UIDAI Deactivates 2 Crore Aadhaar Numbers, India’s Largest Data Cleanup Explained | ২ কোটি আধার ডিঅ্যাকটিভেশন: দেশের সবচেয়ে বড় ডেটাবেস পরিশোধনের পর কী বদলাচ্ছে নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা?

SHARE:

UIDAI ডিঅ্যাকটিভেট করল ২ কোটি আধার নম্বর। কীভাবে খুঁজে বের হল নিষ্ক্রিয় আধার? নাগরিকের করণীয় কী? জেনে নিন এই বিস্তারিত ফিচারে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতের ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থার মেরুদণ্ড বলা হয় আধারকে(Aadhaar)। প্রায় ১৩০ কোটিরও বেশি নাগরিকের পরিচয়, সরকারি সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সব ক্ষেত্রেই আধার নম্বর এখন অপরিহার্য। কিন্তু এই বিশাল ব্যবস্থার মধ্যেই বছরের পর বছর গড়ে উঠেছিল ‘অদৃশ্য জালিয়াতির রাজ্য’। কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি বেহাত হওয়া, মৃত মানুষের নামে পেনশন চালু থাকা, ভুয়ো পরিচয়ে ঋণ নেওয়া, শুধু তা-ই নয়, নকল রেশন কার্ড তৈরি- এই সব অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিষ্ক্রিয় অথচ সক্রিয় হিসেবে রেকর্ড থাকা বহু আধার নম্বর। সেই অস্বচ্ছতা কাটাতে দেশের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া- UIDAI (ইউআইডিএআই) শুরু করেছে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ডেটাবেস পরিশোধন প্রক্রিয়া।

২৬ নভেম্বর ঘোষণা করা হল, ২ কোটিরও বেশি আধার নম্বর ডিঅ্যাকটিভেট করে দেওয়া হয়েছে। এই খবর সামনে আসার পর সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ, আমার আধারও কি বন্ধ হয়ে গেল? স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। কিন্তু এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বহুমাত্রিক স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য, যা দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আরও নিরাপদ করবে। সরকারি তথ্য বলছে, ইউআইডিএআই যে কাজটি শুরু করেছে তা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়-ডেটা পরিশোধনের উদাহরণ। প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো (PIB) -এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা ভুয়ো ব্যবহারযুক্ত আধার কার্ডগুলোকে শনাক্ত করার জন্য নানা সরকারি দপ্তরের ডেটা একত্র করা হয়েছে। মৃত্যু নিবন্ধন দফতর, Registrar General of India, বিভিন্ন রাজ্যের Public Distribution System, ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (NSAP) রেকর্ড- প্রায় সব জায়গাতেই আধারের সঙ্গে ডেটা মিলিয়ে দেখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছে, যে আধার নম্বরের মালিক বহু বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন, সেই নম্বরেই চলছে পেনশন। কোনও ত্রাণ বা ভর্তুকি স্কিমে একাধিক আধার নম্বর ব্যবহার করে টাকা তোলার ঘটনাও ধরা পড়েছে। আবার বিভিন্ন ব্যাংক ও ফিনটেক প্ল্যাটফর্মের অভিযোগ একই মোবাইল নম্বর, একই নথি ব্যবহার করে বহু অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছিল। এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিল নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর আধার নম্বর।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

একজন আধার বিশেষজ্ঞের ভাষায়, “ডেটাবেস পরিষ্কার না হলে জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।” অন্যদিকে ইউআইডিএআই জানিয়েছে, যেসব আধার নম্বর ডিঅ্যাকটিভেট করা হয়েছে, সেগুলো আর কখনও সক্রিয় হবে না। এমনকী ওই নম্বর ভবিষ্যতে কোনও নবজাতকেরও বরাদ্দ হবে না। অর্থাৎ একবার বাতিল মানেই স্থায়ীভাবে বন্ধ। ফলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, ব্যাংক প্রতারণা বা রেশন সংক্রান্ত জালিয়াতি আর করা সম্ভব হবে না।

কিন্তু, নাগরিকের কাছেও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আসছে। পরিবারে কেউ প্রয়াত হলে অনেকেই তা আধার কর্তৃপক্ষকে জানান না। এতে মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর সিস্টেমে সক্রিয় থাকতে থাকে এবং অপরাধীরা সেগুলো হাতে পেলে ব্যবহার করতে পারে। এই বিষয়টি বুঝতেই ইউআইডিএআই চালু করেছে একটি অনলাইন সেলফ-রিপোর্টিং ব্যবস্থা, যা ইতিমধ্যেই ২৫ টির বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু হয়েছে।

আপনার পরিবারের কারও মৃত্যু হলে কী করবেন?
প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ :

১. myaadhaar.uidai.gov.inপোর্টালে যান।
২. নিজের আধার নম্বর দিয়ে লগ ইন করুন।
৩. ‘Report Death of Family Member’ অপশনটি বেছে নিন।
৪. প্রয়াত ব্যক্তির আধার নম্বর ও ডেথ সার্টিফিকেটে থাকা ডেথ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন।
৫. ওটিপি দিয়ে অথেন্টিকেশন করুন।

এই পরিষেবাটি শীঘ্রই দেশের সব রাজ্যেই চালু হবে বলে ইউআইডিএআই জানিয়েছে। পরিকল্পনা, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই এই পদ্ধতি সার্বিকভাবে কার্যকর হবে। ইউআইডিএআই -এর একজন আধিকারিকের কথায়, “আধারের নির্ভুলতা বাড়ানো মানে প্রতিটি সরকারি পরিষেবা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ হওয়া। ৯৯ শতাংশ নাগরিকের ডেটাবেস সুরক্ষিত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই উদ্যোগের প্রভাবও বহুমুখী। সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। কোটি কোটি টাকার আর্থিক লিকেজ বন্ধ হবে। রেশন সিস্টেম হবে আরও কার্যকর। ব্যাংকিং জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে। মৃত মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে, ভারতের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থায় এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমার আধার ঠিক আছে তো? -এর উত্তর সহজ। যদি আপনি নিয়মিত আধার ব্যবহার করেন, মোবাইল নম্বর লিংক থাকে, ই-কেওয়াইসি হয়, সরকারি ব্যবস্থায় কোনও বেনিফিট পান, তাহলে আপনার আধার বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবুও চাইলে UIDAI-এর Verify Aadhaar Number অপশন ব্যবহার করে নম্বরটির স্ট্যাটাস দেখে নেওয়া যেতে পারে।

নতুন যুগে ডিজিটাল পরিচয় নিরাপত্তা এখন শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি নাগরিক দায়িত্বও। আধার ডেটাবেস পরিষ্কার হচ্ছে মানে ভারত আরও স্বচ্ছ, আরও ডিজিটালি নিরাপদ হয়ে উঠছে, এটাই ওয়াকিবহাল মহলের মত।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Yogi Adityanath Gomti project | গোমতীর প্রাণ ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ -এর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, শুরু হল ‘রিভাইভাল মিশন’

Sasraya News
Author: Sasraya News