সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আইপিএলের নিলাম সামনে। তার আগে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে যেন নতুন জন্ম হয়েছে অর্জুন তেন্ডুলকরের (Arjun Tendulkar)। দীর্ঘদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) মাঝে থেকেও স্থায়ী সুযোগ পাননি। আইপিএলে পাঁচ মরসুমে মাত্র পাঁচ ম্যাচ, সংখ্যাটাই বলে দেয় পরিস্থিতি। তবে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার (Sanjiv Goenka) লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) দলে সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি হতেই বদলে গিয়েছে তাঁর শরীরী ভাষা, আত্মবিশ্বাস আর পারফরম্যান্স। এখন অর্জুন শুধু বাঁহাতি পেসারই নন, তিনি কার্যকর ওপেনারও। ব্যাটিং অর্ডারে ওপেন করতে নেমে প্রতিবারই ঝড় তুলছেন। আবার নতুন বল হাতে নেওয়ার সময় তাঁর আগ্রাসী লাইন-লেংথ প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে। এই দ্বৈত ভূমিকায় তিনি যে আরও বেশি পরিণত হয়েছেন, তার প্রমাণ মিলল মধ্যপ্রদেশ ম্যাচে। মধ্যপ্রদেশের অধিনায়ক রজত পাটীদার (Rajat Patidar) গত মরসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (Royal Challengers Bengaluru) আইপিএল জিতিয়েছিলেন, তাঁর দলকে হারানোর মূল কারিগর হয়ে উঠলেন সচিন-পুত্র।
প্রথমে বল হাতে দারুণ ঝলক। চার ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিলেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, দুই ওপেনার ও বেঙ্কটেশ আয়ারকে (Venkatesh Iyer) তিনি ফেরান। উইকেটের এই তালিকাই বলে দেয় তাঁর সঠিক পরিকল্পনা ও ধার। পরে ওপেন করতে নেমে ১০ বলে ১৬ রান করে গোয়াকে দ্রুত শুরু এনে দেন।
আরও পড়ুন : extramarital love story | শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন জামাইবাবু, জামাইবাবুর বোনকে নিয়ে চম্পট শ্যালক
তাঁর সেই সূচনা কাজে লাগিয়ে ৯ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় গোয়া।উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের হয়ে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া অর্জুনের সিদ্ধান্ত, গোয়ায় যাওয়া, এখন যেন ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এখানকার ম্যাচগুলোতে তিনি নিয়মিত খেলছেন, ব্যাটিং-বোলিং দু’ধারায় সুযোগ পাচ্ছেন এবং তা কাজে লাগিয়েই ক্রমশ নজরের কেন্দ্রে আসছেন। বিশেষ করে তাঁর ওপেনিং ব্যাটিং অনেককে অবাক করেছে। ২০২২-এ রঞ্জি অভিষেকে শতরান করেছিলেন অর্জুন; সেই ব্যাটিং দক্ষতা এবার টি-টোয়েন্টিতেও চোখে পড়ছে।
উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে ওপেন করে করেছিলেন ২২ বলে ২৮ রান। যদিও পরে বল হাতে ২.২ ওভারে ২৯ রান দেন, সেই ম্যাচ জিততে পারেনি গোয়া। কিন্তু পরের ম্যাচে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে দেখা গেল একদম অন্য রূপ। সেখানে মাত্র ৯ বলে ১৪ রান করার পাশাপাশি ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ৫২ রানে গুটিয়ে দেন। চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে সেই জয়ের নেপথ্যনায়ক ছিলেন অর্জুনই। এরপর মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধেও তিনি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন, ব্যাটে-বলে সমান সফল। গোয়ায় এই ছন্দ তিনি লখনউ সুপার জায়ান্টসে নিয়ে যেতে চান । বিশেষ করে এ বারের আইপিএল নিলামের আগে লখনউ বেশ কিছু ভারতীয় পেসারকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে স্কোয়াডে। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অর্জুনের সামনে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। লখনউ দলে তাঁকে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে, যে ভূমিকায় তিনি গোয়ার হয়ে নিয়মিত নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন।
গত পাঁচ বছরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে সুযোগ বলতে ছিল মাত্র পাঁচ ম্যাচ, তার মধ্যে তিন উইকেট, এমন পরিসংখ্যান কোনও তরুণ পেসারের উন্নতির পথে বাধাও বটে। এক ম্যাচে ব্যাট করে করেছিলেন ৯ বলে ১৩ রান। স্পষ্টতই যথেষ্ট সুযোগ পাননি। তাই এবার তিনি নিজের ফর্ম, গতি, ব্যাটিং সক্ষমতা, সবকিছু ঝালিয়ে নিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বড়, আইপিএলের হাত ধরে ভারতীয় দলের দরজা খুলে দেওয়া। অর্জুন তেন্ডুলকর আবারও প্রমাণ করছেন, তিনি কেবল ‘সচিন-পুত্র’ নন, তাঁর নিজস্ব এক অস্তিত্ব আছে। এবং সেই অস্তিত্ব এখন গোয়েঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি লখনউর দরজায় কড়া নাড়ছে। যদি এই ধার বজায় থাকে, তবে খুব শীঘ্রই আইপিএলে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit–Kohli shine with match-winning knocks, Road to 2027 ODI World Cup | রোহিত-কোহলির দুরন্ত ইনিংস, ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি




