সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত ও জর্ডনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের আম্মানে (Amman) অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর (King Abdullah II) সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সোমবার PMO India -এর পক্ষ থেকে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়েছে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় নেতা একমত হয়েছেন। PMO India জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজা দ্বীতীয় আবদুল্লাহ -এর আলোচনায় বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠককে ভারত-জর্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ৭৫ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পর এই আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন রোডম্যাপ তৈরি করল।
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘ভারত ও জর্ডনের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার উপর দাঁড়িয়ে আছে’। একইসঙ্গে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, ‘ভারতের সঙ্গে জর্ডনের বন্ধুত্ব মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে’। এই মন্তব্যগুলি দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে স্পষ্ট করে। সূত্রের খবর, বৈঠকে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুই নেতা মত প্রকাশ করেন যে, ভারত ও জর্ডনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছয়নি। তাই আগামী দিনে রপ্তানি-আমদানি, স্টার্টআপ সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং জর্ডনের ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে বলে মত আন্তর্জাতিক কুটনৈতিকদের।
উল্লেখ্য, সূত্রের আরও খবর যে, কৃষিক্ষেত্রেও আলোচনায় উঠে আসে নতুন সম্ভাবনার কথা। জল সংরক্ষণ, আধুনিক সেচব্যবস্থা, কৃষিপ্রযুক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা জর্ডনের শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এক কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ‘কৃষি সহযোগিতা দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে’। স্বাস্থ্যখাতেও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। চিকিৎসা শিক্ষা, ওষুধ উৎপাদন, হাসপাতাল পরিকাঠামো এবং টেলি-মেডিসিনের মতো ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জর্ডনের আঞ্চলিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা, এই দুইয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈদ্যুতিক যান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও শক্তি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই খাতে ভারত-জর্ডন অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক বাজারে উভয় দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।এই বৈঠক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরের বাইরেও সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগ বৃদ্ধির বার্তা দিয়েছে। দুই নেতা সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী আদান-প্রদানের উপর জোর দেন। ভারতের ঐতিহ্য ও জর্ডনের ঐতিহাসিক সভ্যতার মধ্যে যোগসূত্র গড়ে তুলে জনগণের স্তরে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এক সরকারি সূত্রের কথায়, ‘জনগণের মধ্যে সম্পর্ক যত গভীর হবে, কূটনৈতিক সম্পর্ক তত দীর্ঘস্থায়ী হবে’।
PMO India-র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই বৈঠককে ‘productive discussions’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, দুই দেশ ৭৫ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে জর্ডনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব জর্ডনের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই বৈঠক সেই সম্ভাবনাকেই আরও বাস্তব রূপ দেওয়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, আম্মানে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের এই বৈঠক ভারত-জর্ডন সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাল। বাণিজ্য থেকে শুরু করে কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও খনিজ সম্পদ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনা আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করে তুলবে।
ছবি : সংগৃহীত




