প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ভারতীয় দাবার ইতিহাসে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত হল কাতারের দোহা (Doha, Qatar) থেকে। ফিডে বিশ্ব র্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের (FIDE World Rapid Chess Championship) ওপেন বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশকে গর্বিত করলেন তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসি (Arjun Erigaisi)। তাঁর এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে অর্জুনের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা এই সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ‘Proud of Arjun Erigaisi for winning the Bronze medal in the open section at the FIDE World Rapid Chess Championship in Doha. His grit is noteworthy. Wishing him the very best for his future endeavours.’ প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং ক্রীড়াপ্রেমী থেকে শুরু করে দাবা মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অর্জুনের সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।
উল্লেখ্য যে, দাবা এমন এক খেলা, যেখানে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণ করে। র্যাপিড দাবার মতো ফরম্যাটে সেই চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। সীমিত সময়ে প্রতিটি চাল দিতে হয়, যেখানে সামান্য ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের সঙ্গে লড়াই করে ব্রোঞ্জ পদক জয় নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ কৃতিত্ব। অন্যদিকে, অর্জুন এরিগাইসি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক দাবার মানচিত্রে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে আসছেন। অল্প বয়সেই গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার পর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়ে। দোহায় আয়োজিত এই বিশ্ব র্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অথচ সংযত কৌশলে খেলতে দেখা যায় তাঁকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাসী চালই শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদকের মঞ্চে পৌঁছে দেয়। ভারতীয় দাবার প্রেক্ষাপটে এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি। এক সময় বিশ্ব দাবার মঞ্চে ভারতের নাম উচ্চারণ মানেই ছিল বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand)। আজ সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন নতুন প্রজন্মের দাবাড়ুরা। অর্জুন এরিগাইসি সেই নতুন প্রজন্মের অন্যতম মুখ। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, ভারতীয় দাবা এখন শুধু একটি কিংবদন্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং একটি শক্তিশালী ধারাবাহিকতার দিকে এগোচ্ছে।
দোহায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বহু নামী দাবাড়ু অংশ নিয়েছিলেন। ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার শীর্ষ গ্র্যান্ডমাস্টারদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করে পদক জয় সহজ কাজ নয়। অর্জুন প্রতিটি ম্যাচে নিজের প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হল চাপের মুখেও নিজের পরিকল্পনায় স্থির থাকা। র্যাপিড দাবায় যেখানে সময়ই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ, সেখানে এই গুণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রতি অভিনন্দনই নয়, তা দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য এক বড় উৎসাহ। নরেন্দ্র মোদীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিটি ক্রীড়াবিদের সাফল্য সরকার ও দেশের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবাসহ অন্যান্য মেধাভিত্তিক খেলায় তরুণদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
ভারতে দাবার জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উত্থান এই খেলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। অর্জুন এরিগাইসি-র ব্রোঞ্জ পদক সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে অর্জুনের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ক্লাসিক্যাল, র্যাপিড ও ব্লিটজ, তিন ফরম্যাটেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য তাঁর। দোহায় পাওয়া এই সাফল্য তাঁকে নিঃসন্দেহে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছেন, তাঁর ভবিষ্যৎ যাত্রার জন্য দেশবাসী সেরা শুভকামনাই জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ফিডে বিশ্ব র্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে অর্জুন এরিগাইসি-এর ব্রোঞ্জ পদক জয় ভারতীয় দাবার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সাফল্য প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের দাবাড়ুরা শুধু অংশগ্রহণকারীই নন, তাঁরা শিরোপা অর্জনেরও দাবিদার। আর সেই পথচলায় তরুণ অর্জুন আজ নিঃসন্দেহে দেশকে নতুন আশা জাগাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi unclaimed assets | ৭৮ হাজার কোটি টাকা দাবিদারহীন! জনতার হাতেই টাকা ফেরানোকে বড় উদ্যোগে পরিণত করল কেন্দ্র, সরাসরি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর



