসেছে, তা চোখে পড়ার মতো।
মায়ানমারের বিরুদ্ধে চলতি পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সোনম ইয়েশে ইতিমধ্যেই ১২টি উইকেট নিয়েছেন। যদিও ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি, কিন্তু বল হাতে তাঁর ধারাবাহিকতা ভুটান দলকে আলাদা শক্তি জুগিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে সোনম ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নজর কাড়তে পারেন।
এর আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৭ উইকেট নেওয়ার একাধিক রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার (Malaysia) সিয়াজরুল ইদ্রাস (Syazrul Idrus) চিনের (China) বিরুদ্ধে ৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। একই ভাবে বাহারিনের (Bahrain) আলি দাউদ (Ali Dawood) চলতি বছর ভুটানের বিরুদ্ধে ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু এই সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেলেন সোনম ইয়েশে। ৭ উইকেটের গণ্ডি পেরিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে তিনি একাই নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন। ভুটানের মতো ছোট ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের জন্য এই রেকর্ড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও, ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে ভুটান। সোনম ইয়েশের এই পারফরম্যান্স সেই পথচলাকে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বে এখন তাঁর নাম ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষভাবে মনে রাখা উচিৎ যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ম্যাচ চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যাটসম্যানদের দাপটের ফরম্যাটে যে একজন বোলারও একাই ম্যাচের নিয়তি বদলে দিতে পারেন, সোনম ইয়েশে তা আবার প্রমাণ করলেন। ভবিষ্যতে এই তরুণ স্পিনারের দিকে যে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :T20 World Cup, Shubman Gill dropped | বিশ্বকাপের দলে কেন নেই শুভমন গিল? আগরকর-সূর্যের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট টিম ইন্ডিয়ার নতুন ভাবনা



