সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমের নারী উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনকে সামনে রেখে ফের এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। রবিবার নিজের সরকারি ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যোমিতা অভিযান’-এর নতুন পর্যায়ের সূচনার কথা জানিয়ে লিখেছেন, এই প্রকল্পই আত্মনির্ভর অসমের ভবিষ্যৎ ভিত্তি রচনা করবে। ফেসবুকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন, ‘মহিলা শক্তি-আত্মনির্ভর অসমৰ মূল শক্তি।’ তাঁর মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে দৃঢ় করতে হলে গ্রামাঞ্চলের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকেই সামনে আসতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) জানান, রঙাপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যোমিতা অভিযান’-এর চেক বিতরণের নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে এলাকার মোট ২৪,৮২৭ জন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য প্রত্যেকে ১০,০০০ টাকা করে প্রারম্ভিক পুঁজি হিসেবে পেয়েছেন। এর ফলে তাঁরা নিজস্ব ক্ষুদ্র ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে পারবেন।
নারীকে উদ্যোক্তা বানানোর লক্ষ্যে বৃহৎ পরিকল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য অসমের নারীদের আর্থিক টিকে থাকার লড়াইকে শক্তিশালী করা এবং তাঁদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অসমৰ প্ৰায় ত্ৰিছ লক্ষাধিক মহিলাক লাখপতি বাইদেউ হিচাপে গঢ়ি তুলাৰ লক্ষ্যৰে এই অভিযান অব্যাহত।” অর্থাৎ, পুরো রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলাকে আগামী দিনে ‘লাখপতি বাইদেউ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। এ খাতে সরকার যে বিপুল বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিচ্ছে, তা গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর কাছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসন ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
কৃষি থেকে হস্তশিল্প-উদ্যোগের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে সরকার
এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পেয়ে বহু মহিলা কৃষি, পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন, হস্ততাঁত বা হস্তশিল্পের মতো ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘কৃষি, পশুপালন, হস্ততাঁত-হস্তশিল্প আদি ক্ষেত্ৰত এই মহিলা উদ্যমীসকলে নিজৰ জীৱিকাক মজবুত কৰি গ্ৰাম্য অৰ্থনীতি শক্তিশালী কৰাৰ দিশে আগবাঢ়ি যাওক।’ এই কথার মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, তা অসমের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এই প্রকল্প।সরকারের দাবি, এমন উদ্যোগ শুধু আয় বাড়াবেই না, তা প্রতিটি গ্রামে ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক চক্রকে সক্রিয় করবে, যা ভবিষ্যতে বৃহৎ রাজস্ব বৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।
নারীর ক্ষমতায়নে ‘অসম মডেল’ রাজ্যে নতুন উদাহরণ
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প এখন অনেকের কাছেই ‘অসম মডেল’-এর একটি সফল দৃষ্টান্ত বলে ধরা হচ্ছে। কারণ এতে শুধু অর্থ দেওয়া হচ্ছে না, বরং নারী উদ্যোক্তাদের হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হচ্ছে। নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কর্মদক্ষতা ও স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার- এই তিন স্তম্ভকে কেন্দ্র করে নারীকেন্দ্রিক উন্নয়ন এগোচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে অসমে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে বহু গুণ, এবং সরকার এই গোষ্ঠীগুলোর উপরই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে জানান, ‘আমি সদায়েই আপোনালোকৰ সৈতে থাকিম।’ অর্থাৎ, আগামী দিনেও এই প্রকল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অসমে বিজেপি সরকার যে নারীকেন্দ্রিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ২০২৬ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই পোস্ট সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘লাখপতি বাইদেউ’ ব্র্যান্ডটি ইতিমধ্যেই গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং এই জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চাইছে সরকার। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে সামাজিকভাবে ভূমিকা বাড়ানোর কৌশলকে অনেকে উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন নীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, অসমে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে এই প্রকল্পের বড় অর্থনৈতিক ফলাফল দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma | হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শুভেচ্ছা বার্তা: চিরাগ পাসওয়ানকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী




