সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বারাণসী : অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut) সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই নানা বিতর্কে আসেন। কখনও মন্তব্যের কারণে, কখনও মত প্রকাশের জন্য। কিন্তু এ বার তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন ধরনের বিতর্ক। অভিযোগ, বারাণসীর পবিত্র রাস্তায় আবর্জনা ফেলে শহর নোংরা করেছেন কঙ্গনা। আর সেই অভিযোগ উঠতেই পাল্টা গর্জে উঠলেন তিনি, জানালেন, সবকিছুই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার। সম্প্রতি কঙ্গনা তাঁর বারাণসী (Varanasi) সফরের কিছু ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে আনেন। সেই ভ্রমণে স্থানীয় টিকিয়া-ছোলা খেতে দেখা যায় তাঁকে। আনন্দে মগ্ন সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই একদল নেটাগরিক অভিযোগ তোলেন, খাওয়া শেষ করার পর অভিনেত্রী নাকি ব্যবহৃত প্লেটটি সরাসরি রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেছেন। তাঁদের দাবি, দেশের অন্যতম পবিত্র শহরের রাস্তায় এই আচরণ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অশোভন। অভিযোগকারীদের যুক্তি, একজন সাংসদ হয়ে কী ভাবে তিনি এ ধরনের কাজ করতে পারেন? কিন্তু বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনা সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শেয়ার করেন কয়েকটি স্ক্রিনশট এবং ভিডিও, যেখানে দেখা যায়, যে জায়গায় তিনি দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছিলেন, ঠিক তাঁর পায়ের কাছে একটি আবর্জনা ফেলার পাত্র রাখা ছিল। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ‘আমি নির্দিষ্ট স্থানে প্লেট ফেলেছি। রাস্তায় কোনও আবর্জনা ফেলিনি।’

অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্যে কঙ্গনার কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য, ‘মিথ্যে অভিযোগ করতে হলে অন্তত চারপাশটা ভাল করে দেখে নিন। যাতে পরে আপনাদের বক্তব্যই হাস্যকর প্রমাণিত না হয়।’ আরও লেখেন, ‘বারাণসী কেন, আমি কোনও শহরকেই নোংরা করি না। ব্যক্তিগতভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমার অভ্যাস।’ কঙ্গনার দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে ‘ট্রোল’ করার উদ্দেশ্যে ওই আবর্জনা পাত্রটিকে ছবি থেকে সরিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে মনে হয় তিনি সত্যিই রাস্তায় প্লেট ফেলেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে বহু বারই কঙ্গনা সামাজিক মাধ্যমে ‘টার্গেট’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে কখনও পিছপা হননি তিনি। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই অভিযোগকেও তিনি ‘ফেক ন্যারেটিভ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘যাঁরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করতে চান, তাঁদের ষড়যন্ত্র এবারও ব্যর্থ হল।’ এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে কঙ্গনার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘পুরো ভিডিও না দেখে অভিযোগ করা ঠিক নয়।’ অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, ‘সেলিব্রিটিদের উচিত প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সতর্ক থাকা। প্রকাশ্যে কোনও ভুল হলে তার প্রভাব বেশি হয়।’ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অবশ্য কঙ্গনার দাবি সমর্থন করার মতো উপাদান দেখা যায়। আবর্জনা পাত্রটি তাঁর একেবারে সামনে থাকা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ার একটি অংশ যে হঠাৎ করে অভিযোগ তুলল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কঙ্গনার দলীয় সমর্থকরা বলছেন, ‘এটা প্রতিনিয়ত ঘটে। কঙ্গনা যা-ই করেন, তার মধ্যে থেকে ভুল খোঁজার চেষ্টা চলে।’

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। যেহেতু তিনি বিজেপির সাংসদ, তাই সমালোচকেরা এটিকে আবারও ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং কোনওভাবেই পরিবেশ নোংরা করেন না। কঙ্গনার এই প্রতিক্রিয়ার পর একাংশ নেটাগরিক তাঁর প্রকাশ করা স্ক্রিনশট দেখে দাবি করছেন, ‘অভিযোগটি ভুল ছিল, এবং অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।’ ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কোনও সেলিব্রিটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্যি, আর কতটাই বা সাজানো? এদিকে কঙ্গনা জানিয়েছেন, তিনি এসব বিতর্কে বিচলিত নন। তাঁর ভাষায়, ‘এ ধরনের নাটক তো আজ নতুন নয়। সত্য সামনে এলেই সব থেমে যায়।’ বারাণসী ভ্রমণে কঙ্গনার শেয়ার করা ভিডিওতে তাঁকে সাধারণ মানুষের মতো আনন্দে স্ট্রিট ফুড উপভোগ করতে দেখা গেছে। সেই মুহূর্ত থেকেই মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল প্রবল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘুরে গিয়ে অভিযোগের ঝড় ওঠায় অভিনেত্রী-সাংসদ ক্ষুব্ধ হন। যদিও প্রমাণ সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, ডিজিটাল যুগে ছবি বা ভিডিওর কোনও অংশ বাদ দিয়ে তৈরি ন্যারেটিভ খুব দ্রুতই মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। আর সেই ভুল ধারণাকেই ভেঙে দিতে এবার কঙ্গনা নিজেই সামনে এলেন, নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করলেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kangana Ranaut daughter remark | কঙ্গনা রানাউত এর মন্তব্যে তোলপাড়! ‘কন্যাসন্তান নয়, সবাই পুত্রসন্তানই চান’ বলিউড থেকে সাধারণ মানুষ, বিতর্ক




