তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : শনিবার টলিপাড়ার অন্দরে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা নিঃশব্দে হলেও সমাজ ও সংস্কৃতির বহু প্রচলিত ধারণাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। চরম গোপনীয়তার মধ্যে দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন টলিউডের দুই অভিনেত্রী (Tollywood Actresses)। সমকামী বিবাহ (Same-Sex Marriage) কলকাতায় এই প্রথম নয়, কিন্তু পরিচিত মুখের দুই অভিনেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আয়োজনের ধরন। বাইরে থেকে যতই নীরব মনে হোক, ভিতরে ভিতরে আয়োজন ছিল যথেষ্ট পরিমিত অথচ আড়ম্বরপূর্ণ। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও খুব কাছের বন্ধুদের মিলিয়ে অতিথি তালিকায় ছিলেন প্রায় ১০০ জন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন টলিউডের (Tollywood) বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তবে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে কোনও প্রকাশ্য তালিকা বা ছবি সামনে আসেনি। কারণ, শুরু থেকেই গোপনীয়তার প্রশ্নে ছিল কড়া বিধিনিষেধ। বিয়ে বাড়িতে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা নিষিদ্ধ ছিল। শুধু তা-ই নয়, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে ছবি তুলেও থাকেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট না করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, দুই অভিনেত্রী এখনই নিজেদের সম্পর্ক বা বিবাহকে জনসমক্ষে আনতে চান না। তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরাও সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখেন।
এই দুই নবদম্পতির একজন টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ। একাধিক ধারাবাহিক ও ছবিতে কাজ করে তিনি টলিপাড়ায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। অন্যজন মূলত মডেলিং জগতের (Modeling Industry) সঙ্গে যুক্ত। কিছু টেলিভিশন ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং একটি সিনেমায় মুখ্য ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যদিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা বা স্টারডম তিনি এখনও পাননি। তবু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তিনি পরিচিত নাম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) নজর রাখলে তাঁদের সম্পর্কের আভাস আগে থেকেই পাওয়া যেত বলে দাবি করছেন অনেকে। একে অপরকে ফলো করা, নিয়মিত পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দেওয়া, এসব ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কখনও একসঙ্গে ছবি শেয়ার করেননি তাঁরা। সেই কারণেই আচমকা এই বিয়ের খবর অনেকের কাছেই চমক হয়ে এসেছে। ভারতের প্রেক্ষাপটে সমকামী বিবাহ এখনও আইনত স্বীকৃত নয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) সমকামিতাকে অপরাধের তালিকা থেকে অনেক আগেই বাদ দিয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে (Right to Privacy) সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও সমাজের একাংশ যে ধীরে ধীরে এই সম্পর্কগুলিকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে, এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ।
আইন বদলানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে জাতীয় স্তরেও। এই দুই অভিনেত্রীর বিয়ে সেই বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনেরই এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। কারণ, বিয়ে মানেই তো দুটো মানুষের মনের মিলন। সেখানে লিঙ্গ, বয়স বা সামাজিক ছকের কোনও বাধা থাকার কথা নয়, এমনটাই মত বহু সমাজবিদ ও মানবাধিকার কর্মীর। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood Industry) এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য না করলেও, অন্দরে প্রশংসার সুরই বেশি শোনা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিচিত মুখেরা যখন নিজেদের জীবনের এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা সমাজের অন্যদেরও মানসিক শক্তি জোগায়। যদিও ট্রোল বা কটাক্ষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবু এই দম্পতি সেই ভয়কে পাত্তা না দিয়েই নিজেদের মতো করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বিয়ে হয়ত আইনত স্বীকৃত নয়, কিন্তু ভালবাসার স্বীকৃতির জন্য কোনও আইনের প্রয়োজন হয় না, এমনটাই মনে করছেন তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল। গোপনীয়তার আড়ালে হলেও, এই সমকামী বিবাহ টলিপাড়ার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ও আইনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, এই আশাতেই নতুন জীবনের পথে হাঁটলেন দুই অভিনেত্রী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madhuri Dixit Ajay Jadeja love story, Bollywood cricket affair | রাজবংশের বউ হতে পারতেন মাধুরী, এক ভুলে ভেঙে গেল প্রেম! অজয় জাডেজার জীবনের সেই অজানা চ্যাপ্টার




