সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের পরিচয়পত্র ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য, উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। দু’টি রাজ্যই জানিয়ে দিল, আধার কার্ড (Aadhaar Card) আর কোনওভাবেই জন্মের প্রমাণ (Birth Proof) বা জন্ম সনদ (Birth Certificate) হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। সরকারি নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরই প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। শুক্রবার উত্তর প্রদেশ সরকারের প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট (Planning Department) একটি কঠোর নোটিস জারি করে জানিয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে জন্ম সনদ সংযুক্ত না থাকায় এটিকে জন্মের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তাই ভবিষ্যতে রাজ্যের কোনও সরকারি বিভাগ আধারকে জন্ম সনদের বিকল্প নথি হিসেবে গ্রহণ করবে না। নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই সমস্ত দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকারও একই পথে হেঁটেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, দেরিতে জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যুর সময় আধার কার্ড আর বৈধ নথি হবে না। শুধু তাই নয়, জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন (সংশোধনী) আইন, ২০২৩ কার্যকর হওয়ার পর যেসব জন্ম সনদ মাত্র আধার ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে (Chandrashekhar Bawankule) এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেন, “যে সমস্ত জন্ম বা মৃত্যু সনদ সন্দেহজনকভাবে, শুধুমাত্র আধারের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমন নথি যারা ইস্যু করেছেন, সেই আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি নিয়ম না মেনে যে সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম পোর্টাল (CRS Portal) থেকে সেই তথ্যও মুছে দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ, ভুয়ো নথি তৈরির দ্রুত বিস্তার। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে, জাল আধার কার্ড (Fake Aadhaar) তৈরি করে অসাধু দালাল চক্র নকল জন্ম ও মৃত্যু সনদ বানাচ্ছে। এই জাল নথিগুলি ব্যবহার করে বেআইনি সম্পত্তি হস্তান্তর, স্কুল ভর্তির জালিয়াতি, ভুয়ো বয়স প্রমাণ, এমনকী অপরাধমূলক পরিচয় পরিবর্তন পর্যন্ত ঘটছে।
ভারতজুড়ে আধার কার্ড আজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হলেও এর সিকিউরিটি ব্রিচ ও ডেটা লিক সংক্রান্ত আশঙ্কা রাজ্য সরকারগুলিকে উদ্বিগ্ন করেছে। তাই জন্ম সনদের মতো সংবেদনশীল নথির ক্ষেত্রে আধারের ওপর নির্ভরতা বন্ধ করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, জন্ম সনদ এমন একটি প্রাইমারি নথি যা জন্মের সময়ই জারি হয়, অন্যদিকে আধার কার্ড তৈরি হয় কয়েক বছর পর, এবং জন্মের তথ্য এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য রাজ্যেও দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি রাজ্য একই পথে এগোতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশনকে স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত রাখা এখন সরকারের অগ্রাধিকার।সরকারি দপ্তরগুলিতে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে, জন্ম সনদ ছাড়া অন্য কোনও নথি দিয়ে জন্ম তারিখ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বেশ কয়েকটি পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অতিরিক্ত টিমও তৈরি হচ্ছে, সন্দেহজনক সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন, পূর্বে আধার ভিত্তিক যে হাজারো জন্ম সনদ ইস্যু হয়েছে, সেগুলির ভবিষ্যৎ কী? সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ, আইন অনুযায়ী নয় এমন সব নথি বাতিল হবে, এবং পুনরায় সঠিক নথি দাবি করতে হবে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্ম সনদের ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার, যাতে আধার নম্বর ব্যবহার করেও কেউ নকল জন্ম সনদ তৈরি করতে না পারে। তবে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট, জন্ম সনদ একটি প্রাথমিক নথি, আর আধার একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, দুইয়ের উদ্দেশ্য আলাদা। তাই আধারকে জন্মের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা কোনওভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাজারো নথি বাতিলের পাশাপাশি বেআইনি দালালচক্রের দৌড়ও কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন। তবে নাগরিকদের জন্য শুরু হবে নতুন প্রক্রিয়া, যাদের নথিতে ত্রুটি রয়েছে, তাদের দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশজুড়ে এখন আলোচনা, জন্ম সনদের লেগাল ভ্যালিডেশন ও আধার যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আসতে চলেছে। রাজ্যগুলির এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যতে নীতি হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mission Sudarshan Chakra | উড়ুপিতে মোদীর কণ্ঠে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শত্রুর দুঃসাহস দেখালেই ভস্মীভূত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী




