সম্পাদকীয়
এই সময় মানুষের মুখ বদলে গিয়েছে, কথার রং বদলে গিয়েছে, চোখের ভেতরের সত্যও যেন অচেনা হয়ে উঠেছে। আমরা এমন এক যুগে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রতিদিনের জীবনের চেয়ে খবরের শিরোনাম বড় হয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষের প্রয়োজনকে মাপা হচ্ছে সংখ্যায়, আর সম্পর্ককে মাপা হচ্ছে সুবিধার তুলাদণ্ডে। অথচ এই সময়ই আমাদের শেখাচ্ছে অস্থিরতার মধ্যেও জীবনকে বুঝে নিতে হয়। এ-যেন ছুটে চলা মানুষের মন-মানচিত্র।

সবাই দৌড়চ্ছে বেঁচে থাকার তাগিদে, প্রমাণের প্রয়োজনে, সমাজের চোখে সফল হবার দাবিতে। অথচ আমরা ভুলে যাচ্ছি, জীবনের আসল মানে আসলে থেমে গেলেই বোঝা যায়। সময়ের স্রোত যেমন বয়ে যায়, তেমনি আমরা বয়ে যাই একদল উদ্বিগ্ন মানুষ হয়ে, যে মানুষ নিজেরই মুখ খুঁজে পায় না আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। তবু এই সময়ের মধ্যেই আছে অজস্র আলো। অসহিষ্ণুতার ভিড়ে এক মুঠো সহানুভূতির হাত এখনও বাড়ে, বিভেদের অন্ধকারে এখনও কেউ কেউ বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বালায়, অশান্তির কেন্দ্রেও কিছু মানুষ ভালবাসতে শেখে নীরবে, নিভৃতে। এই সময় আমাদের মনে করায় মানুষের উন্নতি শুধু প্রগতির গ্রাফে নেই, আছে হৃদয়ের ভিতরেও। মানুষের শক্তি শুধু মেশিনে নেই, আছে বিশ্বাসের ভাঁজেও। মানুষের ভবিষ্যৎ কেবল যন্ত্র আর নতুন প্রযুক্তির জয়যাত্রায় নয়, রয়েছে মানবিকতার পুনর্জাগরণে। এই সময় আমাদের চোখ খুলে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ার শোরগোল যতই বাড়ুক, একজন মানুষের সত্যিকারের সান্ত্বনা আসে আরেকজন মানুষের কাঁধে মাথা রাখার উষ্ণতায়। যে পৃথিবীকে আমরা প্রতিদিন ভয় পাই,
সেই পৃথিবীকেই বদলাতে পারে আমাদের ভেতরের মমতা, আমাদের নীরব সিদ্ধান্ত। সময়ের অনিশ্চয়তা আমাদের ভেঙে দেয়, আবার তৈরি করে। এই সময় আমাদের শিখিয়েছে ক্ষমতা যতই বড় হোক, মানুষের ভয় ততই গভীর; সম্মান যতই পাওয়া যাক, মানুষের একাকিত্ব ততই তীক্ষ্ণ। এই সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা মানুষের পাশে মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। অথচ আমাদের মন এখনও শিখছে। শিখছে কাউকে শুনতে, শিখছে সহ্য করতে, শিখছে ক্ষমা করতে। এই সময় হতাশার হলেও, এটি একই সঙ্গে নতুন সচেতনতারের সময়। এটি পরীক্ষার সময়, আবার প্রস্তুতির সময়ও। এটি প্রশ্নের সময়, আবার উত্তর খোঁজার সময়ও।আমরা হয়তো এখনই বুঝতে পারছি না, কিন্তু ক’য়েক বছর পর পিছনে তাকালে বুঝব এই সময়ই আমাদের মানুষ করে দিচ্ছে। এই সময়ই আমাদের শেখাচ্ছে কীভাবে ছোট ছোট মুহূর্তে শান্তি খুঁজে নিতে হয়, কীভাবে ব্যস্ত পৃথিবীর ভিড়ে নিজের জন্য একটু নরম জায়গা তৈরি করতে হয়।সময় কেবল বাহ্যিক নয়, এটি ভেতরেরও। যে মানুষ নিজের ভেতরের সময়কে বুঝতে পারে, সে কোনও অনিশ্চয়তাকেই ভয় পায় না।
এই সময় তাই যতই অস্থির হোক, এই সময়ের ভেতরেই আছে আগামী দিনের সমস্ত বীজ। আমাদের শুধু দরকার: একটু ধৈর্য,
একটু মানবতা,
একটু ভালবাসা,
আর বিশ্বাস যে প্রতিটি অন্ধকার পথও একদিন আলোয় ভরে উঠবে।🍁
🍂মহামিলনের কথা
চক্ষু, মন বা বাক্যের দ্বারা কারো দোষ দর্শন, চিন্তন বা বর্ণনা করবে না। প্রত্যক্ষেই হোক,বা পরোক্ষেই হোক কখনও কারও নিন্দা করবে না।

ভাল হবার উপায়
ভাল হবে? তার আর ভাবনা কি।
বল, কি করে ভাল হবো?
কারুর দোষ দেখবে না, তা হলেই ভাল হয়ে যাবে। যে অপরের দোষ দেখে সে সেই দোষগুলি সব টেনে নিয়ে আপনি দোষময় হয়ে যায়। যদি সত্য সত্য ভাল হতে চাও তা হলে অদোষদর্শী হও। অন্যের দোষ দেখার মত আর পাপ নাই। যে অন্যায় করেছে সে ত করেছে,তুমি তার অন্যায় দেখে ঢাক বাজিয়ে চোখটা,জিভটা কলঙ্কিত করে ফেল,তাই কেঁদে সারা হও। চোখ পেয়েছ “সব ভগবান” বলে দর্শন করে প্রণাম করবার জন্য; জিভ পেয়েছ শ্রীভগবানের নাম,রূপ,লীলা গুনগান করবার জন্য। সেই চোখকে সেই জিভকে যদি অপরের দোষ দর্শনে কীর্ত্তনে নিযুক্ত কর,বল দেখি তোমার চেয়ে জগতে হতভাগ্য আর কে আছে?
অপরের দোষ দেখতে পাচ্ছি, বলবো না?
অপরের দোষ দেখবার আগে তুমি নিজের দোষ দেখ। সারাজীবন কত শত শত দোষ করেছ,এখনও করছ। তোমার দোষগুলি একটি একটি করে বেছে বেছে দূর করে দাও। ব্যস একেবারে নির্ম্মল হয়ে যাবে, অপরের দোষ দেখতে পাবে না। তোমার দোষ আছে বলেই অন্যের দোষ দেখতে পাচ্ছ। যে দিন তুমি দোষশূন্য হবে সেদিন আর কারো দোষ দেখতে পাবে না। মানুষ যেমন নিপুণভাবে অপরের দোষ দেখে যে দিন তদ্রূপ আপনার দোষ দেখবে সেই দিন একেবারে নির্ম্মল ও দোষশূন্য হয়ে যাবে। শিক্ষিতের মধ্যেও এমন দুর্ভাগ্য ব্যক্তি দেখা যায় যে তিনি অপরের লেখার শুধু দোষই আবিষ্কার করেন। হয়ত অন্য লেখকের লেখায় কত সুন্দর ভাব আছে,সে দিকে দৃষ্টি না দিয়ে কোথায় দোষ আছে, কোন্ লেখক কোথায় ভুল করেছেন,তাই অন্বেষণ করতে থাকেন এবং জনসমাজে তা প্রকাশ করে আপনার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। হরি,হরি,পরই যে পরমেশ্বর,তার দোষ দেখা কৃতিত্ব নয়— মহা অকৃতিত্ব।
বল বল, কি করে আমার দোষ যাবে?
চক্ষু, মন বা বাক্যের দ্বারা কারো দোষ দর্শন, চিন্তন বা বর্ণনা করবে না। প্রত্যক্ষেই হোক,বা পরোক্ষেই হোক কখনও কারও নিন্দা করবে না।
ইচ্ছা না করলেও অপরের দোষ দেখে ফেলি। এ দারুণ রোগ কি করে যাবে?
সংযম অভ্যাস ও সাত্ত্বিক আহারাদির দ্বারা যখন সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি পায় তখন দোষ ধ্বংস হয়ে যায় আর রাজসিক তামসিক আহার ও অসংযমে গুণবিনাশকারী দোষ সকল অত্যন্ত বর্দ্ধিত হয়ে থাকে।
যেমন মানুষ আপনার এবং স্বীয় পুত্রের হিত কামনা করে তদ্রূপ যখন সে ব্যক্তি সর্ব্বভূতের হিতকামী হয় তখন তাঁর দ্বারা হরি নিরন্তর তুষ্ট হয়ে থাকেন।
দোষ দর্শন করা অতিশয় দোষাবহ তাতো বুঝি তথাপি করে ফেলি। তার উপায় কি?
এ যুগে উপায়ের তো কোন ভাবনা নাই কেবল নাম কর।
নিরতিশয় দুষ্ট কলিযুগেরই এ একটি মহান গুণ যে শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্ত্তনে সমস্ত বন্ধন মুক্ত হয়ে সেই পরমপুরুষকে প্রাপ্ত হয়।
অনুক্ষণ কর তুমি নাম সঙ্কীর্তন।
হেলায় লভিবে প্রিয় প্রেম মহাধন॥
কেবল নাম কর। নাম করতে করতে বৈরাগ্য এসে উপস্থিত হবে।
বিষয় বৈরাগ্য উপস্থিত হলেই আপনার দোষের দিকে দৃষ্টি আসে এবং তাহাই অতি শীঘ্র “অহং মম” -রূপ বন্ধন হতে মুক্ত করে দেয়। নাম কর আর “সব তুমি” বলে প্রণাম কর।
উঠিতে বসিতে আর খাইতে শুইতে।
যে করে সতত নাম সে তরে ত্বরিতে॥
নামরূপে অবতীর্ণ স্বয়ং ভগবান।
নাম গানে নাম দানে সপ মন প্রাণ।
শ্রী জয় রাম জয় জয় রাম।
🍁শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব | শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী। (বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত)
🍂গল্প
সায়ন্তিকার গলা কেঁপে গিয়েছিল। ‘আমার স্বপ্ন অনেক… আমি চাকরি করতে চাই, নিজের মতো থাকতে চাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ যদি পাশে থাকত, একটু মাথা রাখার মতো…’
সে কথা শেষ করতে পারেনি। সুবর্ণ বলেছিল, ‘মাথা রাখার জায়গা চাই এটা কি ভুল?’
শেষ তবু শেষ নয়

দেবব্রত সরকার
বহরমপুর রবীন্দ্র সদনের আলো তখনও পুরো নেভেনি, সন্ধ্যার অনুষ্ঠান এখনি শেষ হয়েছে। মঞ্চের সামনের সারির চেয়ারগুলো এখনও গরম, মানুষের রাজ্যের ভিড় কমেছে। সুবর্ণ রায় মুর্শিদাবাদের এক উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার নিজের নাম ধরে তিনবার নিজেকেই ডাকলেন মনে মনে। তিনি জানতেন না, ভাগ্য এমন অদ্ভুত মোড় নেবে। সেদিন তার চোখ গিয়ে আটকে ছিল এক মেয়ের দিকে, আলো অন্ধকারের ভাঁজে দাঁড়িয়ে থাকা সায়ন্তিকা আচার্য। BA তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, বহরমপুর গোরাবাজারের মেয়ে, উচ্চ আকাঙ্ক্ষার আগুন নিয়ে জীবনের ধুলোয় হাঁটে। গাঢ় নীল ঢিলেঢালা কুর্তি পরে দাঁড়িয়ে ছিল, আর তার হাতে ছিল একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ। সম্ভবত কলেজের অনুষ্ঠানের বই আর চিরকুট। প্রথম দর্শনে ভালবাসা বলে কিছু হয় কিনা সুবর্ণ জানতেন না, কিন্তু নিজের ভেতরে ফেটে যাওয়া এক কামিজের শব্দ শুনলেন। সায়ন্তিকার চোখে ছিল অদ্ভুত জ্যোতি, যেন কেউ তার ভবিষ্যৎ গলিয়ে সেখানে জমিয়ে দিয়েছে। সেদিন ঘরের ভিড় থেকে বের হওয়ার সময় তিনি শুধু একবার বলেছিলেন, ‘ইউ ডিড ওয়েল…’ কারণ সায়ন্তিকা মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করেছিল। সায়ন্তিকা নিচে চোখ নামিয়ে বলেছিল, ‘ধন্যবাদ স্যর।’
সুবর্ণ প্যান্ট-শার্ট পরে দরজা খুলে দৌড়ে নেমে গেল।
নীচে সায়নী দাঁড়িয়ে ছিল ঠাণ্ডা চোখ, জমাট দৃষ্টি।
‘বিনা খবরেই চলে এসেছি,’ সে বলল।
সুবর্ণ শুধু বলল, ‘ভাল করেছ… আসো…’
ঠিক তখনই পাশের ঘরের দরজার ধাপে সায়ন্তিকার স্যান্ডেলের হালকা শব্দ।
সায়নী তাকাল ওপরে এক সেকেণ্ড।
তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল গল্প যা জীবনের কোথাও লেখা ছিল না। দুই দিন পর, সুবর্ণ নিজের গাড়িটা নিয়ে কলেজ ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিল। ভাগীরথী নদীর জলে দুপুরের রোদ বুলিয়ে যাচ্ছিল। সায়ন্তিকা ফোনে বলেছিল, ‘স্যর, একটু দেখা করা যাবে?’
সুবর্ণ বলেছিল, এসো। আমি কলেজ ঘাটে আছি।’
সায়ন্তিকা নীল শাড়ি পরে এসেছিল সেই দিন। তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত আলো যেন সে ভবিষ্যতের কোনও ভয়কেই পাত্তা দেয় না। গাড়িতে চুপচাপ বসেছিল দু’জন, তারপর সুবর্ণ বলেছিল, ‘লালবাগ যাওয়া যায়? একটু কথা বলা দরকার।’ সায়ন্তিকা রাজি হয়েছিল।
গাড়ি ভাগীরথীর তীর ঘেঁষা রাস্তা ধরে দ্রুত ছুটছিল। দু’পাশে শ্যামল সবুজের ভাঁজ, মাঝে মাঝে গোরাবাজারের যান্ত্রিক হইচই মিলিয়ে যাচ্ছিল কাচভাঙা-সন্ধের হাওয়ায়। সায়ন্তিকা জানলার বাইরে তাকিয়ে বলেছিল, ‘জীবনটা বড় অদ্ভুত, জানেন স্যর? এমনভাবে কারও সাথে কথা বলতে মন চায়, অথচ বলা যায় না…’
সুবর্ণ একবার তাকিয়ে ছিল তার দিকে, দীর্ঘ নীরবতা দু’জনকে ঘিরে ধরেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু কথা হয়, না বললে জমে থাকে। হয়ত আজ তোমার কথা আমি শুনতে পারি।’
সায়ন্তিকার গলা কেঁপে গিয়েছিল। ‘আমার স্বপ্ন অনেক… আমি চাকরি করতে চাই, নিজের মতো থাকতে চাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ যদি পাশে থাকত, একটু মাথা রাখার মতো…’
সে কথা শেষ করতে পারেনি। সুবর্ণ বলেছিল, ‘মাথা রাখার জায়গা চাই এটা কি ভুল?’
সায়ন্তিকা উত্তর না দিয়ে জানলার কাঁচে মাথা ঠেকিয়ে ছিল। চোখ বন্ধ। লালবাগ পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধে নেমে এসেছিল। গাড়ি দাঁড় করিয়ে দু’জন নদীর দিকে হেঁটে গেল। সেই প্রথম সায়ন্তিকা তার কাঁধে মাথা রেখেছিল। নরম, নিঃশব্দ, তবু হাজার বজ্রপাতে সমান শক্তির কোনও অজানা স্পর্শ।
সুবর্ণ সেই মুহূর্তটিকে মনে রাখলেন সারাজীবন। দিন গড়াল।মাস ঘুরল। সায়ন্তিকা কখনও কলেজ থেকে ফেরার পথে খাগড়ার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকত। সুবর্ণ গাড়ি নিয়ে গোরাবাজার পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দিত। মাঝে মাঝে চার্চচের মোড়ে থেমে দু’জন রাস্তার নির্জনতায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত। সুবর্ণ কখনও বলত, ‘তোমার চোখে এত স্বপ্ন কেন?’
সায়ন্তিকা হাসত। বলত, ‘আপনি থাকলে স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে।’
প্রশাসনিক ভবনে কাজের ফাঁকে কখনও সায়ন্তিকা এসে দাঁড়াত হালকা সাদা কুর্তি, হাতে কলেজের বই, আর চোখে সেই পরিচিত হাসি। সুবর্ণ তাকে বলত, ‘এভাবে এসো না। লোকে বলাবলি করবে।’
সায়ন্তিকা বলত, ‘লোকে বলবে আপনি বলবেন না তো?’
সুবর্ণের বুক হালকা কেঁপে উঠত। কারণ তিনিই জানতেন তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী সায়নী রায় কলকাতায় কাজ করে, দুই সন্তান নিয়ে সেখানে থাকে। সুবর্ণের ট্রান্সফারের কারণে তিনি একাই বহরমপুরে থাকতেন। সায়নী কখনও বুঝতে পারেনি তার স্বামীর নিঃসঙ্গতা, কখনও মানসিকভাবে পাশে দাঁড়ায়নি।
তবুও স্ত্রী তো স্ত্রী-ই।
একদিন সায়ন্তিকা বলেছিল, ‘আমরা তো দু’জনেই জানি এই সম্পর্কের শেষ নেই। তবু কেন মনে হয় আপনার পাশে থাকতে ইচ্ছে করে?’
সুবর্ণ বলেছিল, ‘শেষ না থাকলেও পথ থাকে, সায়ন্তিকা।’
দিনগুলো এমনভাবে কাটছিল যেন জীবনের একটা গোপন অধ্যায় খুলে গিয়েছে। দু’জনের প্রেম অপ্রকাশিত, অথচ স্পষ্ট। হাত ধরত না, তবু হৃদয় অবধি পৌঁছে যেত সব স্পর্শ।
কাপড় দোকানে একদিন সায়ন্তিকা সুবর্ণকে নিয়ে যায়। সে একটি লাল শাড়ি দেখছিল কিনবে কি না ঠিক করতে পারছিল না।
সুবর্ণ বলেছিল, ‘এই শাড়িটা তোমার গায়ের সাথে মানাবে।’
সায়ন্তিকা তার চোখে তাকিয়ে হাসল, ‘আপনি এত কিছু জানেন কীভাবে?’
‘ভালবাসলে রঙও চেনা যায়,’ সুবর্ণ মৃদু স্বরে বলেছিল।
সায়ন্তিকা তখন তার হাত ছুঁয়ে দিয়েছিল দোকানের ভিড়ের মাঝেই মাত্র এক সেকেণ্ড।
তবু সেই এক সেকেণ্ডেই সময় থেমে গিয়েছিল। কিন্তু সুখের গল্প খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
এক বিকেলে হঠাৎ সায়ন্তিকা বলল, ‘স্যার, আজ আমি থার্ড প্রিয়ডে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাব।’
এই কথা শুনেই সুবর্ণ উত্তর দেয়, ‘বেরিয়ে সোজা আমার কোয়াটারে চলে এসো। এক সঙ্গে লাঞ্চ করব।’
সায়ন্তিকা দ্বিধা করেছিল, কিন্তু শেষমেশ রাজি হয়েছিল।
কোয়াটারের ঘরে ছিল বইয়ের স্তূপ, সুবর্ণের অসমাপ্ত কবিতা, আর সায়ন্তিকার প্রিয় সুগন্ধির গন্ধ। সায়ন্তিকা জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিল, বলেছিল, ‘স্যর, আমি আপনাকে খুব ভালবাসি। আপনি না থাকলে সব শূন্য লাগে।’
সুবর্ণ কাছে গিয়েছিল, তার কাঁধে হাত রেখেছিল। সায়ন্তিকা মাথা রেখে বলেছিল, ‘এটাই আমার শান্তি।’
ঠিক তখনই হঠাৎ বাইরে গাড়ির হর্ন। তিরিক্ষি ধারার শব্দ।
কোনও সাধারণ গাড়ি নয় কলকাতার নম্বর প্লেট। সুবর্ণের বুক হিম হয়ে গেল।
সিকিউরিটির গেট খোলার শব্দ।
জানলার ফাঁক দিয়ে দেখা গেল তার স্ত্রী সায়নী রায় দাঁড়িয়ে আছে, দুই সন্তানকে নিয়ে।
সুবর্ণের মুখ সাদা হয়ে গেল।
সুবর্ণ তড়িঘড়ি বলল, ‘সায়ন্তিকা, জামা পরে ফেলো। লুকিয়ে যাও ওরা উঠে আসছে!’
সায়ন্তিকার বুক কাঁপছিল। সে দ্রুত ওড়না ঠিক করল, চুল গুছিয়ে নিল।
সুবর্ণ প্যান্ট-শার্ট পরে দরজা খুলে দৌড়ে নেমে গেল।
নীচে সায়নী দাঁড়িয়ে ছিল ঠাণ্ডা চোখ, জমাট দৃষ্টি।
‘বিনা খবরেই চলে এসেছি,’ সে বলল।
সুবর্ণ শুধু বলল, ‘ভাল করেছ… আসো…’
ঠিক তখনই পাশের ঘরের দরজার ধাপে সায়ন্তিকার স্যান্ডেলের হালকা শব্দ। সায়নী তাকাল ওপরে এক সেকেণ্ড। সুবর্ণের যেন বুক বন্ধ হয়ে এল। সায়ন্তিকা সব বুঝে ফেলেছিল ইতিমধ্যে। সে জানত, সুবর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে যদি একটুও সন্দেহ হয়। তার মুখ শক্ত হয়ে উঠল চোখ জ্বলজ্বল করছে, তবুও অদ্ভুত দৃঢ়। হঠাৎই সে অপর পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল একদম নিঃশব্দে। কোয়াটারের পিছনের ফাঁকা রাস্তা ধরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। একবারও ফিরে তাকাল না।
সুবর্ণ বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে। স্ট্রেটফরওয়ার্ড কোনও শেষ নয় এটা গভীর, নিঃশব্দ ত্যাগ। সায়নী কিছুই বুঝতে পারল না। শুধু বলল, ‘বাচ্চারা তোমাকে দেখতে চায়, উঠবে না?’
সুবর্ণ মাথা নেড়ে বলল, ‘হ্যাঁ… আসছি…’
কিন্তু তার ভিতরটা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।
তার বুকের মধ্যে যে উষ্ণ মাথাটা একটু আগে ছিল সেটা নেই। সেই উষ্ণতা হেঁটে চলে গিয়েছে তাকে বাঁচিয়ে দিয়ে। তাকে অপরাধী হতে দেয়নি, কিন্তু নিজে সারা জীবনের মতো তাকে ছেড়ে গিয়েছে। পরের ক’য়েকদিন সায়ন্তিকা কোনও ফোন ধরেনি।
ক্লাসে যায়, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরে, কিন্তু সুবর্ণকে আর দেখতে দেয়নি। একদিন অবশেষে একটি মেসেজ এল, ‘ভালবাসা মানে সবসময় পাওয়া নয়, স্যর। কখনও কখনও ভালবাসা মানে কাউকে রক্ষা করা। আপনার পরিবার আছে তারা ভেঙে যাক, আমি সেটা চাইনি। আপনি আমাকে ভালবাসেন, আমি জানি। আমিও আপনাকে…। তবুও এটা শেষ নয়… ভালবাসা থাকে… অনন্ত।’
সুবর্ণ ফোন হাতে বসে ছিল গভীর রাতে। তার চোখে জল ছিল না, কিন্তু বুকের ভিতরে আগুন জ্বলছিল। সায়ন্তিকা এরপর আর কখনও তার জীবনে ফিরে আসেনি। লালবাগের সেই রাস্তা, কলেজ ঘাটের শীতল বাতাস, চার্চচের মোড়, গোরাবাজারের সেই আলো সব কিছু সুবর্ণকে প্রতিদিন মনে করায়। কিছু প্রেম কখনও মরে না। কিছু ভালবাসা কখনও শেষ হয় না। কিছু সম্পর্কের কোনও মিলন নেই। তবু তাদের বিচ্ছেদও কখনও সত্যি হয় না। কারণ সেখানে থাকে
গভীর, নিঃশব্দ, হৃদয়ে জমে থাকা
অপূর্ণ মিলনের অনন্ত ব্যাকরণ।🍁
🍂কবিতা
স্বপন দত্ত -এর একটি কবিতা

ভাল থেক
ভাল থেক বন্ধু, এখন এটা
একটা দারুণ মজার শব্দ
কারণ ভাল এবং থাকা দু’টোই অনিশ্চিত
নিঃসন্দেহে খারাপ এবং না থাকা
দু’টোই এক্কেবারে নিশ্চিত
যেমন ঈশ্বর থাকা এবং না থাকা
কবে যে সেই প্রার্থনা-শব্দ শোনা যাবে
হে ঈশ্বর
ভাল থেক
সুচিতা সরকার -এর একটি কবিতা

নিষিদ্ধ রাস্তা
জ্বরের সূচক যখন উষ্মমাপকের
সর্বোচ্চ দাগের দিকে এগোতে শুরু করে
আমি ছুটে গিয়ে দাঁড়াই নিষিদ্ধ রাস্তার মোড়ে।
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি ট্রাফিক সংকেতটা সবুজ হওয়ার দিকে।
এ রাস্তায় বাস-গাড়ি চলে না।
মানুষের ঢল, কোলাহল কিছুই নেই।
আছে একরাশ শূণ্যতা আর
এক আকাশ অপেক্ষা
যার আরম্ভ বা শেষ কোনোটাই চোখে পড়ে না।
কখন যে ঘুম এসে আমার চোখের পাতাদুটো বন্ধ করে দিয়ে যায় বুঝতেই পারি না।
ঘুম ভাঙলে দেখতে পাই ট্রাফিক সংকেতের আলোটা আবার লাল হয়ে গেছে।
নিষিদ্ধ রাস্তার সব নিয়মগুলিই অবৈধ।
সোমপ্রভা বন্দোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা
নালিশ
বৃষ্টি আচমকা ভিজিয়ে ফেলেছে কাগজের নৌকা, নালিশ পাঠাতে জড়ো করা খামের ঠিকানা
উল্টে গেছে নাম বিভ্রাটে।
এখন ভরন্ত নদী এগিয়ে আসছে দোরে
ভালবাসা এক্সপায়ার হলে ফিরে যাবে।
পরিত্যক্ত পাথরকে শালগ্রাম মেনে
আঁকড়ে থাকা অবুঝ কিশোরীকে
কাছে ডেকে মাথায় হাত রাখতে ইচ্ছে করে।
এত মনখারাপ। গোধূলি আঁচল। ছড়ানো হবিষ্যান্ন
ভাঙা পাত্রের বিষাদ আনমনে খুঁটে খাচ্ছে কাক।
এই সময়ের চেয়ে বড়ো গুরু গোঁসাই আর কে।
হোঁচট খাওয়া যুবতী যেদিন চিনতে শিখবে পথ
মাইলফলক সাদরে গ্রহণ করবে
পরিব্রাজক হতে চাওয়ার আবেদন।
দীপান্বিতা রায় সরকার -এর একটি কবিতা

উষ্ণ শীতের ডুয়ার্স
প্রমাণ তাপের উষ্ণতা আর দাগে,
ডুয়ার্সমুখী উত্তরীয় হাওয়া।
আমাদের এই জংলা শহর জুড়ে,
পারদ নামে যেমন পরম্পরা।
কালজানীর টুকরো রোদের কুঁচি,
শান্ত বড় পাহাড় ভেজা জল।
গভীর বনের দিগ্বিজয়ী হাওয়া,
ঘিরতে থাকে মাটির করতল।
বন পাহাড়ের ছোট্ট শহর জুড়ে,
শীতের এখন সুখের পীঠস্থান।
মিষ্টি রোদের পিকনিক মরসুমে,
গাঢ় হয়ে বয় পারদমুখী গান।
সরল ঘোষ -এর দু’টি কবিতা

মৃত্যুর ওপারে
মৃত্যু আসলে অন্ধকার না, অদৃশ্য দরজা
যেখানে আত্মা
নিঃশব্দে পোশাক বদলায়
আর আরও হালকা হয়ে যায়।
যারা চলে যায়
তারা আসলে রূপ বদলায়
কিন্তু তাদের আলো আমাদের ভেতরে
চিরকাল বেঁচে থাকে

অপেক্ষার সিঁড়ি
আজও সিঁড়ি বেয়ে উঠি
কোনও গন্তব্য নেই। কোনও দরজা নেই…
শুধু তোমার ছায়ার অদৃশ্য আহ্বান আছে।
মানুষ ভাবে, অপেক্ষা কষ্ট, আমি বলি, অপেক্ষাই তো ভালবাসার
সবচেয়ে সত্য নাম।
ধৃতিমান ঠাকুর -এর দু’টি কবিতা

ছায়ার ভেতর তুমি
দিনের আলোয় কেউ নেই
রাত্রির চাঁদেও না, তবু জানি,
আমার ছায়ার ভিতর
তুমি গোপনে হেঁটে বেড়াও
মানুষ ভাবে
ছায়া নীরব
আমি জানি
ছায়াই সবচেয়ে বেশি কথা বলে

কয়েকটি অপূর্ণ স্তবক
আমাদের প্রেম
অসমাপ্ত গান।
শেষ সুরের আগে
তুমি সরে গেলে
তবুও গান থামেনি।
কারণ কিছু গল্প
শুধু শেষ না হওয়ার জন্যই জন্মায়…
আর কিছু ভালবাসা
শেষ না হওয়ার মধ্যেই-
চিরকাল বেঁচে থাকে।
বিশ্বজিৎ মণ্ডল -এর একটি কবিতা

আমাদের দুঃখগুলো
দুঃখগুলো দীর্ঘ হলে পড়ে থাকে ন্যক্ত বারান্দা…
আমরা ক্রমশ ভিজে যাই, বেদনার তুষারপাতে
অথচ তুমি কষ্ট দিলেই, পাথর মূর্তি ভেঙে উড়ে যায়
দুঃখ পাখি
রাস্তার পাশে বেড়ে ওঠা ফুলগাছে বেড়ে ওঠে
আমাদের ভালবাসার বয়স
প্রণয়ের বেয়াড়া শিশুটি আজও মধ্যদুপুরে হারিয়ে যাওয়া
পেঙ্গুইনের খোঁজে ভাঙে,বরফ বারান্দার দুরন্ত কঠোরতা
আমি স্বয়ম্ভূ হয়ে উঠি, পোষ্য পৃষ্ঠার ভেতর
শরীর থেকে খুলে পড়ে, অবিনাশী শৃঙ্খল
আমি ততক্ষণে সেজে উঠি, ভালবাসার বল্মীক পাহাড়
ছবি ধর -এর একটি কবিতা

সেতুর নীচে আস্তানা
নদীর ওপর বুক চিতিয়ে শুয়ে থাকে সুদীর্ঘ সেতু
দিন শেষে রাতের নিরাপত্তা রক্ষী বদল হয়
সাইকেলের ক্যাঁচর ম্যাচোর শব্দে সেতু পেরিয়ে গাঁয়ে ফেরে দিনমজুর
একযুগ পর সেতুটি নবীকৃত হয়
নতুন চওড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাতি জ্বলে
ভাঙা সাইকেল আর বিষণ্ন মনের হয় না নবীকরণ
পলেস্তারা খসে পড়ে ,ঝড়ো বাতাসে উড়ে যায়
ছাউনি,
ভাগ্যিস সেতুটি শুয়ে আছে বুক চিতিয়ে!
নদীতে কেউ ময়লা আবর্জনা ফেলে,কেউ পাপ ধুয়ে স্নান সেরে পৌঁছে যায় সেতু ধরে গন্তব্যে
সেতুর নিচের ছায়াটি ভিখিরির ঘুম ভাঙার অপেক্ষায়
নদীর জলে জমা হয় অশ্রুবিন্দু,
জল বাড়লে অন্য ছায়া অন্য ঠিকানায়
আস্তানা বদল হয়
অবস্থান বদল হয় কিন্তু অবস্থা নয়।
মমতা রায় চৌধুরী -এর একটি কবিতা

এখনও ছুঁয়ে আছে
শরীর মন জুড়ে ছুঁয়ে আছ আজও
বিকেলের অস্তগামী সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিমে
স্নিগ্ধ লাল আভা পড়েছে জলরাশিতে
তখনও আমার মন জুড়ে তুমি
সন্ধ্যার আকাশে যে নক্ষত্র রাজি
তার মাঝে খুঁজে বেড়াই আমি
এমনই পরীর মত বুক জুড়ে
নামবে আমার পাশে ছাদ বিছানাতেই ।
গোলাপি চাঁদের আলো বিরাজ করবে
তখনও আমি তোমায় ছুঁয়ে দেখব
ভোরের আলো ফুটতেই টিয়া পাখির রং
ঘাস জুড়ে পড়েছে শরতের কুয়াশা
তারই মাঝে তোমার প্রতিচ্ছবি আমি ছুঁয়ে দেখি বারে বারে।
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি এই বোধহয় তুমি আসলে।
শ্রাবণের ঘনঘটা সারা আকাশ জুড়ে
বৃষ্টির ছাট, জানলায় এসে
আমায় ছুঁয়ে দিয়ে যায় তোমার প্রতিচ্ছবি।
আঁকড়ে ধরে থাকি বৃষ্টির ছাট
চোখে মুখে মেখে নিই
এ যেন অনেক জন্মের পরিচয়
শুধু ভাবনার অতলে ডুবে
হেমন্তের মাঠে সোনালী ধানের পরশে
নতুন করে চিনতে শিখি।
আর মনে মনে ভাবি সবকিছুতেই ছুঁয়ে আছো তুমি।
পরাণ মাঝি -এর তিনটি কবিতা

কে যাবি আয়
ঘোড়ার ডিমের মস্করা। হঠাৎ বেজে ওঠে জীবন তারা। মিথ্যের বাকল খুলে গেলে ভেতরে সততার নদী। সভ্যতা জ্বলে; সময় ঘি ঢালে
জোট বাঁধো। রাজাকে পড়াতে যাব
পেটে গামছা বাঁধার গল্প শোনাব–
রাজা মানুষ হলে– বিচারের মুখে ন্যায় বসবে; মানুষ বাঁচবে। কে যাবি আয়…

উষ্ণ নেমপ্লেট
জ্বলছে জিরো পাওয়ার; কী করে
জিরোও জ্বলে
শরীরও ভাসে
বাউণ্ডারি জুড়ে টক মিষ্টি ঝাল; বউ কথা কও গান
শ্রেয়সী হুট খোলা রাত
টানটান শুয়ে আছে পাশবালিশ; সটান কোলাজ
হাপিত্যেশের নেট খুঁজছে আদরমাখা উষ্ণ নেমপ্লেট
তেষ্টার ভেতর ঘুমিয়ে শিশুমেঘ দেখছে স্বপ্ন- মা মা আকাশের মনোবিন্দু

নাম না জানা ঢেউ
তুচ্ছ হোক, তাচ্ছিল্য হোক
কিম্বা অবহেলা, অসম্মান অথবা যতটুকু যা পেয়েছি
সযত্নে গুছিয়ে রেখেছি এবং রাখব ততটুকু
ভয় পেয়ো না কেউ
আমি আজ নাম না জানা ঢেউ
শ্বেতা বসু চক্রবর্তী -এর দু’টি কবিতা

নীরবতা মানে
দ্যাখো, তুমি কথা না বললেও, তোমার নীরবতার শব্দ
আমার বুক ভরে বাজে।
যা বলা হয় না, সেই কথাই আসলে সবচেয়ে গভীর।
তাই হয়ত আমার প্রতিটি রাত
তোমার অপ্রকাশিত ভালবাসায় ধীরে ধীরে ভিজে ওঠে।
পথ-হারানো
তোমার সাথে আমার সম্পর্ক কখনও-ই বাড়ি পৌঁছায়নি। সবসময়ই
কোনও অচেনা রাস্তায় থেমে গিয়েছে।
তথাপি অদ্ভুতভাবে, আমি সেই পথেই ফিরে যাই।
কারণ, হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেও— একটা ঘর-বসতি আছে—
যার নাম তুমি।
🍂ধারাবাহিক উপন্যাস
কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।
শব্দদের রাত্রি হয়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়
দুই দিগন্ত
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হিরণ্য চোখ বন্ধ করেছিল। আলো আর অন্ধকার, দু’টি পথ যেন জীবনের দুই প্রান্ত। একদিকে আলো ঝলমল করছে, অন্যদিকে অন্ধকারে ডুবে আছে পথ। অবাধ্য পা একবার ডানদিকে, একবার বাঁদিকে কেঁপে উঠছে। হিরণ্য জানত না কোনদিকে যাবে। কিন্তু ভেতর থেকে এক কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল, ‘যেখানে কবিতা আছে, সেই পথই তোমার।’
চোখ খুলতেই সে দেখল, আলো-অন্ধকার মিশে একরকম ধূসরতা তৈরি করেছে। ঠিক যেমন তার ভেতরের দ্বিধা, না পুরো আলো, না পুরো অন্ধকার। অবাধ্য পা তাকে ঠেলে দিল ধূসর সেই পথে।
শব্দগুলো বেরতেই মনে হল বুক হালকা হয়ে গেল। যেন বহুদিনের জমাট বাঁধা শ্বাস বেরিয়ে গেল একসঙ্গে। সে লিখতে লিখতে বুঝল, অরুণিমা হোক, মীরা হোক, আসলে কেউই আলাদা নয়। তারা দুজনেই তার কবিতার অংশ। অবাধ্য পা তাকে বারবার ভুল পথে নিয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেই ভুল পথই আসলে সত্যি ছিল। কারণ কবিতা ছাড়া তার আর কিছুই নেই। অরুণিমা তাকে শিখিয়েছিল বেদনা, মীরা তাকে শিখাচ্ছে আশার আলো। দু’জন মিলে তার ভেতরের কবিকে ফিরিয়ে আনছে।
পথটা ছিল সরু, দু’পাশে কুয়াশায় ঢাকা গাছ। গাছগুলো যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। হিরণ্যর মনে হচ্ছিল, প্রতিটি শব্দ অরুণিমার কণ্ঠস্বর, আবার মীরারও। একসঙ্গে দুটি কণ্ঠ বাজছে, একটি অভিযোগে ভরা, অন্যটি আশায় ভরা।
‘তুমি আমাকে ভুলে গেলে’?অরুণিমার গলা।
‘তুমি আবার লিখতে পারবে’, মীরার গলা।
হিরণ্য হাঁটতে লাগল। প্রতিটি পদক্ষেপে বুক কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, এ হাঁটা কেবল রাস্তার নয়, ভেতরেরও। অরুণিমার ছায়া এসে কখনও সামনে দাঁড়াচ্ছে, কখনও পিছনে মিলিয়ে যাচ্ছে। আবার হঠাৎ মীরার মুখ ভেসে উঠছে, তার গানের লাইনগুলো বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
হিরণ্য থেমে গেল এক জায়গায়। রাস্তার পাশে পুরনো এক ল্যাম্পপোস্ট, আলো জ্বলছে আধো-আধো। আলোয় স্পষ্ট দেখা গেল, একটি মুখ দাঁড়িয়ে আছে।
অরুণিমা! না, হয়ত মীরা। নাকি দুজনেই? চেনা আর অচেনার মধ্যে ফারাক মুছে গেল। সেই মুখে অভিযোগও আছে, আবার কোমল স্নেহও আছে। ঠোঁট নড়ল, শব্দ এল, ‘কবিতা ছেড় না। তুমি আমার কাছে হারাও, তবু শব্দের কাছে হারিও না।’
হিরণ্যর বুক ভেঙে কান্না এল। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল রাস্তার ওপর। পায়ের ভেতর দিয়ে কাঁপন ছড়িয়ে পড়ল শরীরে। অবাধ্য পা যেন এবার তাকে দাঁড় করিয়ে দিল না, বরং বসিয়ে দিল মাটিতে, যেন বলল, ‘এখানেই তোমার উত্তর।’
সে কাগজ বার করল পকেট থেকে। কলমটা কাঁপছিল হাতে। অন্ধকারে, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় সে লিখতে শুরু করল,
‘প্রেম নামে কাকে ডাকো তুমি, এ অলীক তোমার প্রার্থনা,
যেখানে ছায়ারা হাঁটে রোদ তবু তোমাকে ছাড়ত না।
কিন্তু জানি রোদ নয়, আমারই অনন্ত মুদ্রাদোষে
বিদ্রোহ গড়েছি আমি জনতার বিপ্লবে, আক্রোশে।
অরুণিমা, তুমি যদি থেকেও না থাকো, এইখানে নির্জনের গায়ে
কবিতার মানচিত্রে প্রতিদিন মীরা হয়ে জেগে আছো দূরারোগ্য ঘায়ে।
দূরে গিয়ে প্রতিদিন নিজেকে যে নিজেই হারাবে?
আমার অবাধ্য পা ক্রমাগত সেখানেই টেনে নিয়ে যাবে।’
শব্দগুলো বেরতেই মনে হল বুক হালকা হয়ে গেল। যেন বহুদিনের জমাট বাঁধা শ্বাস বেরিয়ে গেল একসঙ্গে। সে লিখতে লিখতে বুঝল, অরুণিমা হোক, মীরা হোক, আসলে কেউই আলাদা নয়। তারা দুজনেই তার কবিতার অংশ।
অবাধ্য পা তাকে বারবার ভুল পথে নিয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেই ভুল পথই আসলে সত্যি ছিল। কারণ কবিতা ছাড়া তার আর কিছুই নেই। অরুণিমা তাকে শিখিয়েছিল বেদনা, মীরা তাকে শিখাচ্ছে আশার আলো। দু’জন মিলে তার ভেতরের কবিকে ফিরিয়ে আনছে।
হিরণ্য উঠে দাঁড়াল। পা আর কাঁপছে না। অবাধ্যতা এখনো আছে, কিন্তু সে বুঝে গিয়েছে, এই অবাধ্যতাই আসল পথ।
সে হাঁটতে লাগল আবার। এবার মনে হচ্ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ কবিতার সুরে মিশে যাচ্ছে। কুয়াশার ভেতর দিয়ে আলো ভেসে আসছে। অরুণিমা আর মীরা যেন পাশাপাশি হাঁটছে তার সঙ্গে, একজন অতীত, অন্যজন বর্তমান, কিন্তু দুজনেই তার কবিতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
হিরণ্যর চোখ ভিজে উঠল। ঠোঁটে হাসি ফুটল। সে জানল, আর কোনো ভয় নেই। অবাধ্য পা তাকে যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই তার কবিতা অপেক্ষা করছে।🍁 (চলবে)
🍂ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস
সাহিত্যিক তাপস রায়। সাম্প্রতিককালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও কবি। লেখকের প্রকাশিত ভিন্নধর্মী পুস্তকগুলি পাঠকদের মনে জাগরণ তৈরি করে। রহস্য কাহিনিতে লেখক প্রাণের ছোঁয়া পান। তেমনি একটি রহস্য উপন্যাস সাশ্রয় নিউজ-এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর পাঠকদের জন্য।
কিশাণগঞ্জের ফেলুদা

তাপস রায়
২৬.
বোঁদেকেও পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলল একজন লোক। তারপর ধাক্কাতে ধাক্কাতে ওই জঙ্গলের ভেতর বাড়িটির বসার সিঁড়িতে নিয়ে বসিয়ে নিল।
ডিকি লজ থেকে ট্রলি নিয়ে বেরিয়েছেন মালবাবু। মেঘ এমন নীচে নেমে এসে থমকে আছে যে দু’হাত দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছে না। কাল রাতে সেই অপরিচিত নাম্বার ফোন করে বলেছে, ভোর ভোর বেরিয়ে পড়তে। তারপর একটা অটো নিয়ে ‘হেভেন হোকাস-পোকাস’। সেখানে রুম বলা থাকবে। সেখানেই টাকা আর ছেলেকে হস্তান্তরিত করা হবে।
মালবাবু ডিকি লজ থেকে বেরিয়ে দেখলেন রাস্তা-ঘাট-এ কোনো গাড়ি-ঘোড়া নেই। হেঁটে হেঁটে যাবেন কী করে? যতটা খবর নিয়েছেন তা এখান থেকে মাইল দুয়েক দূরে। তা ছাড়া রাস্তার তো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অল্প অল্প হাঁটছেন আর পেছনে তাকাচ্ছেন। পঞ্চাশ লাখের ট্রলিব্যাগ সঙ্গে সঙ্গে গড়াচ্ছে। মিনিট খানেক বাদে এক জোড়া আলো তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেল। মাফলার-জ্যাকেটে চোখ-মুখ কিছুই দেখা যাচ্ছে না অটো চালকের। চালক জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় যাবেন?’
‘হেভেন হোকাস-পোকাস। ওই ডেলো যাবার পথে পড়ে।’
মালবাজারের পর থেকে সাদা অ্যাম্বাসাডারের পেছনে আরো একটা বোলেরো চলেছে। আর সবার সামনে রয়েছে কালো রঙের ফিয়া্ট। খুবই পুরনো। একজন বুড়ো নেপালি চালাচ্ছে গাড়ি। পেছনের সিটে একজন সৌম্যকান্তিমাঝবয়সী পুরুষ ঢুলছেন। গাড়ি ঢুকে পড়েছে জাতীয় সড়কের উপরের এই ‘হেভেন হোকাস-পোকাস’-এ। এই কালো গাড়ি রিসর্টের সিকিউরিটি ভাল করে চেনে। তারা কিছু না জিজ্ঞাসা করেই দরজা খুলে দেয়।
অটো চালক ইশারায় তাঁকে উঠতে বলল। মালবাবু ট্রলিটি নিয়ে অটোর পেছনে রাখলেন। তারপর নিজে বসলেন। অটো হাই হাই করে কুয়াশা ভেদ করে ছুটল। কিন্তু মিনিট দশেক ছুটেও যখন থামছে না, মালবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আর কতদূর ভাই। ওনেক ঊঁচুতে উঠে এসেছি মনে হচ্ছে। এত উঁচুতে তো নয়।’
অটো চালক কোনো উত্তর না দিয়ে গতি আরও বাড়িয়ে দিল। এটা তার বন্ধুর অটো। কালই বিকেলে এই অটোতে ঘুরে ঘুরে ডেলোর পাহাড় আর বাগান দেখেছে। কোথায় খাদ দেখেছে। ওই বন্ধুকে মাল খাইয়েছে। কোনো টাকা নেয় নি। কাল রাতের খাবার সে খাইয়েছে। বিনিময়ে আজ সারাদিন সে অটো চালাবে। অটোচালকের চুপ করে থাকাটা ভাল লাগছিল না মালবাবুর। কোনো একটা বিপদের গন্ধ পাচ্ছিলেন। এতগুলো টাকা সঙ্গে রয়েছে বলেই ভয়
***
আরও বেশি। এই ভাবনার ভেতরেই একটি বড় গাড়ি অটোর সামনে এসে দাঁড়াল। সেই গাড়ি থেকে নেমে একজন কী যে বলল, অটোচালকই জানে! গাড়ি ঘুরিয়ে দিলও অটোচালক। তারপর মিনিট পাঁচ-ছয়ের মধ্যে একটা বড় লোহার গেটের ভেতর দিয়ে গাড়ি ঢুকিয়ে দিল অটোচালক। পেছনে সেই বড় গাড়ি।
মালবাবু নেমে পড়লেন গাড়ি থেকে। ট্রলি ব্যাগ নামালেন। মালবাবু দেখলেন, সেই গাড়ি থেকে নেমে একজন পুলিশ অটোচালকের কলার ধরে অটো থেকে নামাল। তারপর টেনে এক চড় গালে। ‘কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলি, অ্যাঁ!’
‘ছেড়ে দিন স্যার, ভুল হয়ে গেছে। ‘
‘কীসের জন্য ডেলো পাহাড়ের মাথায় নিয়ে গেছিলি রে? হেভেন হোকাস-পোকাস’টা কোথায়?’ আবার থাপ্পড়ের শব্দ।
লোকটা পুলিশের পা জড়িয়ে ধরল। ‘স্যার অন্যায় হয়ে গেছে।’
‘ন্যায়-অন্যায় পরে বোঝা যাবে। চল, সামনে চল।’ ধাক্কা মারল অটোচালককে, তারপর গাড়ির ভেতর মুখ বাড়িয়ে বলল, ওয়াকিটকিতে বড়বাবুকে জানিয়ে দে মুকেশ।’
রাতে পঙ্কজের দেওয়া নম্বর ট্রাক করে মালবাবুর সাথে কথোপকথন শুনে নিয়েছে কালিম্পং থানার বড় বাবু। দার্জিলিং থেকেই পিছু নিয়েছে নার্কোটিকের সাদা অ্যাম্বাসাডার। কালিম্পং এ ঢুকতেই এস পি কে ফোনে জানিয়ে দিয়েছে অবস্থান। মালবাজারের পর থেকে সাদা অ্যাম্বাসাডারের পেছনে আরো একটা বোলেরো চলেছে। আর সবার সামনে রয়েছে কালো রঙের ফিয়া্ট। খুবই পুরনো। একজন বুড়ো নেপালি চালাচ্ছে গাড়ি। পেছনের সিটে একজন সৌম্যকান্তিমাঝবয়সী পুরুষ ঢুলছেন। গাড়ি ঢুকে পড়েছে জাতীয় সড়কের উপরের এই ‘হেভেন হোকাস-পোকাস’-এ। এই কালো গাড়ি রিসর্টের সিকিউরিটি ভাল করে চেনে। তারা কিছু না জিজ্ঞাসা করেই দরজা খুলে দেয়।
কয়েক মিনিটের মধ্যে আরো তিনটি গাড়ি হেভেনে ঢোকে।
ম্যাডাম কর্মা খুবই বিচলিত চোখ-মুখ নিয়ে রিসেপসনে এসেছেন। তাঁর কোলে গাঢ় কালো রঙের বেড়ালটি রয়েছে। পায়ের সাথে ঘোরাঘুরি করছে আরো দু’টি সাদা বেড়াল। তিনি রিসেপশনে এসে জানতে চাইলেন, তাঁর কুকুরটিকে কেউ দেখেছে কি না।
তখন নতুন একজন বোর্ডার সবে নাম এন্ট্রি করছিলেন। রেজিস্টারে নিজের নাম লিখছিলেন। তিনি ম্যাডাম কর্মাআকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন। মাথা নিচু করে গুড মর্নিং জানালেন। তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, একটু ঘরের বাইরে আসতে।
ম্যাডাম কর্মা ঘরের বাইরে আসতেই সাদা পোশাকের দু’জন মহিলাপুলিশ অফিসার রিসেপশনের লোকটিকে আড়াল করলেন। একজন ম্যাডাম কর্মার হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে বললেন, ‘চলুন।’
ফেলুদার ফোন বেজে গেছে প্রথম অফিসারের পকেটে। তিনি কালিম্পং-এর এস পি। ফেলুদা বললেন ‘একেবারে উঁচু ধাপে উঠে,অর্কিড রিসর্টের পাশ দিয়ে পাহাড়ের উল্টো পিঠে নেমে আসতে হবে স্যার। দশ- বারো ধাপ তারপর একটা শুয়োরের খোঁয়ারের পাশের কটেজে-এ আসুন । সবাই আছে। আপনার লোকজন কালো গাড়ির অতিথিকেও অভ্যর্থনা করে নিয়ে এসেছে এখানে। আমি রাস্তার উপরেই আছি।’
ফেলুদা নিজে এখনও বাড়িটাতে ঢোকেননি। তবে সমুন্দর জানিয়ে দিয়েছে, সব কাজ নির্বিঘ্নে, বিনা রক্তপাতে গুছিয়ে আনা গেছে। এমনকি স্কুলের ছেলেটাকে জাগিয়ে, জামা-কাপড় পরিয়ে, গরম এক কাপ কফি খাইয়ে চাংগা করা গেছে। তারও হাত বাঁধা হয়েছে। সমুন্দর কোনো ঝুঁকি রাখতে চায়নি। এক একজন করে চেয়ারের সাথে কি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। পুলিশ এলেই তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
এস পি সাহেব কে নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকতে যেতেই ফেলুদা থমকালেন। এস পি সাহেবকে দেখে ছদ্মবেশের পুলিশের টুপি খুলে ফেললেন। সাদা হান্টার শু আর ব্লু জিনস পরা পা দুটো তার চেনা চেনা ঠেকছে যেন। 🍁(চলবে)

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক
এক নজরে সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ বিভাগের লেখা আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।







