সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার আগে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে আশার বার্তা দিলেন বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তী লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। তিন দিনের ঝটিকা সফরে দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও কলকাতা, এই চার শহরে ভক্তদের উন্মাদ ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা। সফর শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেসি জানিয়েছেন, ভারতের আতিথেয়তা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে এবং তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবলের দিন বদলাবে।
বুধবার মায়ামিতে ফেরার আগে মেসি তাঁর সফর একদিন বাড়িয়েছিলেন। কারণ, অনন্ত অম্বানী (Anant Ambani) প্রতিষ্ঠিত জামনগরের ‘ভান্তারা’ (Vantara) বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার আমন্ত্রণ। সেখানে পশু সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার কাজ ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন মেসি। সেই অভিজ্ঞতাও তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানা গিয়েছে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে। ভারত সফরের স্মৃতি-মুহূর্ত ভাগ করে নিতে ইনস্টাগ্রামে একটি এক মিনিটের ভিডিও পোস্ট করেন ৩৮ বছর বয়সি এই ফুটবল তারকা। সেই ভিডিওতে ধরা পড়ে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তী সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), বলিউড অভিনেত্রী করিনা কপূর খান (Kareena Kapoor Khan) এবং একঝাঁক তরুণ ফুটবলারের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত। ভিডিওর ক্যাপশনে মেসি লেখেন, ‘দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও কলকাতায় দারুণ সময় কাটালাম। উষ্ণ অভ্যর্থনা, উদার আতিথেয়তা এবং যে ভালবাসা আমাকে ঘিরে রেখেছিল, তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আমি আশা করি, ভারতে ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’
মেসির এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় ফুটবল চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের ঘরোয়া ফুটবল মরসুম কার্যত থমকে গিয়েছে উপযুক্ত বাণিজ্যিক স্পনসর না পাওয়ার কারণে। জাতীয় দলও টানা খারাপ ফলের জেরে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে। তার উপর প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে চলা মামলার কারণে নীতিগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকার মুখে আশার কথা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় প্রেরণা। উল্লেখ্য যে, এই সফরে মেসি কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি। তবু শুধুমাত্র তাঁর উপস্থিতিতেই চার শহরে ফুটবল উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামে টিকিট কেটে হাজার হাজার দর্শক শুধু এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন। মেসির সঙ্গে সফরে ছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি লুইস সুয়ারেজ (Luis Suarez) এবং আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দে পল (Rodrigo De Paul)। তিন জনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক রসায়নও ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
মেসির সফরের শুরুটা হয়েছিল কলকাতা থেকে। ফুটবলপ্রেমী শহর হিসেবে পরিচিত কলকাতায় মেসির উপস্থিতি ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। তবে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনীতিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের ঘিরে ধরার ফলে বহু দর্শক, যাঁরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন, ঠিকভাবে মেসিকে দেখতে পাননি। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভও উগরে দেন অনেক ভক্ত। তবু সব বিতর্ক ছাপিয়ে মেসির কলকাতা সফর ঐতিহাসিক হয়েই থাকল। দিল্লি ও মুম্বইতেও ছবিটা ছিল প্রায় একই। স্টেডিয়ামের বাইরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, মেসির নাম লেখা পোস্টার, আর্জেন্টিনার জার্সিতে রাস্তায় রাস্তায় উল্লাস, সব মিলিয়ে যেন বিশ্বকাপের আবহ। হায়দরাবাদেও তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে মেসির সাক্ষাৎ বিশেষভাবে নজর কাড়ে। অনেক তরুণ ফুটবলার জানান, মেসির সঙ্গে এক ফ্রেমে দাঁড়ানো তাঁদের জীবনের সেরা মুহূর্ত।ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির এই সফর প্রতীকী হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ যখন ভারতের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেন, তখন তা নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম, সকলের মনেই আলাদা বার্তা দেয়। এক বিশ্লেষকের কথায়, ‘ভারতীয় ফুটবল এখন যে সংকটে রয়েছে, সেখানে এমন অনুপ্রেরণা খুব দরকার ছিল।’ মাঠে বল না ছুঁয়েও মেসি ভারতীয় ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। তাঁর সফর, ভক্তদের উন্মাদনা এবং আশাবাদী বার্তা হয়তো অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করবে না, কিন্তু নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করবে, এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi India Visit | মেসির ৩৫ মিনিটের নিখুঁত ম্যাজিক: দিল্লির অভিজ্ঞতায় আবারও শিক্ষা কলকাতার জন্য, ফুটবলপ্রেমে অনন্য দৃষ্টান্ত রাজধানীতে


