সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, ওয়াশিংটন : আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) চালু করলেন নতুন ধরনের ভিসা, ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। এতদিন গ্রিন কার্ডই ছিল বিদেশিদের আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের রাস্তা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা শুধু গ্রিন কার্ডের বিকল্প নয়, সুবিধার দিক থেকেও এটি আরও এগিয়ে। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বিশেষ ভিসার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প, আর চলতি সপ্তাহে তা বাস্তবায়িত হল।
হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা চালুর সময়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “দেশ আর আমার জন্য এটা এক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প গোল্ড কার্ড চালু করলাম। আবেদন করার জন্য সাইট প্রথম ৩০ মিনিট পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে।” তাঁর দাবি, এতদিন চালু থাকা গ্রিন কার্ড ব্যবস্থার মতোই কাজ করবে এই গোল্ড কার্ড, তবে এতে থাকবে “অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সুবিধা”, যা আমেরিকার আর্থসামাজিক কাঠামোয় “উচ্চ মানের বৈদেশিক প্রতিভা” আকৃষ্ট করবে। তবে সুবিধা মিললেও খরচও থাকবে বেশি। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, গোল্ড কার্ড ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীদের ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি, মার্কিন কোষাগারে ‘উপহারস্বরূপ’ জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই হয়ে গেলে এই অর্থ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ট্রাম্প আরও জানান, কোনও সংস্থা যদি নিজের কোনও কর্মীর দ্রুত গোল্ড কার্ড নিশ্চিত করতে চায়, সেক্ষেত্রে সংস্থাকে দিতে হবে ২০ লক্ষ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের দ্রুত পাওয়া নিশ্চিতে কর্পোরেটরাও এই ভিসায় আগ্রহী হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আবেদনকারীদের প্রথম ধাপেই ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার সমপরিমাণ), প্রসেসিং ফি’ জমা দিতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (Homeland Security) দফতরের কাছে জমা রাখা এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। এই ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীর নথিপত্র খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে, এবং সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে ১০ লক্ষ ডলার জমা দিতে হবে মার্কিন সরকারের কোষাগারে।
হোয়াইট হাউস সূত্রের ব্যাখ্যা, এই ‘উপহার’ মূলত দেখিয়ে দেয় যে আবেদনকারী আমেরিকার জন্য আর্থিকভাবে উপকারী হবেন। ফলে ভিসা প্রদানেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। গোল্ড কার্ড ভিসার সরকারি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত ফিও জমা দিতে হতে পারে, তবে কোন পরিস্থিতিতে কত ফি দিতে হবে তা এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।গ্রিন কার্ড আর গোল্ড কার্ডের মূল পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক (Howard Lutnick) বলেন, “গোল্ড কার্ড প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে সেইসব প্রতিভাবান, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশিদের জন্য, যাঁরা আমেরিকায় নতুন উদ্ভাবন, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।” তাঁর কথায়, গোল্ড কার্ড শুধু স্থায়ী বাসের অধিকার নয়, বরং আমেরিকার অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগও সৃষ্টি করবে।

এতদিন বিদেশিরা গ্রিন কার্ডের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস, কাজ ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পেতেন। কিন্তু গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা, কোটা সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ প্রসেসিং সময় আবেদনকারীদের জন্য বড় বাধা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গোল্ড কার্ড সেই জটিলতা অনেকটাই সরিয়ে দেবে। অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও দক্ষতা, দুই মিলেই খুব দ্রুত সময়ে পাওয়া যাবে ‘প্রিমিয়াম স্ট্যাটাস’।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ দু’দিক দিয়ে কাজ করবে। একদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, অপরদিকে বিশ্বজুড়ে প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আমেরিকার দিকে আকৃষ্ট করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এই প্রকল্প উচ্চ মধ্যবিত্ত বা সাধারণ দক্ষ শ্রমিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, কারণ খরচ বিপুল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অবস্থানে অটল। তাঁদের যুক্তি, “আমেরিকার উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থাকতে হলে সেরা মেধা ধরে রাখতে হবে।” সেই কারণেই গোল্ড কার্ড প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। বুধবার থেকে ভিসার আবেদন চালু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পটি কতটা সফল হবে এবং কোন স্তরের প্রার্থীরা সর্বাধিক আবেদন করবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump, Trump 2000 dollars | “প্রতি আমেরিকান পাবেন ২ হাজার ডলার” বিস্ফোরক ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, শুল্ক আয়ের টাকা ফেরত দেবে ট্রাম্প সরকার




