সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল স্পেশাল। ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সংখ্যা ৯১ | Sasraya News Sunday’s Literature Special | Issue 91, Sunday

SHARE:

সম্পাকীয়

শীত নামলেই বাংলার মাটিতে যেন এক আলাদা নিঃশ্বাস বইতে শুরু করে। বাতাসে কুয়াশার গন্ধ, সকালের রোদে হালকা আলস্য আর সন্ধ্যায় গায়ে জড়ানো শালের উষ্ণতা এই সব মিলিয়ে শীত বাঙালির কাছে শুধু ঋতু নয়, এক মানসিক অবস্থা। আর এই শীতের বুকের ভেতরেই উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজে জেগে ওঠে ইতু পুজো একটি মাটির, জীবনঘনিষ্ঠ উৎসব, যা আজও বহন করে বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির গভীর শিকড়। ইতু পুজো কোনও আড়ম্বরের উৎসব নয়। এখানে নেই আলো-ঝলমলে মণ্ডপ, নেই কর্পোরেট স্পনসরশিপ। আছে মাটির ঘর, উঠোন, কাঁচা আলপনা, ধানের শিস, নতুন ফসলের আনন্দ আর প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা। কৃষিকাজে জড়িত মানুষের জীবনে শীত মানে শুধু ঠাণ্ডা নয় শীত মানে ফসল ঘরে তোলার সময়, শীত মানে পরিশ্রমের ফল পাওয়ার মুহূর্ত। ইতু পুজো সেই মুহূর্তকে সম্মান জানায়। দেবী এখানে দূরের কোনো অলৌকিক সত্তা নন, তিনি উঠোনের একেবারে কাছে মাটির মতো আপন। এই ইতু পুজোর ভাষাও আলাদা। এখানে সংস্কৃত মন্ত্রের কঠিন শব্দ নেই, আছে সহজ প্রার্থনা, আছে লোকছড়া, আছে মায়ের মুখের ভাষা। আর এখানেই বাংলা ভাষার এক গভীর সত্য ধরা পড়ে। বাংলা শুধু রবীন্দ্র-নজরুলের ভাষা নয়, বাংলা শুধু বইয়ের ভাষা নয় বাংলা মাঠের, ঘরের, কৃষকের, আদিবাসীর ভাষা। ইতু পুজোর মধ্য দিয়ে এই বাংলা ভাষা বেঁচে থাকে, বহমান থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

শীত যেমন বাঙালির মনকে খানিকটা ধীর করে, তেমনই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় নিজের শিকড়ে। এই সময়েই পিঠে-পুলি, খেজুরের গুড়, নবান্নের স্মৃতি, গ্রামবাংলার গল্প নতুন করে ফিরে আসে। ইতু পুজো সেই শিকড়ের সঙ্গে বাঙালির এক নীরব সংলাপ। শহুরে জীবনের কোলাহলে যে বাংলা ভাষা ক্রমশ ইংরেজির ছায়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে, ইতু পুজোর মতো উৎসব সেই ভাষাকে আবার মাটির সঙ্গে যুক্ত করে। আজকের দিনে যখন উৎসব মানেই বাজার, ভাষা মানেই চাকরির প্রয়োজন, তখন ইথু পুজো আমাদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় আমরা কি আমাদের সংস্কৃতিকে শুধু প্রদর্শনীর বস্তু করে ফেলছি? বাংলা ভাষা কি কেবল পাঠ্যবই আর সোশ্যাল মিডিয়ার স্ট্যাটাসেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে? ইতু পুজোর নিঃশব্দ আয়োজন যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংস্কৃতি বাঁচে ব্যবহারে, ভাষা বাঁচে দৈনন্দিন জীবনে। শীতের সকালে উঠোনে বসে ইতু পুজোর মাটির মূর্তির দিকে তাকালে বোঝা যায় এই বাংলার প্রাণ লুকিয়ে আছে সরলতায়। ভাষা, উৎসব, জীবন সবকিছু একসূত্রে বাঁধা। বাঙালি যদি নিজের শীতকে ভুলে যায়, নিজের ইতুকে ভুলে যায়, তবে সে কেবল একটি ঋতু বা একটি পুজো হারাবে না; সে হারাবে নিজের ভাষার এক টুকরো আত্মা।🍂

 

🍂মহামিলনের কথা 

 

শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ
কোটি গো দান; অযুত অযুত কন্যা দান; কোটি সহস্র তীর্থের ফল শ্রীনামকীর্ত্তন। যাঁরা অন্য সাধন রামনামের সমান বলে তারা চণ্ডালতুল্য, রৌরবনরকে গমন করে।
যিনি রামনাম জপ করেন তাঁর শত্রুগণ বিনষ্ট হয়। গ্রহসকল কোনরূপ ব্যাঘাত উৎপন্ন করতে পারে না। রাক্ষসগণও কোনও অনিষ্ট করতে সমর্থ হয় না।
একটি সত্য ঘটনা বলি—‘ একজন সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোক জেলখানা দেখতে যান। তিনি দেখলেন জনৈক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কেবল অবিরাম ‘রাম রাম’ জপ করছেন। জেলারকে জিজ্ঞাসা করে জানলেন যে এঁর ফাঁসির হুকুম হয়েছে তাই ওরূপ রাম রাম কচ্ছেন।
যখন প্রহরীগণ ফাঁসির পূর্ব্বে তাঁকে বিচারালয়ে নিয়ে গেল, বিচারক তাঁর শেষ প্রার্থনা কিছু আছে কিনা জানতে চাইলেন। ব্রাহ্মণ কোন কথায় উত্তর না দিয়ে অবিরাম ঘন ঘন ‘রাম রাম’ জপ করতে লাগলেন। এমন সময় কয়েকটি স্ত্রী-পুরুষ কাঁদতে কাঁদতে বিচারালয়ে প্রবেশ করে বললে— ধর্ম্মাবতার! ওঁর কোন দোষ নাই, উনি নির্দ্দোষ ওঁকে খালাস দিন। আমরা অপরাধী, আমাদের যা দণ্ড হয় দিন। বিচারক তাদের কথা শুনে ব্রাহ্মণকে মুক্তিদান করলেন। ব্রাহ্মণ রাম রাম করে চলে গেলেন।’

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব

যত বড় বিপদ আসুক না কেন, বিপন্ন ব্যক্তি যদি আকুল প্রাণে রামনাম জপ করে তাহলে সে বিপদ হতে পরিত্রাণ পায়। এ জগৎজয়ের একমাত্র মহা অস্ত্র রাম নাম; সতত রাম নাম জপে কামক্রোধাদি রিপুদল, রোগ-শোক, দুঃখ, জ্বালা-যন্ত্রণা, আধি-ব্যাধি কিছু থাকবে না। কেবল জপ কর— রাম রাম রাম! রাম রাম রাম!

শ্রীরাম জয় রাম জয় জয় রাম।

🍁শ্রীশ্রীনামামৃত লহরী | শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী [বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত ]

 

 

🍂ফিচার 

বিশ্ববিদ্যালয় পাঠক্রমে মানবিক বিভাগের সঙ্কুচিত পরিসর: প্রযুক্তির চাপে হারাচ্ছে মানবতা, সমাজের সামনে বাড়ছে নতুন সঙ্কট

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমশ ঝুঁকছে STEM- অর্থাৎ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের দিকে। এই বিষয়গুলোর চাহিদা বেড়েছে কারণ এগুলোকে সরাসরি ‘চাকরিমুখী’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর এক অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে, গবেষণার অনুদান, কর্পোরেট তহবিল এবং বাজারকেন্দ্রিক সাফল্য দেখাতে হলে STEM ‘কে প্রাধান্য দিতেই হবে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আরেক বাস্তবতা, অসাধারণ পরিকাঠামো আর উচ্চ টিউশন ফি ন্যায্যতা দিতে হলে তাদেরকে STEM নির্ভর আধুনিক কোর্সের দিকেই ঝুঁকতে হচ্ছে। এই প্রবণতা যত বাড়ছে, ততই সঙ্কুচিত হচ্ছে মানবিক বিভাগের জায়গা। ইতিহাস, দর্শন, ভাষা, সাহিত্য এমন বিষয়গুলোকে ক্রমাগত প্রান্তিক করা হচ্ছে। কোথাও অর্থবরাদ্দ কমানো হচ্ছে, কোথাও শিক্ষক সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই ‘উপযোগিতা’ কেন্দ্রিক শিক্ষা মানুষকে শেখায় কিভাবে কাজ করতে হবে, কিন্তু শেখায় না কেন করতে হবে; শেখায় কিভাবে বাঁচতে হবে, কিন্তু শেখায় না কেন বাঁচতে হবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরা প্রকৃতির রহস্য বুঝতে চান, এটা সত্যি। কিন্তু মানুষের অভ্যন্তরীণ জগৎ, আবেগ, সহমর্মিতা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এসবের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় মানবিক শিক্ষায়। কবি ও দার্শনিকদের ভাষায় বলতে গেলে, মানবিক শিক্ষা আমাদের পরিচিত করে সেই ‘‘still sad music of humanity’’ -এর সঙ্গে, যা মানুষকে মানুষ করে তোলে।

ফলাফল : ছাত্রভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়া, কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকী পুরো বিভাগ বিলোপের ঘটনাও ঘটছে। অথচ মানব civilisation -এর বোধ, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, ভাষা, সৃজনশীলতা, সব কিছুর ভিত্তি তৈরি করে মানবিক শিক্ষাই।

মানবিক বিভাগের উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান দেওয়া নয়; তা মানুষ হওয়া শেখানো। মানবিক বিষয় পড়লে একজন শিক্ষার্থী ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বোঝে, মানব আচরণের জটিলতা উপলব্ধি করতে শেখে, নৈতিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং চিন্তার স্বাধীনতা অর্জন করে। সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক কাঠামো, সংস্কৃতি, ভাষা সবকিছুর গভীর অনুধাবন গড়ে ওঠে। এ কারণে বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজে মানবিক বিষয়ের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। অনেকেই মনে করেন মানবিক পড়লে চাকরি পাওয়া কঠিন। কিন্তু বাস্তবে মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা, যেমন ভাষার সাবলীল ব্যবহার, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি, সাংস্কৃতিক বোধ তাদেরকে কর্মক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলে। শিক্ষকতা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, লেখালিখি, গবেষণা, সামাজিক কাজ, অসংখ্য ক্ষেত্রে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলো ছড়াচ্ছেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে বহু দৃষ্টিশীল রাষ্ট্রনায়ক, যাদের লক্ষ্য ছিল ‘পরবর্তী নির্বাচন নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্ম’ তাঁরাও মানবিক পড়ুয়াদের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান যুগে মানবিক শিক্ষাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বা ‘অর্থহীন’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির জয়যাত্রার আড়ালে লুকিয়ে যাচ্ছে মানবিকতার আলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগের ভূমিকা কমে যাওয়া শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি নয়, সমাজের নৈতিক পরিকাঠামোর জন্যও বিপজ্জনক সংকেত। কারণ STEM প্রবাহের সঙ্গে মানবিক চিন্তাভাবনার ভারসাম্য বজায় না থাকলে সমাজে তৈরি হয় এক ধরনের শূন্যতা। যেখানে মানুষ হয়ে ওঠে যন্ত্রচালিত, যুক্তিনিষ্ঠ হলেও আবেগহীন; বাস্তববাদী হলেও সহমর্মিতাহীন; অগ্রসর হলেও বিচ্ছিন্ন।

এ কারণে সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক, বাজারনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি একসময় গড়ে তুলতে পারে এমন একটি প্রজন্ম, যারা সীমাহীন ভোগবাদে অভ্যস্ত হবে, কিন্তু আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে হবে নিস্পৃহ। অতিরিক্ত STEM কেন্দ্রিক শিক্ষা সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা এবং সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু (Jawaharlal Nehru) এই বিষয়ে বহু আগেই বলেছিলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র নয়; এটি মানবতাবোধ, সহনশীলতা, যুক্তিবাদ এবং ‘সত্যের অনুসন্ধান’-এর জায়গা। নেহরুর মতে, বিজ্ঞান ও মানবিক চর্চা পাশাপাশি এগোতেই পারে, বরং এগুলো পরস্পরকে সমৃদ্ধ করে। প্রযুক্তিকে মানবিকতার স্পর্শ না দিলে তা মানবজীবনকে যান্ত্রিক করে তুলবে, এ কথাও তিনি সতর্কভাবে তুলে ধরেছিলেন। তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় যখন তিনি বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মানবতা, যুক্তিবাদ ও মুক্তচিন্তার প্রতীক হিসেবেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।”
জার্মান-মার্কিন দার্শনিক হার্বার্ট মার্কুজে (Herbert Marcuse), তিনি ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল’-এর বিখ্যাত একজন তত্ত্ববিদদের, সতর্ক করেছিলেন যে মানবিক শিক্ষাকে উপেক্ষা করলে সমাজ গড়ে তোলে “one-dimensional man” যে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়, ভাবতে ভুলে যায় এবং ক্ষমতাকাঠামোর সামনে আত্মসমর্পণ করে। প্রযুক্তিনির্ভর, ভোগবাদী সংস্কৃতি মানুষকে ‘উপযোগিতা’র ফাঁদে ফেলে। এই ‘উপযোগিতা’ কেন্দ্রিক শিক্ষা মানুষকে শেখায় কিভাবে কাজ করতে হবে, কিন্তু শেখায় না কেন করতে হবে; শেখায় কিভাবে বাঁচতে হবে, কিন্তু শেখায় না কেন বাঁচতে হবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরা প্রকৃতির রহস্য বুঝতে চান, এটা সত্যি। কিন্তু মানুষের অভ্যন্তরীণ জগৎ, আবেগ, সহমর্মিতা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এসবের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় মানবিক শিক্ষায়। কবি ও দার্শনিকদের ভাষায় বলতে গেলে, মানবিক শিক্ষা আমাদের পরিচিত করে সেই ‘‘still sad music of humanity’’ -এর সঙ্গে, যা মানুষকে মানুষ করে তোলে। অতএব স্পষ্ট, প্রযুক্তির উৎকর্ষ যতই বাড়ুক, মানবিক বিভাগের স্থান সমাজে অক্ষুণ্ণ থাকা জরুরি। বিজ্ঞান ও মানবিকতার মিলিত ভারসাম্যই গড়ে তুলতে পারে একটি সমৃদ্ধ, যুক্তিবাদী ও মানবিক সমাজ। শুধু তথ্য নয়, প্রয়োজন অনুভূতিও; শুধু অগ্রগতি নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতাও। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মানবিক শিক্ষাকে প্রান্তিক করার প্রবণতা থামাতে হবে। নচেৎ আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করব, যারা প্রযুক্তিতে দক্ষ হলেও মানবিক বোধে শূন্য, যেখানে বিজ্ঞান এগোবে ঠিকই, কিন্তু মানবতা পিছিয়ে পড়বে।🍂

 

 

🍂কবিতা

 

স্বপন দত্ত -এর একটি কবিতা

হ্যালো, দেবব্রত

দেবব্রত, হ্যাঁ হ্যাঁ, দেবব্রত না হলে মহাভারত হত না
আর মহাভারত না হলে কুরুক্ষেত্র –
কুরুক্ষেত্র ছাড়া ধর্মক্ষেত্র –
কিন্তু, এগুলি কী সত্যিই হয়েছিল?

কেমন যেন ভয় লাগে!
কেউ রইল না। একমাত্র পাহারাদার, ইজ্জতদার কৃষ্ণও নয়।
তাহলে, সবই কেমন…

ইতিহাস বলছে, ভূগোল বলছে,
আমরা– এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যতগুলো আছে,
সব একের থেকে একে
আরও দূরে, দূরে দূরে…
সবাই একে-একে একাকার
সবাই কেবলই প্রত্যেকের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
যত ব্রহ্মাণ্ড বিশ্ব আছে—

মজার কথা, আমরাও তাই।
আরও মজার কথা, মহাভারতও তাই।
তাহলে কুরুক্ষেত্র, দেবব্রত, ধর্মক্ষেত্র, দেবব্রত—
দেব-ই বা কী, ব্রতই বা কী!
শুধু জানি, আপনাতে আপনি রত, মৈথুন, সঙ্গম
এক বিরল মাটি নিয়ে কাড়াকাড়ি—
পারমাণবিক নয়, মানবিক, আনবিক, হানাহানি, টানাটানি—
দূরে দূরে একে-একে একাকার।

 

বৃন্দাবন দাস -এর একটি কবিতা

আমাদের কারসাজি আমাদের ধর্ম 

অনেকগুলো মিথ্যে জড়ো করে আমরা ধর্ম বানাচ্ছি

আমাদের ধর্মের নাম লোভ লোভ আরো লোভ
যারা যারা খুব কাছের এবং নিভৃতের
তাদের সঙ্গেই বানিয়ে তুলছি ধ্বংসের সংসার
বানিয়ে তুলছি মিথ্যের রাষ্ট্র
বানিয়ে তুলছে চরম হিংসার ইমারত

কেউ আমার সঙ্গে থাক বা না- থাক
আমার তবিলে অর্থের স্রোত জমবে

আমি অন্তত দেখাতে পারবো কে কে আমার
কে কে অন্তরীক্ষ-মুলুকের কাছে যেতে প্রস্তুত
কে কে দাঙ্গার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছে
কে কে অদৃশ্য ফরমান মেনে
হত্যা লীলায় কুণ্ঠিত হবে না

আমি অবিসংবাদি এক দেবতা হয়ে যাব
আমার নামে থান (বেদী) হবে
আমার নামে গান হবে
আমার নামে কেউ কেউ অহংকারী হবে
মাহাত্ম্যে মাহাত্ম্যে ছয়লাফ হবে সংসার

যাদের কেউ নেই তাদের কেউ না থাকাই ভালো

এসব হবে বলেই না আমি ধর্ম পুষছি

 

 

তৈমুর খান -এর দু’টি কবিতা

বাঁশি 

খুব ভালো বাঁশি বাজাচ্ছ
আমার বিশ্রাম ঘুমিয়ে নিচ্ছে
এই জ্যোৎস্নায় আমিও জেগে জেগে
পার করছি রাত

সকালেই সূর্য আসবে
শিশির কণাদের ঝিকিমিকি পাঠশালা বসাবে
আমি আর আনন্দ যেতে যেতে
সব কথা হারিয়ে ফেলব রাস্তায়

আমাদের কি সংসার হবে?
বসন্তের খোলা জানালায় কয়েক টুকরো আতঙ্ক
হাসতে হাসতেই খুন করে দেবে সময়
আমরা চুপচাপ সময়ের আস্তাবলে ঢুকে যাব

প্রতিটি রক্তাক্ত মুখ আয়না দেখাবে না
সুরের লহরী মন ছুঁতে এসেও ছুঁতে পারবে না
সব প্রেমের লাশ কাল্পনিক শ্রদ্ধা এসে নিয়ে যাবে
আমরা নিজেদের বার্ধক্যের কাছে বাঁশির তারিফ করব শুধু

 

 

রূপকথা 

কয়েকটা বাঘ শুধু এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করে

আমরা ফুটবল খেলার মাঠে সব বেলা গড়িয়ে দিয়েছি
উঠোনে নষ্ট চাঁদের আলোয় কুড়িয়ে পেয়েছি
উড়ে যাওয়া স্বপ্নের ডানা
বাবা কথায় কথায় সিঁড়ি বানিয়ে দিয়েছে
আমরা টলোমলো পায়ে উঠতে চেয়েছি উপরের দিকে
আমাদের সাহস
শূন্যের উপর ভেসে থাকা
একটা চাবির মতো
অনেক উপরে তালা খুলতে খুলতে
তালা খুলতে খুলতে
পৌঁছে যাব বলে

আমাদের অন্ধকার ঘরে বিষাদ পড়ে আছে
বিষাদেরা জানি না কখন বাঘ হয়ে গেছে…

 

 

রেহানা বীথি -এর একটি কবিতা

আরশিযুগল

তোমাকে স্মরণে নাই আমার
আমার স্মরণ বিস্মরণের পথ ধরে ছুটছে

তুমি কি গান গাইতে?
বাজিয়ে একতারা বা ভায়োলিন?
মনে পড়ছে না, মনে পড়ছে না…

ঘুণপোকা কাটছে কিছু
করকর… করকর…

কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো আরশি বোধহয়
ক্ষয়ে গিয়ে খুলে পড়বে ঝনঝন!

মুখোমুখি দাঁড়াই একবার
একবার পূর্ণরূপ দেখি নিজের
যদি, হারিয়ে যাই!

 

 

মিতা নূর -এর একটি কবিতা

বছরের শেষে ডিসেম্বর

ক্যালেন্ডারের পাতাটাও উল্টাতে সময় লাগে,
অথচ সময় লাগে না শুধু মানুষের মন বদলানোর।
কী নিখুঁত ভাবে বুঝিয়ে দেয় আমাদেরকে,
বছরের শেষে ডিসেম্বর—
সেই শীতের নিঃশব্দ সুর, যখন শহরের আলোগুলোও যেন থমকে যায়।
রাস্তার পাশে ঝরে পড়া হলুদ পাতাগুলো,
হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় সেই সব মুহূর্তগুলোকে,
যেগুলো আমরা ধরে রাখতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু সময়ের স্রোতে ভেসে গেছে – যা ছিল সব।
তবুও, প্রতিটি শ্বাসে এক নতুন আশা,
আবার নতুন করে শুরু করার প্রতিশ্রুতি,
কারণ, মনের পরিবর্তনটা তো আর থেমে থাকে না—
সে চলে যায়, নতুন পাতায়, নতুন অধ্যায়ে।
আর যখন ডিসেম্বরের শেষ ঘন্টা বাজে,
আমরা সবাই একটু থমকে দাঁড়াই,
ভাবি— কী হারালাম, কী পেলাম,
আর, কী অপেক্ষা করছে আগামী বছর।
এই শূন্যতা নয়, বরং একটা পূর্ণতা,
যেখানে অতীতের ছায়া আর ভবিষ্যতের আলো মিলে,
আমাদের মনকে, নতুন রূপে নতুন করে সাজিয়ে দেয়।

 

 

মমতা রায় চৌধুরী -এর একটি কবিতা

নদীর কাছে ফেরা 

চলো আবার নদীর কাছে যাই
নদীর মূল মন্ত্র একান্তে বসে
মনে প্রাণে এক করে নিই।
নদীর ধারাপাত নিই হৃদি মনে
আলাদা প্রশান্তি আর বহমানতার সাথে।
মনের সকল অন্ধকার হোক দূরীভূত
কলুষহীন উজ্জীবন শক্তিতে হই ভরপুর।

কৃত্রিম স্বার্থান্ধ ভালবাসার পাকে
আমরা যে প্রতিনিয়ত মরমে মরে আছি
তার থেকে মুক্তি পেতে চলো
একবার নদীর কলতান শুনি।
পৃথিবীর যত মেকি আড়ম্ভরতা , আর ভালবাসার বন্ধন ছিন্ন করি দৃঢ়তার সাথে।

তাই বলি চলো প্রকৃতির কাছে যাই
শিখি ওদের ভালোবাসার ভাষা।
নদী তো শুধু প্রকৃতির প্রতিধ্বনি নয়
এ যেন জীবন স্মৃতির এক অনন্য প্রতিধ্বনি
তাই বলি চলো নদীর কাছে ফিরি।

 

 

বিশ্বজিৎ মণ্ডল -এর একটি কবিতা

ট্র্যাপ 

বৃত্তের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম…
পেছন ফেরার পথ বলে কিছু নেই
নির্মোহ গোধূলি খেলছে, অবিরত

উৎপাতে ভুলে গেছি, ইষ্টনাম
ঘুঙুরের মতো পায়ে এসে বিঁধে গেল, দুর্বিপাক
যাকে নিয়ে ঘরছাড়া হব বলে বেরিয়েছিলাম প্রত্যুষে
বেলা বাড়তেই নিষেধনামা লিখে কেউ ছুঁড়ে দিল
অভিনব গন্তব্যের দিকে

আর পালানো হলো না–
জড়িয়ে গেলাম, অবিনাশী বৃত্তে
যেখানে ট্র্যাপ সাজিয়ে উদাত্ত পাহারা দিচ্ছেন
একদল বিগ্রেডিয়ার

 

 

শুভমিতা -এর একটি কবিতা

কোজাগরী পূর্ণিমা 

ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে ছিল কোজাগরীর ভরা আলো
ঠাকুমার হাতের নাড়ু লুচির গন্ধে
আমি আর চিকু দাদা লাফিয়ে লাফিয়ে সারা বাড়ি আলপনা দিতাম
লাল মেঝে ভরে যেতো খড়ি মাটির শাদা পদ্মে

মা কাকিমারা সবাই একসাথে
পুজোর আয়োজন করতে করতে
ঘরের বউ থেকে হয়ে উঠত ঘরের লক্ষ্মী
কোজাগরী মানেই ছিল, দোতলার ঘরে পূর্ণিমা উৎসব

কি উজ্জ্বল ছিল সেই- ছোটোবেলার রাতের আকাশ
আমরা সবাই ছিলাম
এক আকাশের নীচে

আজ পূর্ণিমা আছে
মা লক্ষ্মীর মূর্তিও বসে লাল পিড়িতে
কিন্ত, আকাশটা আজ আর এক নেই

চিকু দাদা আর আমার দেওয়া আলপনাগুলোউ নেই
মা লক্ষ্মীর মূর্তির মাঝ বরাবর
এক গভীর রেখা

ঠাকুমার বানানো নাড়কেল নাড়ু আর খাওয়া হবেনা কোনোদিন

কোজাগরী পূর্ণিমা এলেই
বুকের ভিতর স্মৃতির স্নিগ্ধ আলোফুলের অঙ্কুরোদগম হয়
চিনচিন করে বুকের শিরা উপশিরাগুলো

কোজাগরী পূর্ণিমার উৎসবে
চোখের জল অঞ্জলি হয়ে যায়

 

 

আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

পৃথিবীর বারান্দা মুখরিত হয়

উদ্বেগে উথলে ওঠে বাহু
অন্তহীন অভিসারে চুমু খায় প্রেমের পাখি

কড়া নির্দেশে ম মূহুর্মূহু গর্জে উঠে বুলেট
নীরব স্রোতে মেশে রক্তের ফুলকি
লুটোপুটি করে ফাগুনের রক্ত- মাখা ভাষা শহিদের অঙ্গীকার
মৃতময় ধূসর আল্পনা আঁকে মাতৃভূমির উঠোনে

বেহেশত থেকে দেখছে সালাম বরকত জাব্বারেরা
মাতৃভাষার ফেরেস্তারা খোঁজ করছে তাদের
স্মরণে লক্ষ পাখির কলতানে মুখর আজ পৃথিবীর বারান্দা

 

 

আত্মত্যাগের পতাকা

ভাষা-সমুদ্রে লেপটে আছে লোনা বিদ্রোহ
যুগেযুগে আন্দোলনের নৌকো পাড়ি দেয় চেতনার ঘাটে
রক্ত পতাকা ওড়ে মূলভাসি চেতনার মিনারে
দেশদ্রোহীতার তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বুকে এঁকে দেয় বুলেটের চিহ্ন

আবেগের কোমরে দড়ি পরায় রাষ্ট্র
ক্ষমতা পুরুষ নিজস্ব ভাষার সাজায় ডিঙি
আন্দোলনের সূর্য থেমে গেছে শহীদ মিনারের মাথায়
মিথ্যে স্বাধীনতার পাখি কখনও শিলচর কখন ঢাকার রাস্তায় ডানা ঝাপটায়
ক্ষমতা পুরুষের তাণ্ডব দ্যাখে অবশিষ্ট মানুষ
বিদ্যাসাগর থেকে জীবনানন্দ- বঙ্কিম থেকে মাইকেল- নজরুল থেকে জীবনানন্দ অক্সিজেন এদের

মাতৃভাষা পাথরের উপর রেখেছে আত্মত্যাগের পতাকা

 

 

প্রিয়াংকা নিয়োগী -এর একটি কবিতা

দামি মানুষ হবো

ঘন বাতাসের মতো
ঘন হবো
চমক রাখব কাজে

রঙিন
উদাহরণ হবো
জ্বলজ্বল করব।

আতশবাজির মতো হবো
পারদর্শী উদাহরণ, রাখব।

দৃষ্টিতে যত্ন
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
কঠোর থেকে কঠোর পরিশ্রমী হবো

মানুষের মনের মলম হবো
কষ্ট অপমানকে দেখিয়ে দেবো
আমি দামি মানুষ হবো।

চোখে ভাসবে সবার আমার মূল্য
তা ভালবাসার যত্ন
সবার কাছে অমূল্য রত্ন
আত্মিক বন্ধন থাকুক সর্বত্র
মূল্য বোধের বোধিসত্ত্ব
মানুষের মনে আমার ফটো

ভালবাসার প্রতীক হবো
টাকার থেকেও দামী রইব।

 

 

 

🍂ধারাবাহিক উন্যাস

 

কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।

 

শব্দদের রাত্রি হয়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

 

১১.

সানগ্লাসে সূর্যোদয় 

দিন কয়েকের মধ্যেই বদলে গেল হিরণ্যর চারপাশ। ছাত্রদের সামনে দাঁড়িয়ে পড়াতে পড়াতে হঠাৎ মনে হতে লাগল, তার ভিতর থেকে আবার শব্দ বেরচ্ছে। প্রশ্নের উত্তরে যখন কোনও ছাত্র হোঁচট খাচ্ছে, তখনও তার মাথায় কেবলই ঘুরছে কবিতার লাইন। ব্ল্যাকবোর্ডের সমীকরণের মাঝে খসখসে অক্ষরে যেন দেখা যাচ্ছে অন্য এক সমীকরণ, যেখানে যোগ-বিয়োগ হচ্ছে অক্ষরের, গুণ-ভাগ হচ্ছে ছন্দের।
খাতা গুছিয়ে রাতে বাড়ি ফিরলেই সে বসে পড়ত কাগজ-কলম নিয়ে। প্রতিটি লাইন যেন তাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছিল। প্রথমে ছোট ছোট টুকরো লিখত, তারপর একসময় কবিতাগুলো হয়ে উঠল পূর্ণাঙ্গ। তার ঘরের জানলা দিয়ে কুয়াশা ভেসে আসত, আর সে লিখত:
‘যে পথ ভুল বলে ডাকো তুমি,
সেই পথেই আমার শব্দেরা জন্ম নেয়।’
মীরা মাঝে মাঝে এসে বসত। সে হিরণ্যর লেখা পড়ে শোনাত, আবার গলাও মিলিয়ে দিত। গানের সঙ্গে কবিতা মিশে এমন এক আবহ তৈরি করত, যা শুনে মনে হত, শব্দ আর সুর আলাদা নয়, ওরা একই শরীরের দুই শ্বাস।

শব্দগুলো শেষ হতেই হলঘরে হাততালি বেজে উঠল। কিন্তু হিরণ্যর চোখ ভিজে উঠল। সে দেখল, দরজার কাছে দাঁড়ানো অরুণিমার মতো সেই ছায়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। শুধু মীরা রয়ে গেল, প্রথম সারিতে, তার দিকে তাকিয়ে। মীরার চোখে অশ্রু ঝিকমিক করছে। হিরণ্য বুঝল, অরুণিমা আর কখনওই ফিরবে না। সে ছিল স্মৃতি, এক অনিবার্য ছায়া। কিন্তু মীরা আছে, বর্তমানের আলো হয়ে।

এক সন্ধ্যায় মীরা হঠাৎ বলল,
—আপনি জানেন, আপনার কবিতার মধ্যে আমি আপনাকেই দেখি। যেন আপনি কাগজের ভেতরে লুকিয়ে আছেন।
হিরণ্য মৃদু হেসে জবাব দিল,
—আমি তো বরাবরই কাগজের ভেতরে থেকেছি। বাইরে আমার থাকার জায়গা কখনও ছিল না।
মীরা চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সেই চোখে ভরসা ছিল, টান ছিল, আর এক অদ্ভুত অনুরাগ। হিরণ্য বুঝল, এই মেয়েটি তাকে নতুন জীবন দিচ্ছে।
কিন্তু ঠিক সেই সময়েই, প্রতি রাতে ঘুমের ভেতরে অরুণিমা ফিরে আসত। সে আসত অভিযোগ নিয়ে, আবার ভালবাসা নিয়েও। এক রাতে স্বপ্নে অরুণিমা বলল,
—তুমি আমাকে ভুলতে পারলে না, অথচ অন্য কারও দিকে এগিয়ে যাচ্ছ? এটা কি সম্ভব?
হিরণ্য কেঁপে উঠেছিল। উত্তর দিতে পারেনি। মনে হয়েছিল, অরুণিমা যদি আজও সামনে এসে দাঁড়ায়, তবে কি সে সব ফেলে রেখে তার হাত ধরবে? নাকি মাথা নিচু করে বলবে, তুমি দেরি করে ফেলেছ’?
এই দ্বন্দ্বই তাকে দিন দিন অস্থির করে তুলছিল। কবিতা যেন একদিকে মুক্তি দিচ্ছিল, অন্যদিকে শেকলও পরাচ্ছিল।
একদিন কবিতা কর্নারে বড় অনুষ্ঠান হল। সৌম্য আগেভাগেই বলে রেখেছিল, ‘তোর কবিতা এবার পড়তেই হবে।’
মঞ্চে উঠে হিরণ্য কাগজ খুলল। ভিড় নীরব হয়ে গেল। তার চোখ ঘুরে গেল দর্শকদের দিকে। প্রথম সারিতে বসে আছে মীরা, চোখে উজ্জ্বলতা। আর ভিড়ের পেছনে, ঠিক দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে, অরুণিমা! না, সত্যিই কি সে? নাকি তার ভ্রম? সানগ্লাস চোখে, ঠোঁটের নিচে সেই কালো তিল।
হিরণ্যর বুক ধক করে উঠল। সে পড়া শুরু করল…
‘মনখারাপ গাঢ় হলে হাত থেকে ফসকে যায় নিঝুম দুপুর
তখন অনেক দূরে কথাগুলি থেমে তো থাকে না,
ফুটিফাটা সীমান্ত পেরিয়ে আসে স্বপ্নময় সাঁকো
ঘামতেল উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে অতীতপ্রতিমা… তোমাকেই দেখি

দেখি সেই ভাঙা আড্ডা, পাখিগুলি ঘর আঁকে শূন্যের ভেতর
রাত্রি রিচার্জ করে আলো ফোটে, আবার সকাল হয়
চোখ মেলে দেখছে জানালা
হাওয়ায় ভাসছে ঘুম এই শীতে, দূরের সকাল থেকে
হাত নাড়ে কেউ
আবার এসেছ আজ? বারবার যাতায়াত স্নায়ুকক্ষে
টেবিলে গল্পপাতা উড়ে যায়, ইন্ডিউসড ফ্যানের ঘর্ঘর , হ্যামিং সাউন্ড… কারখানা ছুটি হয়,
মেঘের ভেতর থেকে নেমে আসে নির্জনের ছিঁড়ে যাওয়া বিক্ষত দুপুর
আর কিছু রঙচঙে কথালিপি, গানের রেওয়াজ
তখন তো ফার্স্টইয়ার, কবিতা অনার্স,
ছায়া প্রজাপতি ওড়ে আজ আয়নায় নিজস্ব দেওয়ালে

শুধু এই জানুয়ারি জানে এখনও টেবিলে আছে ‘নিঝুম দুপুর’ লেখা খাম।

শব্দগুলো শেষ হতেই হলঘরে হাততালি বেজে উঠল। কিন্তু হিরণ্যর চোখ ভিজে উঠল। সে দেখল, দরজার কাছে দাঁড়ানো অরুণিমার মতো সেই ছায়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। শুধু মীরা রয়ে গেল, প্রথম সারিতে, তার দিকে তাকিয়ে। মীরার চোখে অশ্রু ঝিকমিক করছে। হিরণ্য বুঝল, অরুণিমা আর কখনওই ফিরবে না। সে ছিল স্মৃতি, এক অনিবার্য ছায়া। কিন্তু মীরা আছে, বর্তমানের আলো হয়ে।
মঞ্চ থেকে নামতে নামতে হিরণ্য অনুভব করল, অবাধ্য পা তাকে এই পথেই নিয়ে এসেছে, অতীতের ছায়ার মধ্য দিয়ে, বর্তমানের আলোর দিকে।
হলঘর থেকে বেরিয়ে এসে সে মীরার পাশে দাঁড়াল। বলল,
—আজ মনে হচ্ছে, আমি আবার বাঁচতে পারি।
মীরা হেসে বলল,
—তাহলে আপনার অবাধ্য পা’কে ধন্যবাদ দিন।
হিরণ্য থমকে দাঁড়াল। সত্যিই তো—এ পা-ই তাকে বারবার ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিল, অথচ সেই ভুল পথই তাকে সত্যি পথের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সে নিজের ভেতরে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করল। মনে হল, অবাধ্য পা আসলে নিয়তির নাম, আর নিয়তিই তাকে আবার কবিতার দিকে ফিরিয়ে এনেছে।🍁 (চলবে)

 

 

 

🍂ধারাবাহিক রস্য উন্যাস
সাহিত্যিক তাপস রায়। সাম্প্রতিককালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও কবি। লেখকের প্রকাশিত ভিন্নধর্মী পুস্তকগুলি পাঠকদের মনে জাগরণ তৈরি করে। রহস্য কাহিনিতে লেখক প্রাণের ছোঁয়া পান। তেমনি একটি রহস্য উপন্যাস সাশ্রয় নিউজ-এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর পাঠকদের জন্য।

কিশাণঞ্জের ফেলুদা

তাপস রায়

২৭.
ফেলুদা সামনে গিয়ে হতবাক আর বোঁদেও প্রায় কেঁদে উঠেছে। এতক্ষণ ভাবছিল সে, গুণ্ডাদের হাতে পড়েছে, আর প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরা যাবে না। পঙ্কজের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মোবাইল কেড়ে নিয়েছে।
সমুন্দর এসে বলল, এটা একটা মেয়ের পেছনে ছুকছুক করতে করতে ঢুকছিল বস। এটাকে কাত করতে তাই বেগ পেতে হয়নি। ফেলুদা এক হাত জিভ কেটে সমুন্দরকে বলে, ‘ওরে করেছিস কি! ওর বাঁধন খুলে দে, এটা তো আমার ছোটো ভাইয়ের মতো। ও এই রিসর্টের কেউ নয়, ও কিশানগঞ্জের ছেলে।
বাঁধন খোলা পেয়ে বোঁদে কলকল করে উঠল। ‘তখন থেকে আমি বলছি, এরা শুনছে না। বলছে, ধরা পড়লে লোকে অমন বলে।’
‘তা তুই এখানে কী করছিস রে বোঁদে? কখন এসেছিস, কেন?’
‘গুরু একটা অন্যায় তো হয়েছেই, তোমাকে না জানিয়ে এই কেসটার জট খুলতে এসেই তো এই হাল। তা গুরু জানো, তোমার গঙ্গারামকে উদ্ধার করে ফেলেছি। সে এখন আমার হেফাজতে। বলো তো রুম থেকে নিয়ে আসি। আমার ট্রলি ব্যাগে শুয়ে আছে। এখন মনে হয় ঘুম ভেঙেছে তার।’

পুলিশ প্রধান কথা পাড়লেন, ‘আমরা কোথা থেকে শুরু করব, মিঃ ফেলু? আমি ইতিমধ্যেই মন্ত্রীমশাইকে ফোন করে দিয়েছি। সব খবর জানিয়েছি। আপনি ঠিক আছেন বলে দিয়েছি। আর বলেছি, ফেলুদা আর পঙ্কজ থাপাকে পুলিশের বাইরের পুলিশ পদক দিয়ে এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসে সম্মাননা জানান হবে।’
বোঁদের মুখ ফসকে কথা বেরিয়ে গেল, ‘আর আমি!’ তার হাতে তখন গঙ্গারামের বকলস। সে গঙ্গারামের মাথায় আদর করে দিচ্ছিল। ফেলুদা বললেন, ‘পঙ্কজ থাপাই এই অভিজানে নায়ক। আর তার সঙ্গে আমাদের কিশানগঞ্জের বোঁদে।

ফেলুদাকে বিস্মিত করে দিয়ে বোঁদে নিজের কীর্তি কলকল করতে করতে বন্ধু পঙ্কজ থাপার কথা তোলে। বোঁদের মুখে পঙ্কজ থাপার কথা শুনে পেছনে দাঁড়ান অ্যাসিস্টান্ট পুলিশ সুপার সাহেব বললেন, ‘হ্যাঁ সেই তো আমাকে স্পেসিফিক ক্লু দিয়েছে। খুব ভাল ছেলে। তার জন্যই তো গ্যাংটাকে ট্রেস করা গিয়েছে। নার্কোটিক অফিসাররা চলে গিয়েছে কালিম্পং বাজার, শিলিগুড়ি বাসস্ট্যাণ্ড, দার্জিলিং ম্যাল-এ ঘোড়ার আস্তাবল পর্যন্ত। আজ বেশ বড়সড় আকারের ড্রাগস উদ্ধার হবে আশা করি। বাট, হোয়ার ইজ পঙ্কজ?’
এস পি সাহেব, অ্যাসিস্ট্যান্ট এস পি সাহেব, আর বোঁদেকে সঙ্গে নিয়ে ফেলুদা সমুন্দর সিং-এর পেছন পেছন এগোলেন। কটেজের পেছনে, কটেজের বাইরে, কটেজের বারান্দায় মোমের পুতুলের মতো হাত-পা বাঁধা লোকজন সব দাঁড়িয়ে, বসে। যাকে যেভাবে রাখা হয়েছে তারা ঠিক সেভাবেই সেখানে। মানে উপায় তো নেই। হাত পা বাঁধা। মুভ করতে গেলেই উপুড় হয়ে পড়বে।
ওভারকোট পরা একটা লম্বা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বোঁদে চেঁচাল, ‘গুরু, ওই তো আমার বন্ধু পঙ্কজ থাপা। বলো বলো তোমার লোককে বলো বাঁধন খুলে দিক।’
বাঁধন খোলার পর অ্যাসিস্টান্ট এস পি সাহেব এসে পঙ্কজ থাপার সাথে করমর্দন করে বললেন, ‘য়্যু হাভ ডান আ গ্রেট জব মিঃ থাপা। উই সাকসিড টু অ্যাপ্রিহেন্ড দ্যাট মান য়্যু পয়েন্টেড আউট। অ্যান্ড হি ইজ নাউ ইন্টারোগেটেড বাই মাই কলিগস। সুন উই উইল মিট।’
পঙ্কজ থাপা বলল, ‘ম্যাডাম কর্মা কোথায়?’
‘ফ্রন্ট অফিস থেকে তাকে ধরা হয়েছে। আমাদের মহিলা পুলিশ এলেই তাকে এখানে নিয়ে আসা হবে।’
‘স্যর, সবচে কুখ্যাত, এই রিসর্টের চিনাম্যান কে আমার লোকেরা ধরে ফেলেছে। সে আর্মস স্মাগলার। তার ঘরে অনেক বিদেশী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। এমনকি ওর বালিশের তলায় জার্মান কোল্ট রিভলবার ছিল।’
এস পি সাহেব পঙ্কজ থাপার এই কথায় বিস্মিত আর তুমুল উৎসাহিত বোধ করলেন, ‘কোথায় কোথায় সে?’
পঙ্কজ নিজের পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল বের করতে করতে বলল, ‘স্যার, আমি কি ফোন করতে পারি?’
অ্যাসিস্টান্ট পুলিশ প্রধান বললেন, ‘হ্যাঁ পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
একটু বাদে দেখা গেল, নিজের ক্রুশকাঠ যেমন যীশু খৃষ্ট নিজেই বহন করে পথ চলছিলেন, তেমন একটা দৃশ্য। কাছাকাছি হতেই পেছন থেকে আসা একজন সাস্থ্যবান যুবক পঙ্কজের কাছে এসে বলল, ‘স্যার, রিসর্টের আর সব কর্মচারীকে ট্যাকল করতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু এই লোকটা বেশি তড়পাচ্ছিল। এ নাকি বিজ্ঞানী। কিন্তু এর ঘরটাই অস্ত্র ভাণ্ডার। কত যে চায়না মেড কলাশনিকভ, তা পঁচিশ ত্রিশটা হবেই। এই লোকটাই বেগ দিয়েছে। বেটা কুং ফুও জানে। কিন্তু আমার এক রদ্দা ঘাড়ে খেয়ে খানিকটা নিস্তেজ হতেই ওকে ওর সিঙ্গল বেডের সঙ্গেই বেঁধে ফেলেছি। ওই বেড শুদ্দু এসেছে।’
পঙ্কজ থাপা তার গ্যারেজের পার্সোনাল সিকিউরিটির লোকটির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে কাঁধ চাপড়ে দিল।
অ্যাসিস্ট্যান্ট এসপি এবার এসপি সাহেবের দিকে ঘুরে বললেন, ‘স্যার আমি ভিডিওকরার লোক ডেকেছি। এদের সবাইকে একটা বড় জায়গায় নিয়ে ভিডিও করলে সবার কথা, সবার ছবি থাকলে, কোর্টে প্রোডিউস করার সময় সুবিধে হবে। না হলে কে কোথায় ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যাবে।’
‘না না কোনো ফাঁক-ফোকর রাখা যাবে না। এখনই এই রিসর্টের কোণে কোণে ফোর্স পাঠিয়ে দাও।’
‘স্যর, সে বন্দোবস্ত আমাদের আগেই সে বন্দোবস্ত পঙ্কজ থাপা নিজের বাহিনী দিয়ে করেছে। বোর্ডারদের ডিস্টার্ব না করে, পঙ্কজ আর ওর জুটি ওই যে বাঙালি ছেলেটা বোঁদে না কী যেন, গোটা রিসর্টকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। বাইরের লোকজনের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর আমাদের ফোর্স সকাল আটটা থেকেই পঙ্কজের বাহিনীকে সরিয়ে নিজেরা পোস্টিং নিয়েছে। এখান থেকে বের হওয়া বা ঢোকা আমাদের নির্দেশ ছাড়া হবে না।’
এবার ফেলুদা মুখ খুললেন, ‘তিন তিনে চাপা চু’-র পথ কিন্তু অরক্ষিতই। শুধু আমার ভটভটির মাঝি ওই পথের শেষে দাঁড়িয়ে আছে।’
পুলিশ প্রধান আর পঙ্কজ থাপার জিজ্ঞাসু চোখের সামনে ফেলুদা হাত নেড়ে জঙ্গলের ভেতর একটা সরু পথের হদিশ দিয়ে তার বৃত্তান্ত বললেন। যে পথ শেষ হয়েছে তিস্তার বুকে।
‘অর্কিড’ ডাইনিং হলের সামনে বনফায়ারের জন্য অনেকখানি জায়গা রাখা আছে। পঙ্কজের গ্যারেজের সিকিউরিটির লোকেরাই সেখানে পুলিশ প্রধানের নির্দেশে ডাইনিং হল থেকে চেয়ার টেবিল এনে পাতিয়ে ফেলল। সমুন্দর সিং, বোঁদে হাত লাগাল রিসর্টের নিজেদের তৈরি গ্রীণ টি বানাতে। ওরাই এখন সব। গোল হয়ে চেয়ার টেবিলে বসেছে সবাই। চিনাম্যানকে তার বেড সহ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সবাইকে কর্ডন করে রেখেছে কালিম্পং পুলিসের একটি বিশেষ দল।
পুলিশ প্রধান কথা পাড়লেন, ‘আমরা কোথা থেকে শুরু করব, মিঃ ফেলু? আমি ইতিমধ্যেই মন্ত্রীমশাইকে ফোন করে দিয়েছি। সব খবর জানিয়েছি। আপনি ঠিক আছেন বলে দিয়েছি। আর বলেছি, ফেলুদা আর পঙ্কজ থাপাকে পুলিশের বাইরের পুলিশ পদক দিয়ে এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসে সম্মাননা জানান হবে।’
বোঁদের মুখ ফসকে কথা বেরিয়ে গেল, ‘আর আমি!’ তার হাতে তখন গঙ্গারামের বকলস। সে গঙ্গারামের মাথায় আদর করে দিচ্ছিল। ফেলুদা বললেন, ‘পঙ্কজ থাপাই এই অভিজানে নায়ক। আর তার সঙ্গে আমাদের কিশানগঞ্জের বোঁদে। ওরা না থাকলে এই এতবড় গ্যাং ধরা পড়ত না। ওরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র কুকুরের জন্য লড়ে গেছে, তা অভূতপূর্ব। আমি তো হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। গঙ্গারামকে খুঁজে আনার পুরো কৃতিত্ব এই বোঁদে আর পঙ্কজ থাপার।’
এবার পঙ্কজ থাপার স্বর। সে দু’কাপ চা চেয়ে নিয়েছে। সারা রাত জেগে চোখ জ্বলে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কাপে চুমুক দিয়ে বলল, ‘ক্রেডিট গোজ টু বোঁদে। ও-ই আমাকে এমন সব ছবি আর ভিডিও ক্লিপিং পাঠাচ্ছিল যে মাথা জ্বলে যাচ্ছিল। ও-ই আমাকে তাড়া দিয়ে ‘হেভেনহোকাস-পোকাস’-এ অনলাইনে রুম বুক করিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে। বোঁদেই বুদ্ধি করে ক্লোরফর্ম দিয়ে কুকুরটাকে নিজের হেফাজতে নিয়ে অর্ধেক কাজ হাসিল করে দিয়েছিল। কারণ ওই কুকুরটাই সারারাত হেভেনে ঘুরে ফিরে ক্লোজ সার্কিট টিভির ক্যামেরার কাজ করত। ওর চোখ দিয়ে দেখতেন ম্যাডাম কর্মা আর মেন হাউস-এর সিকিউরিটি গার্ডরা।’ (চলবে)

 

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ বিভাগের লেখা আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন