River Erosion West Bengal | নদী ভাঙন ঠেকাতে ‘সার্কুলার সসেজ’ প্রযুক্তিতে বড় বাজি সেচ দফতরের, সফল হলে ছড়াবে গোটা বাংলায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নদী ভাঙন, এই এক শব্দেই আতঙ্ক ছড়ায় গঙ্গা ও তার শাখা নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষের মনে। বছরের পর বছর ধরে নদীর গ্রাসে ভিটেমাটি হারানোর ছবি নতুন নয় মালদহ (Malda), মুর্শিদাবাদ, (Murshidabad) কিংবা হাওড়া (Howrah) জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। একের পর এক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে বারবারই পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। এই পরিস্থিতিতে নদী ভাঙন রুখতে একেবারে নতুন পথে হাঁটল সেচ দফতর (Irrigation Department)। ‘সার্কুলার সসেজ’ নামে একটি আধুনিক ও অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য ভাঙনপ্রবণ এলাকাতেও চালু করা হবে।

সেচ দফতর সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বর্ষা ও নদীর স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদী ভাঙনের আশঙ্কা। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি হাওড়ার উলুবেড়িয়া (Uluberia) এলাকাতেও গঙ্গার ভাঙন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বহু পরিবার এখনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কখন আবার নদী এক লহমায় কেড়ে নেবে ঘরবাড়ি, চাষের জমি কিংবা রাস্তা, সেই চিন্তাই তাঁদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। এই বাস্তবতায় সেচ দফতর নতুন করে ‘সার্কুলার সসেজ’ পদ্ধতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হলেও তাঁরা আশাবাদী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, লম্বা বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের খাঁচার ভিতরে বিপুল পরিমাণ ইট ভরে নদীর ভাঙনপ্রবণ অংশে উলম্বভাবে বসানো হচ্ছে এই কাঠামো। দেখতে অনেকটা লম্বা সসেজের মতো হওয়ায় এই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সার্কুলার সসেজ’।

সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘এই পদ্ধতিতে নদীর স্রোতের সরাসরি আঘাত অনেকটাই কমে যাবে। ইটভর্তি বাঁশের খাঁচা স্রোতের গতি ভেঙে দেবে এবং নদীর পাড়কে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।’ তাঁদের দাবি, আগের পদ্ধতিগুলির তুলনায় এটি আরও কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে স্রোতের চাপ অত্যন্ত বেশি। উল্লেখ্য যে, এর আগেও নদী ভাঙন ঠেকাতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিতে ভাঙা ইটের টুকরো ফেলা, বালির বস্তা বসানো, নদীবাঁধে পলি মার্কিং শিট বিছানো, বাঁশের খাঁচা বা পরকো পাতা, এমনকি ইটের ম্যাট্রেস বসানোর মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিন্তু বর্ষাকালে জলস্তর বাড়লেই অনেক জায়গায় সেই সব প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেসে গিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্রোতের দাপটে বাঁধ ভেঙে পড়ার ঘটনাও নতুন নয়। এই কারণেই ‘শেষ ভরসা’ হিসেবেই নতুন এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে সেচ দফতর। ইতিমধ্যেই হাওড়ার উলুবেড়িয়ার জগদীশপুর (Jagdishpur) এলাকায় এই কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বাঁশের খাঁচা প্রায় ২০ মিটার লম্বা এবং এক একটি খাঁচার ভিতরে প্রায় ছ’হাজারটি ইট বোঝাই করা হচ্ছে। প্রতিটি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এমন ন’টি করে খাঁচা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১১টি ভাঙনপ্রবণ এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সব এলাকায় সব মিলিয়ে ৯৯টি ‘সার্কুলার সসেজ’ বসানো হবে। এর মধ্যে শুধু উলুবেড়িয়ার দু’টি ভাঙনপ্রবণ অঞ্চলের পাঁচটি স্থানে মোট ৪৫টি বাঁশের খাঁচা বসানোর কাজ চলবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে নদীর পাড়ের স্থায়িত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে আশা করছে দফতর।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ। একদিকে যেমন বহু মানুষ নতুন প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে আশাবাদী, অন্যদিকে আবার অতীতের অভিজ্ঞতা তাঁদের মনে সংশয়ও তৈরি করছে। উলুবেড়িয়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আগেও অনেক কিছু করা হয়েছে, কিন্তু নদী থামেনি। তবুও যদি এই নতুন পদ্ধতিতে আমাদের ঘরবাড়ি বাঁচে, সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি হবে।’ সেচ দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি দেখা যায় যে ‘সার্কুলার সসেজ’ পদ্ধতিতে ভাঙন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, তা হলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের অন্যান্য নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাতেও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি নদী ভাঙন মোকাবিলায় একটি টেকসই সমাধান হতে পারে। নদী ভাঙনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেচ দফতরের এই নতুন উদ্যোগ যে রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত, তা বলাই বাহুল্য। প্রকল্প সফল হলে শুধু ভাঙন নিয়ন্ত্রণই নয়, নদীপারের মানুষের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের আতঙ্কও অনেকটা কমবে, এমনটাই আশা প্রশাসনের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voter List, Draft Electoral Roll | খসড়া ভোটার তালিকায় আপনার নাম আছে তো? পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের জন্য সহজ গাইডলাইন দিল নির্বাচন কমিশন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন