কৌশিক রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচবিহার : কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে (Madanmohan Temple) পুজো দিয়ে রাজ্যের মানুষের মঙ্গলকামনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার সকালে তাঁর কোচবিহার সফরের শেষে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি জানান, বাংলার শান্তি, সম্প্রীতি ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের চিরন্তন সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করাই তাঁর প্রার্থনা। মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, রাজ্যের প্রতিটি মানুষের জীবনে কল্যাণ বর্ষিত হোক, দূর হোক বিদ্বেষ ও অশুভ শক্তি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, “সর্বধর্ম সমন্বয়ে পবিত্র হোক শান্তি-সম্প্রীতির পুণ্যভূমি এই বাংলা। আজকে কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান মদনমোহন মন্দির দর্শন করলাম। রাজ্যের সকল নাগরিকের মঙ্গল কামনায়; আমি পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি। ঈশ্বর যেন সবার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি বর্ষণ করেন। মদনমোহন মন্দির কোচবিহারের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমার প্রার্থনা, ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমার ধাত্রীভূমি থেকে সকল বিদ্বেষ মুছে যাক। বিনাশ হোক সকল অশুভ শক্তির।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই কোচবিহারসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে মদনমোহন মন্দির। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দির শহরের রক্ষাকবচ। সেই তীর্থের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতির কামনা মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় বিশেষ তাৎপর্য এনেছে।
কোচবিহারের এই মন্দিরের ইতিহাসও গৌরবময়। শতাব্দীপ্রাচীন মদনমোহন মন্দির স্থানীয় রাজপরিবারের নির্মিত একটি ঐতিহ্য, যা আজও পর্যটক ও ভক্তদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতি বছর রাশযাত্রা উৎসবে লাখো মানুষ এখানে জমায়েত হন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফর ও প্রার্থনা স্থানীয় মানুষের কাছে একটি আবেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যে ‘ধাত্রীভূমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা তাঁর নিজের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বরাবরই বাংলার বহুত্ববাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি লাইনেই সেই বিশ্বাস আবারও স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি শুধু প্রার্থনার কথা বলেননি, বরং ভবিষ্যতের বাংলা কেমন হওয়া উচিত, তার একটি দর্শনও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন বাংলার ভূমি সর্বদা শান্তির, সহাবস্থানের এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসার প্রতীক। তাঁর বার্তা যেন সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্টকে উদাহরণের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। কারণ বর্তমান সময়ে দেশ জুড়ে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা উচ্চারণ যথেষ্ট তাৎপর্যবহ। বিশেষ করে, উত্তরবঙ্গের জনজীবন এবং প্রশাসনিক পরিবেশে মদনমোহন মন্দিরের গুরুত্ব সবার কাছে পরিচিত। তাই মন্দির দর্শন ও প্রার্থনা স্থানীয় মানুষকে আবেগে ভরিয়ে দিয়েছে। মন্দির কমিটির সদস্যদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরে ভক্তদের মধ্যেও নতুন উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয়দের একাংশ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখনই উত্তরবঙ্গে আসেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন, ধর্মস্থানেও যান, এর ফলে মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মানুষের প্রতি এক নিকটতার বার্তা বহন করে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মন্দির চত্বরে আধুনিকীকরণ, পর্যটন বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই রয়েছে। মদনমোহন মন্দিরকে কেন্দ্র করে নতুন সড়ক, বিশ্রামাগার এবং আলো-ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ফলে এই পরিকল্পনা আরও গতি পাবে বলেই আশা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের। সামাজিক মাধ্যমেও মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা দেখান এবং সর্বদা সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন, এটাই বাংলার প্রকৃত চিত্র। আবার কেউ লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রার্থনা বাংলার সামাজিক কাঠামোকে আরও শান্ত ও সহনশীল করবে। মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থনা শুধু এক ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিজ্ঞতা নয় বরং তা বাংলার বহুত্ববাদী চিন্তার পুনর্নিশ্চয়ন। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে শান্তি, কল্যাণ, সম্প্রীতি এবং বিদ্বেষহীন এক বাংলার স্বপ্ন। রাজ্যের মানুষের জন্য সেই স্বপ্নই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee on Assam NRC | ‘অসমের বাংলায় চিঠি পাঠানোর অধিকার নেই, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখালে কড়া ব্যবস্থা’ : কোচবিহার থেকে সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়




