H-1B visa fee hike, Trump H-1B policy | এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের অস্বস্তি! ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আদালতে ২০টি মার্কিন প্রদেশ, প্রশ্নের মুখে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি!

SHARE:

ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বেও ‘Public Charge Rule’ নামে একটি নীতি চালু করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, যারা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভিসা বা গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে না। ২০২১ সালে বাইডেন (Joe Biden) প্রশাসন সেটি বাতিল করলেও, নতুন এই পদক্ষেপে সেই নীতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন অভিবাসন নীতিকে আরও সীমাবদ্ধ ও বৈষম্যমূলক করে তুলবে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : এইচ-১বি ভিসা (H-1B Visa) নিয়ে ফের নিজের দেশেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়লেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু এই ভিসার ফি বিপুল হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আমেরিকার ২০টি প্রদেশ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যগুলিই একজোট হয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স (Reuters) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (মার্কিন স্থানীয় সময়) ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts)-এর একটি ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের হতে পারে। মামলাকারী রাজ্যগুলির দাবি, এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন পায়নি। শুধু তাই নয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে যে উদ্দেশ্যে এইচ-১বি ভিসা চালু করা হয়েছিল, সেই মূল লক্ষ্যই কার্যত ভেস্তে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছে।

আরও পড়ুন : Trump Gold Card Visa | গ্রিন কার্ড নয়, এবার ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ স্থায়ী বসবাসে অতিরিক্ত সুবিধা, খরচও কয়েক গুণ বেশি

এই জোটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম ক্যালিফর্নিয়া (California)। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা (Rob Bonta) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এইচ-১বি ভিসার ফি অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর ফলে বহু সংস্থা আর বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারছে না। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। ক্যালিফর্নিয়ার মতো রাজ্যে ইতিমধ্যেই কর্মীসঙ্কট তৈরি হচ্ছে।” রব বন্টার মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসীদের নয়, সরাসরি আমেরিকার অর্থনীতি ও পরিষেবা ব্যবস্থার উপর আঘাত করছে। প্রসঙ্গত, এইচ-১বি ভিসা মূলত সেই সব বিদেশি পেশাদারদের জন্য, যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা বা গবেষণার মতো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। বহু মার্কিন সংস্থা, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে, এই ভিসার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া বিধি অনুযায়ী, এখন কোনও বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রায় এক লক্ষ মার্কিন ডলার ফি দিতে হচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। এর আগে এই ফি ছিল অনেকটাই কম। পুরনো নিয়মে এইচ-১বি ভিসার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলিকে ন্যূনতম ৯৬০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৮৬ হাজার ৯৩০ টাকা) থেকে সর্বোচ্চ ৭৫৯৫ ডলার (প্রায় ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৪৫ টাকা) পর্যন্ত খরচ করতে হত। হঠাৎ করে এই বিপুল বৃদ্ধি কার্যত ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির জন্য বিদেশি প্রতিভা নিয়োগকে অসম্ভব করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলাকারী রাজ্যগুলির যুক্তি, এই ফি বৃদ্ধির ফলে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি নয়, হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে তারা। রাজ্যগুলির একাংশের বক্তব্য, “আমেরিকার নাগরিকদের দিয়ে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ কাজ পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার প্রয়োজন।” ক্যালিফর্নিয়া ছাড়াও যে রাজ্যগুলি এই মামলায় সামিল হচ্ছে, তাদের তালিকাও যথেষ্ট দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts), অ্যারিজ়োনা (Arizona), কলোরাডো (Colorado), কানেকটিকাট (Connecticut), ডেলাওয়ার (Delaware), হাওয়াই (Hawaii), ইলিনয় (Illinois), মেরিল্যান্ড (Maryland), মিশিগান (Michigan), মিনেসোটা (Minnesota), নেভাদা (Nevada), নর্থ ক্যারোলাইনা (North Carolina), নিউ জার্সি (New Jersey), নিউ ইয়র্ক (New York), অরিগন (Oregon), রোড আইল্যান্ড (Rhode Island), ভারমন্ট (Vermont), ওয়াশিংটন (Washington) এবং উইসকনসিন (Wisconsin)। এই রাজ্যগুলির অনেকগুলিই প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমেরিকার চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু ভিসা ফি বৃদ্ধির বিরোধিতা নয়, বরং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিরুদ্ধেও একপ্রকার প্রতীকী প্রতিবাদ। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেছে। তাঁদের যুক্তি ছিল, বিদেশি কর্মীরা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বহু সংস্থা দাবি করছে, যোগ্য মার্কিন কর্মী না পাওয়ার কারণেই তাদের বিদেশি প্রতিভার উপর নির্ভর করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে আদালতের রায় কী হয়, তার দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি ও অভিবাসন মহল। বিশেষ করে ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল দুই-ই রয়েছে। কারণ, এইচ-১বি ভিসার অন্যতম বৃহৎ উপভোক্তা ভারত। মামলা যদি রাজ্যগুলির পক্ষে যায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gaza ceasefire warning, Donald Trump Hamas warning | ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘শুধরে না গেলে হামাসকে সমূলে নির্মূল করা হবে’ শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন