Aravalli Hills, Supreme Court | আরাবল্লি পাহাড়ের সংজ্ঞা নিয়ে স্থগিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পথে শীর্ষ আদালত

SHARE:

আরাবল্লি পাহাড় ও রেঞ্জের অভিন্ন সংজ্ঞা সংক্রান্ত ২০ নভেম্বরের নির্দেশ স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আরাবল্লি পাহাড় (Aravalli Hills) ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য এলাকার সংজ্ঞা নির্ধারণ ঘিরে নতুন মোড় নিল আইনি লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর তাদের গত ২০ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই নির্দেশে আরাবল্লি পাহাড় ও রেঞ্জের একটি অভিন্ন সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ, নগরায়ণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত বহু জটিল প্রশ্ন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন : Bhawanipur SIR voter list | ভবানীপুরে ৪৫ হাজার ভোটার নাম ছাঁটাইয়ের ধাক্কা! এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে মমতা

এদিন মামলার শুনানি হয় একটি ভ্যাকেশন বেঞ্চে। বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant) এবং বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী (Justice J K Maheshwari) ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ (Justice Augustine George Masih)। আদালত জানায়, আরাবল্লি পাহাড়ের সংজ্ঞা কোনও সরল বা একমাত্রিক বিষয় নয়। ভূতাত্ত্বিক গঠন, পরিবেশগত গুরুত্ব, ঐতিহাসিক বিস্তার এবং বর্তমান ভূমি ব্যবহারের মতো একাধিক দিক এতে জড়িত। তাই এই বিষয়ে আরও গভীর ও সর্বাঙ্গীণ পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।এই প্রেক্ষাপটেই সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি (High-Powered Committee) গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আদালতের মতে, এই কমিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ডোমেন এক্সপার্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে আরাবল্লি পাহাড় ও রেঞ্জ সংক্রান্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ পেশ করা যায়। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই কমিটির কাজ হবে শুধুমাত্র আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপায় খোঁজা।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বরের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি অভিন্ন সংজ্ঞা গ্রহণ করেছিল, যার ফলে হরিয়ানা (Haryana), রাজস্থান (Rajasthan) এবং দিল্লি এনসিআর (Delhi NCR) অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্মাণ ও খনন কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই রায়ের পর বিভিন্ন রাজ্য সরকার, রিয়েল এস্টেট সংস্থা এবং শিল্প মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাঁদের দাবি ছিল, একটি কঠোর ও বিস্তৃত সংজ্ঞা কার্যকর হলে বহু বৈধ প্রকল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধার মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা ওই রায়কে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, আরাবল্লি পাহাড় উত্তর ভারতের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পাহাড়ি অঞ্চল মরুকরণ রোধ, ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ এবং দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এর সংজ্ঞা শিথিল করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আপাতত সেই বিতর্ক কিছুটা থমকে গেল। আদালত জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ২০ নভেম্বরের নির্দেশ কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ, আরাবল্লি পাহাড়ের অভিন্ন সংজ্ঞা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে আদালত একই সঙ্গে এও স্পষ্ট করেছে, এর অর্থ এই নয় যে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। বরং আরও তথ্যভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথেই এগোতে চায় আদালত।

আইনজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ। একদিকে যেমন হঠাৎ করে বড় আইনি পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব হল, অন্যদিকে পরিবেশগত প্রশ্নগুলিও গুরুত্ব হারাল না। বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান বের করার সুযোগ তৈরি হল।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরাবল্লি পাহাড় কোনও একক রাজ্যের বিষয় নয়। এটি একটি বিস্তৃত ভৌগোলিক ও পরিবেশগত অঞ্চল, যার প্রভাব বহু রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই কেন্দ্র, রাজ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন। আদালতের মতে, কমিটির সুপারিশ ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কমিটির গঠন, সদস্য নির্বাচন এবং কাজের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ আসতে পারে বলে জানা যায়। ততদিন পর্যন্ত আরাবল্লি পাহাড়ের সংজ্ঞা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকলেও, আদালতের এই উদ্যোগকে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আরাবল্লি পাহাড় ও রেঞ্জের সংজ্ঞা নির্ধারণ শুধু আইনি প্রশ্নই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই জটিল বাস্তবতাকেই স্বীকার করে নিয়ে আরও গভীর ও সর্বাঙ্গীণ সমাধানের পথ খুলে দিল।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aravalli Hills environmental crisis | আরাবল্লী ধ্বংস হলে কি দিল্লি মরুভূমি হবে? পরিবেশ সংকটে প্রাচীন পাহাড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন