Jammu and Kashmir Tourism | পহেলগাঁও হামলা ও অকাল বৃষ্টিতে ধাক্কা কাশ্মীর পর্যটনে, উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর

SHARE:

পহেলগাঁওয়ে হামলা, অকাল ভারী বৃষ্টি ও দিল্লি বিস্ফোরণের প্রভাবে গত বছর কাশ্মীরের পর্যটন খাত কঠিন সময়ের মুখে পড়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন খাত গত এক বছরে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। পহেলগামে জঙ্গি হামলা, অকাল ভারী বৃষ্টি এবং দিল্লির বিস্ফোরণের মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পর্যটকদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah)। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, এই ঘটনাগুলি মিলিতভাবে কাশ্মীরের পর্যটন প্রবাহে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে।ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত বছরটা আমাদের পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য বিশেষভাবে কঠিন ছিল। একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনায় মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটকের আগমনে।’ তাঁর মতে, কাশ্মীর বহু বছর ধরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ইতিবাচক ধারাকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলা কাশ্মীরের ভাবমূর্তিতেও আঘাত হেনেছে। পর্যটকরা নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘পহেলগাঁও (Pahalgam) দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাডভেঞ্চার ও নেচার ট্যুরিজমের জন্য পরিচিত। সেখানে এমন ঘটনা ঘটায় পর্যটকদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে।’ প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও মানসিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মত তাঁর।
শুধু নিরাপত্তা নয়, প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত আচরণও পর্যটন শিল্পের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। অকাল ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক জায়গায় ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘পর্যটন মৌসুমের মাঝেই এই ধরনের ভারী বৃষ্টি আমাদের প্রস্তুতিকে ব্যাহত করেছে। বহু বুকিং বাতিল হয়েছে, ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।’ কাশ্মীরের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে আবহাওয়ার ওপর পর্যটনের নির্ভরতা যে কতটা গভীর, সেটাও এই অভিজ্ঞতায় আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়াও দিল্লিতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, দেশের অন্য প্রান্তে ঘটে যাওয়া কোনও বড় ঘটনা হলেও তার প্রভাব কাশ্মীরের পর্যটনের উপর পড়ে। তাঁর কথায়, ‘পর্যটকরা গোটা দেশকে একসঙ্গে দেখেন। দিল্লির মতো জায়গায় কোনও অঘটন ঘটলে, তার ছায়া কাশ্মীরের বুকিংয়েও পড়ে।’ ফলে শুধুমাত্র রাজ্যের ভেতরের পরিস্থিতি নয়, জাতীয় স্তরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যটন প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদী। তিনি বলেন, সরকার কাশ্মীরের পর্যটনকে পুনরুজ্জীবিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি, পর্যটন পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং নতুন গন্তব্যগুলিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম (Adventure Tourism) এবং তিনি গ্রামীণ পর্যটনের দিকে জোর দেওয়ার কথা জানান।

ওমর আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তা আজও অতুলনীয়। আমাদের লক্ষ্য হলো পর্যটকদের মনে আবার সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা।’ তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। তাই যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গাইড, হোমস্টে পরিচালনা ও স্থানীয় উদ্যোগে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উল্লেখ্য, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সমস্যাগুলি খোলাখুলি স্বীকার করাই সমাধানের প্রথম ধাপ। এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, ‘গত বছর আমরা সত্যিই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি নিরাপত্তা ও প্রচারে জোর দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে।’

কাশ্মীরের অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল, হাউসবোট, পরিবহণ, হস্তশিল্প, সবকিছুই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে এই খাতে কোনও ধাক্কা মানেই হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সংকটের মুখে পড়া। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘পর্যটন শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের মানুষের রুটি-রুজির সঙ্গে জড়িত।’ বস্তুত, গত বছরের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে ওমর আবদুল্লাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কাশ্মীরের পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সময় লাগলেও সঠিক পরিকল্পনা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে আবারও পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হবে উপত্যকা, এমনটাই আশা প্রশাসনের।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Jammu Kashmir Rajya Sabha election 2025 |জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়, সতপাল শর্মার ঐতিহাসিক জয় ওমর আবদুল্লার শিবিরে ধাক্কা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন