প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, রায়পুর : অবশেষে নিজের রাজত্বে ফিরে এলেন ‘কিং’ বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। ২৯১ দিন পর ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন রাঁচিতে। সেই ধারাবাহিকতাই রায়পুরে এনে ফেললেন তিনি। যেন যেখানে ব্যাট থেমেছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু। আর ফল, কেরিয়ারের ৫৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৮৪তম তিন অঙ্ক! পরিসংখ্যান বলছে, তিনি এখন এমন উচ্চতায় দাঁড়িয়ে, যেখানে পৌঁছনো ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। অন্যদিকে প্রায় দু’বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করে রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad) খেললেন জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংস। ভারতের ওপেনারের সেঞ্চুরি ও বিরাটের ব্যাটিং জুটি ভারতকে নিয়ে গেছে একেবারেই বড় রানের সম্ভাবনার দিকে।
রায়পুরের মাঠে বুধবার যেন এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে এসেছিলেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন তেণ্ডুলকর (Sachin Tendulkar)-এর ১০০ সেঞ্চুরি এক সময় ছিল ধরা- ছোঁয়ারই বাইরে। এখন আর অসম্ভব মনে হয় না। রাঁচিতে ‘মাস্টার ব্লাস্টার’-এর টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁয়ে ইতিহাস করেছিলেন কোহলি। রায়পুরে আরও এগোলেন। জানসেন (Marco Jansen) -এর বলে সিঙ্গেল নিয়ে মাত্র ৯০ বলে তিনি পূর্ণ করলেন নিজের ৫৩তম ওয়ানডে শতরান। মাঠ তখন একটাই সুরে ধ্বনিত, কিং কোহলি! কিং কোহলি!
দিনের শুরুতে নজর কেড়েছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad)। ৭৭ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি জানান দিলেন, জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন মোটেও আকস্মিক নয়। রাঁচিতে যেখানে করেছিলেন মাত্র ৮ রান, সেখানে রায়পুরে তিনি যেন নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে দিলেন। মার্কো জানসেনের বলেই তাঁর ইনিংস শেষ হয় ৮৩ বলে ১০৫ রান। কিন্তু তার আগেই বিরাটের সঙ্গে ১৫৬ বলে ১৯৫ রানের জুটি দলকে নিয়ে গেছে অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে। এই পার্টনারশিপের মধ্যেই যেন দেখা গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের পুরনো-নতুন মেলবন্ধনের সৌন্দর্য। মাঝপথে একাধিকবার রুতুরাজকে ডেকে পরামর্শ দিয়েছেন কোহলি। কখনও শরীরী ভাষায়, কখনও হাতের ইশারায় তাঁকে শান্ত, স্থির থাকার বার্তা দিয়েছেন। ব্যাট হাতে রুতুরাজও সেই পরামর্শ কানে তুলে কাজে লাগিয়েছেন। নির্বাচকদের তিনি যেন সাফ জানিয়ে দিলেন, ওয়ানডে দলে তাঁর জায়গা আর সহজে খালি হচ্ছে না।
অন্যদিকে কোহলি যে কোনও রেকর্ডের নাগাল পাওয়ার জন্যই খেলেন না, তা আবারও স্পষ্ট। তিনি খেলেন দলের জন্য, জয়ের জন্য, নিজের ফর্মের ধারাবাহিকতাকে অটুট রাখতে। তবুও রেকর্ড তাঁর পিছনে ছুটে আসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা দু’বার সেঞ্চুরি করার কীর্তি তিনি ইতিমধ্যেই ১১ বার করলেন। যা বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে আর কোনও ব্যাটারের নেই। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকা তারকা এবি ডিভিলিয়ার্স (AB de Villiers), তিনি এই কৃতিত্ব পেয়েছেন ছ’বার।
এখানেই শেষ নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ভেন্যুতে সর্বাধিক ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও এখন কোহলির একার দখলে। ৩৪টি। আগের রেকর্ডধারী ছিলেন শচীন তেণ্ডুলকর (Sachin Tendulkar), তাঁরও ছিল ৩৪টি। এরপর রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ২৬, হাশিম আমলা (Hashim Amla) ও ডিভিলিয়ার্স (AB de Villiers)-এর ২১ করে। এই তালিকায় কোহলির অবস্থান বলে দিচ্ছে, ব্যাট হাতে তিনি যেন এক আলাদা মহাবিশ্বের বাসিন্দা। এদিন সেঞ্চুরি ফেস করার পর বিরাট তাঁর পরিচিত উদযাপনের ভঙ্গিতে হাত ছুঁড়লেন আকাশের দিকে। মাঠ যেন উত্তেজনার আগ্নেয়গিরি। দর্শকদের চিৎকারে তখন চারদিক কাঁপছে। রায়পুরের স্টেডিয়াম যেন ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের এক অনির্বচনীয় আবেগের কেন্দ্রে পরিণত হল। কিন্তু, ইনিংসটি আর বড় হয়নি। ১০২ রান করে তিনি মার্করাম (Aiden Markram)-এর হাতে ক্যাচ দিয়ে এনগিডির (Lungi Ngidi) বলে আউট হন। তখন ভারতের রান ৪ উইকেটে ২৮৪। উইকেট পড়ে গেলেও মোমেন্টাম একটুও কমেনি। রুতুরাজ ও বিরাটের ভিত্তির ওপর দাঁড়ে ভারত আবারও বড় রানের লক্ষ্যে ছুটছে। ম্যাচের পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল—আজ ভারতের ব্যাটারদের হাত সত্যিই খোলা।
কোহলি-রুতুরাজের দুই বিপরীতমুখী অথচ সমান কার্যকরী ব্যাটিং স্টাইল ভারতীয় ইনিংসকে দিয়েছে গতি, ধারাবাহিকতা এবং বিশ্বমানের এক নিখুঁত রূপ। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে এদিন যেন দাঁড়াতেই দিলেন না তাঁরা। মাঠে ছড়ানো ছিল শুধু একটাই তান, কিং কোহলি এবং উদীয়মান তারকা রুতুরাজের জয়গান। এখন সামনে প্রশ্ন, আজকের স্কোর কি ভারতের পক্ষে অপ্রতিরোধ্য ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করবে? ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা বটে, তবুও বলা যায়, রায়পুরে ভারতের রান পাহাড়ের মত উঁচু। কিন্তু রানের পাহাড় তুলেও ম্যাচ জিততে পারল না ভারত। ভারতের ফিল্ডিং, বোলিং ব্যর্থতা সামনে নিয়ে আসেন ক্রীড়া সমালোচকরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kohli in ODI Team | রাঁচীর শতরানে ফের গর্জে উঠলেন বিরাট, ভারতীয় দলে ‘কোহলি চাই’ দাবিতে আরও জোর, কুলদীপ-তিলকও যোগ দিলেন সমর্থনে




