home loan rules India, SARFAESI Act limit | ২০ লক্ষের কম গৃহঋণে বাড়ি কেড়ে নেওয়া বেআইনি, বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের, সরফেসি আইনে লাগাম আর্থিক সংস্থার ক্ষমতায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : গৃহঋণ গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ২০ লক্ষ টাকার কম গৃহঋণ হলে তা আদায়ের জন্য কোনও আর্থিক সংস্থা বা হাউসিং ফিনান্স কোম্পানি (Housing Finance Company) জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। এমন ঋণের ক্ষেত্রে সরফেসি আইন (SARFAESI Act) প্রয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। ঋণের টাকা আদায় করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়মমাফিক দেওয়ানি আদালতে মামলা করেই এগোতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ রায় এসেছে একটি নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে হলেও এর প্রভাব পড়বে রাজ্য তথা দেশের অসংখ্য গৃহঋণ গ্রাহকের উপর। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘২০ লক্ষ টাকার কম গৃহঋণের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই সরফেসির মতো কঠোর আইন প্রয়োগ করা যায় না। সম্পত্তি নিলামে তোলা বা জোর করে দখল নেওয়া আইনসম্মত নয়।’

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। গোলাম সাবির (Golam Sabir) নামে এক ব্যক্তি একটি হাউসিং ফিনান্স কোম্পানি থেকে গৃহঋণ হিসেবে ১৩ লক্ষ টাকা নেন। ঋণ নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও পরে আর্থিক সমস্যার কারণে কিস্তি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এর পরেই ঋণদাতা সংস্থা সরফেসি আইন প্রয়োগ করে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। অন্যদিকে, ২০০২ সালের সরফেসি আইন অনুযায়ী, কোনও ঋণগ্রহীতা ঋণ শোধে ব্যর্থ হলে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা আদালতের অনুমতি ছাড়াই বন্ধক রাখা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে বিক্রি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন নিয়ে সাধারণ ঋণগ্রহীদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই গোলাম সাবির কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী প্রসিত দেব (Prasanta Deb) ও সুচেতা মিত্র (Sucheta Mitra) সওয়াল করেন, ‘মাত্র ১৩-১৪ লক্ষ টাকার গৃহঋণের জন্য সরফেসির মতো কঠোর আইন কী ভাবে প্রয়োগ করা যায়?’ তাঁদের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India) ২০২০ ও ২০২১ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফসি (NBFC) ২০ লক্ষ টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে সরফেসি আইন প্রয়োগ করতে পারে না। এর পাল্টা যুক্তিতে ঋণদানকারী সংস্থার আইনজীবী সোনি ওঝা (Soni Ojha) দাবি করেন, আরবিআই-এর ওই নির্দেশ মূলত এনবিএফসি সংস্থার জন্য প্রযোজ্য, হাউসিং ফিনান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, এইচএফসি আলাদা শ্রেণির সংস্থা হওয়ায় তাদের উপর ওই সীমা প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর যদি ঋণগ্রহীতার আপত্তি থাকে, তা হলে নির্দিষ্ট ট্রাইবুনালে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। হাই কোর্টের সরাসরি এই মামলা শোনার অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

কিন্তু, এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালেই আরবিআই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে সমস্ত হাউসিং ফিনান্স কোম্পানিই আসলে এনবিএফসি-র অন্তর্গত। ফলে এনবিএফসি সংস্থার উপর যে নিয়মকানুন প্রযোজ্য, এইচএফসি-র ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। আইনের চোখে দুই ধরনের সংস্থার মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, ‘২০ লক্ষ টাকার কম গৃহঋণের ক্ষেত্রে সরফেসি আইন প্রয়োগ করা যাবে না। কোনও অবস্থাতেই জোর করে সম্পত্তি দখল নেওয়া বা নিলামে বিক্রি করা যাবে না। ঋণ আদায় করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।’ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে নজির হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গৃহঋণ গ্রাহকদের জন্য এটি বড় সুরক্ষা বলয় তৈরি করল। এত দিন বহু ক্ষেত্রেই আর্থিক সংস্থাগুলি ছোট অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রেও সরফেসি আইনের ভয় দেখিয়ে গ্রাহকদের চাপে ফেলত। এই রায়ের ফলে সেই প্রবণতায় লাগাম পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই মামলায় একই সঙ্গে আদালত পরোক্ষে আর্থিক সংস্থাগুলিকেও বার্তা দিয়েছে, আইনের সীমার মধ্যে থেকেই ঋণ আদায় করতে হবে। ঋণগ্রহীতার অধিকার খর্ব করে কোনও রকম জোরজবরদস্তি করা চলবে না। গৃহঋণ সংক্রান্ত মামলায় এই রায় ভবিষ্যতে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mussoorie registration, QR Code Travel India, Uttarakhand travel update | মুসৌরি ঘুরতে গেলে লাগবে প্রি-রেজিস্ট্রেশন, চালু নতুন কড়া নিয়মাবলি: ভ্রমণকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন