সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শ্রীনগর : দেশের রাজনীতিতে আবারও নারী সম্মান ও আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah) প্রকাশ্যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) নিশানা করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন। একটি সরকারি অনুষ্ঠানে একজন মহিলা চিকিৎসকের ঘোমটা টেনে নামানোর ঘটনায় নীতীশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, এই ঘটনাই নীতীশ কুমারের ‘আসল বাস্তবতা’ প্রকাশ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti) একটি ভোটকেন্দ্রে অনুরূপ আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নারী অধিকার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার, এই তিনটি বিষয়কে সামনে এনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিলেও, শাসক দলের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ঘটনার সূত্রপাত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত এক মহিলা চিকিৎসক ঘোমটা পরে ছিলেন। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মঞ্চে নীতীশ কুমার নিজে ওই চিকিৎসকের ঘোমটা সরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কীভাবে প্রকাশ্যে একজন নারীর ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করতে পারেন? প্রসঙ্গত, এই প্রেক্ষাপটেই ওমর আবদুল্লাহ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনায় নীতীশ কুমারের বাস্তব চেহারা সামনে এসেছে। নারী সম্মান নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া আর বাস্তবে সেই সম্মান রক্ষা করা, এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।’ তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, শুধুমাত্র উন্নয়ন বা সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না, আচরণেও সেই মূল্যবোধ প্রতিফলিত হওয়া দরকার।
ওমর আবদুল্লাহ আরও বলেন, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির বিরুদ্ধেও ভোটকেন্দ্রে এক মহিলার সঙ্গে অনুরূপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনীতিতে ক্ষমতার আসনে বসে অনেকেই নিজেদের সবকিছু করার অধিকারী মনে করেন। কিন্তু নারী সম্মান কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে।’ এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার দীর্ঘদিন ধরেই ‘সুশাসন’-এর প্রতীক হিসেবে পরিচিত। নারী শিক্ষা, মদ নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক সংস্কারের মতো নানা উদ্যোগের জন্য তিনি প্রশংসাও পেয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার পর সেই ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
আরও পড়ুন : Jammu-shrinagar : জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক
অন্যদিকে, কাশ্মীর রাজনীতিতে ওমর আবদুল্লাহ নিজেও বহু বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এই ইস্যুতে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই ‘নৈতিক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, একজন নারীর পোশাক বা ঘোমটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁরই। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কেউ কেউ নীতীশ কুমারের পক্ষ নিয়ে বলছেন, তাঁর উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। আবার অনেকেই বলছেন, উদ্দেশ্য যাই হোক, প্রকাশ্যে এই ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে মেহবুবা মুফতির নাম টেনে আনা নিয়েও শুরু হয়েছে আলাদা বিতর্ক। সমালোচকদের মতে, অতীতের ঘটনা টেনে এনে বর্তমান ইস্যুকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মনোভাব কোন দিকে যাবে, সেদিকেই এখন নজর সব দলের। এক বিশ্লেষকের কথায়, ‘নারী সম্মান কোনও ছোট বিষয় নয়। এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাদের ভাবমূর্তি দ্রুত বদলে যেতে পারে।’ বস্তুত, নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এবং ওমর আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ক্ষমতার সঙ্গে কি সংবেদনশীলতা হারিয়ে যায়? নাকি এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হবেন রাজনৈতিক নেতারা? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে দেশবাসী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Army : জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ হাইওয়েতে সেনার ট্রাকে আগুন




