Supreme Court News | বিষাক্ত বাতাসে সতর্ক সুপ্রিম কোর্ট, ভার্চুয়াল হাজিরার পরামর্শ প্রধান বিচারপতির, দিল্লির AQI ছুঁল ভয়ঙ্কর ৪৬১

SHARE:

দিল্লিতে ভয়াবহ বায়ুদূষণের জেরে আইনজীবীদের ভার্চুয়াল শুনানির পরামর্শ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। AQI পৌঁছেছে ৪৬১-এ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লির আকাশে দূষণের ঘন চাদর। শ্বাস নিতে গিয়ে অস্বস্তি, চোখে জ্বালা, গলা খুসখুস, এ যেন রাজধানীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice of India Surya Kant) আইনজীবী ও স্বশরীরে মামলা লড়ছেন এমন পক্ষগুলিকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমান আবহাওয়া ও দূষণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট -এর তরফে প্রকাশিত একটি সার্কুলারে জানানো হয়, ‘বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি আইনজীবী ও স্বশরীরে হাজিরা দেওয়া পক্ষগুলিকে, যদি সুবিধাজনক হয়, তা হলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হাইব্রিড পদ্ধতিতে শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’ এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, শারীরিক উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন দিল্লির বায়ুদূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (Central Pollution Control Board – CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI উঠে যায় ৪৬১-এ। চলতি শীতে এটি রাজধানীর সবচেয়ে দূষিত দিন এবং ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষণের রেকর্ড। দুর্বল হাওয়া ও নিম্ন তাপমাত্রার কারণে দূষণ কণাগুলি বাতাসে আটকে থেকে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। CPCB -এর মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ‘ভাল’, ৫১ থেকে ১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ ‘অত্যন্ত খারাপ’ এবং ৪০১ থেকে ৫০০ হলে তা ‘গুরুতর’ হিসেবে ধরা হয়। দিল্লির বর্তমান ৪৬১ AQI স্পষ্টতই ‘গুরুতর’ স্তরে পড়ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের বিষাক্ত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, হার্টের জটিলতা, এমনকি স্নায়ুতন্ত্রের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিশু, বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল হাজিরার পরামর্শকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, চলতি মাসের শেষের দিকে, ২৬ নভেম্বর, বায়ুদূষণের ভয়াবহতা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সেই দিন সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির শুরুতেই তিনি বলেন, আগের দিন এক ঘণ্টার হাঁটাহাঁটির পর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন। এই মন্তব্য উঠে আসে নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানির সময়। ওই মামলাগুলিতে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), কেরালা (Kerala), পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই সময়েই সুপ্রিম কোর্টে সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল শুনানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। যদিও আপাতত সর্বোচ্চ আদালত হাইব্রিড পদ্ধতিতেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতি ও ভার্চুয়াল, এই দুই মাধ্যমেই শুনানি হয়। আইনজীবীরা চাইলে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন, আবার চাইলে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমেও যুক্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

প্রসঙ্গত, এর আগেও দূষণের কারণে সতর্কতা জারি হয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসিংহ (Justice P S Narasimha) দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বিপজ্জনক বায়ুগুণমানের কথা উল্লেখ করে আইনজীবীদের ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেওয়াই বুদ্ধিমানের। আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার এই নমনীয়তা সময়োপযোগী। প্রযুক্তির সাহায্যে বিচারপ্রক্রিয়া চালু রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে কেউ কেউ আবার মনে করছেন, দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল শুনানি চললে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষাই যে অগ্রাধিকার, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।

দিল্লির বায়ুদূষণ শুধু আদালত বা সরকারি দফতরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ প্রভাব ফেলছে না। স্কুল বন্ধ, নির্মাণকাজে বিধিনিষেধ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই ব্যাহত হচ্ছে। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শ কার্যত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে রাজধানীর ভয়াবহ বায়ুদূষণ পরিস্থিতি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, তা এখন প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, আপাতত ভার্চুয়াল মাধ্যমই অনেকের কাছে নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : LED Expo New Delhi 2025: Illuminating India’s Transition to Sustainable Lighting

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন