West Bengal economy decline, Bengal industrial crisis | বাংলা এগোচ্ছে নাকি পিছোচ্ছে? ফেসবুকে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন শমীক ভট্টাচার্য

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ফেসবুক পোস্টে রাজ্যের অর্থনীতি, শিল্প এবং প্রশাসনের অবনতির অভিযোগ। পরিসংখ্যান, মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে উত্তাল রাজনীতি।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন, অর্থনীতি ও শিল্প পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। রবিবার, ২৩ নভেম্বর তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘এগিয়ে বাংলা’ শ্লোগানের আড়ালে চলছে ‘বিপজ্জনক প্রতারণা’, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎকে ‘পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে’।

ফেসবুক পোস্টে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) লেখেন, ‘এগিয়ে বাংলা- কোনদিকে? আসলে পিছন দিকেই!’। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার উৎসবের আলো আর সরকারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিচ্ছে। তার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি- সবক্ষেত্রে এক গভীর অবনতি ঢেকে যাচ্ছে। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, ‘উৎসব-উৎসব বলে চোখ ঝলসে দাও, যাতে ভাঙা বাস্তব মানুষ বুঝতে না পারে।’

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬০-৬১ সালে দেশের মোট জাতীয় আয়ের ১০.৫% যেখানে দিত পশ্চিমবঙ্গ, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬% অর্ধেকেরও কম। মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের ১২৭% -এর ওপরে ছিল, তা এখন ৮৩.৭%-এ নেমে এসেছে। শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) লিখেছেন, ‘যে বাংলা একসময় দেশকে পথ দেখাত, আজ সেই বাংলা দেশের নিচের দিকে টেনে নামছে।’ রাষ্ট্রঋণের প্রসঙ্গ তুলেও তিনি কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে যেখানে মোট ঋণ ছিল ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৩ লক্ষ কোটি। মাথাপিছু ঋণও ২০,৩০০ টাকা থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৫৯,০০০ টাকার ঘরে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, ‘এই ঋণ কি নারীর সুরক্ষা, কর্মসংস্থান বা শিল্পায়নে খরচ হচ্ছে? না। খরচ হচ্ছে মেলা-খেলা-মোচ্ছবের নামে রাজনৈতিক প্রচারে।’

ফেসবুক পোস্টে শমীক ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ১৯৫০-৫১ সালে দেশের মোট শিল্প উৎপাদনের ২৪% যেখান থেকে আসতো এই রাজ্য, সেখানে ২০২১-২২ সালে তা নেমে হয়েছে মাত্র ৩.৫%। চট শিল্পের উদাহরণ টেনে তিনি লেখেন, ‘একসময় ১০১টি জুটমিল বাংলায় কর্মসংস্থানের অগ্রদূত ছিল। আজ হুগলির বহু কারখানায় তালা ঝুলছে, শ্রমিকেরা উপার্জনহীন।’ ১৯৬০-৬১ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ৯ লক্ষ মেট্রিক টন, ২০২৫ সালে তা নেমে গিয়েছে ৭ লক্ষ মেট্রিক টনে। পাশাপাশি ব্যাংকিং লেনদেন নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ১৯৫৫ সালে দেশের ২৮% ব্যাংকিং ট্রানজ্যাকশন ছিল পশ্চিমবঙ্গের হাতে, অথচ ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬%।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

FDI-র ভাঙা চিত্র তুলে ধরলেন শমীক ভট্টাচার্য

বিজেপি সভাপতির মতে, বিদেশি বিনিয়োগেও ভয়াবহ টানা-টান চলছে। তিনি লিখেছেন, ‘১৯৯১ সালে ভারতে মোট FDI-এর ১২% আসত পশ্চিমবঙ্গে, যা দেশে প্রথম। ২০২৩-২৪ সালে সেই শতাংশ ১%-এর নিচে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ এই পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মোট FDI মাত্র ০.৬৬%।’ এর বিপরীতে মহারাষ্ট্র পেয়েছে ৩১%, গুজরাত ১৬.৫%।তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জেদের ফলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পায়নের রেসে পিছিয়ে পড়েছে। তিনি লেখেন, ‘এটা শুধু পরিসংখ্যানে পতন নয়, এটা নীতিহীনতা, এটা দলীয় স্বার্থে রাজ্য পরিচালনা, এটা রাষ্ট্রের বদলে পার্টির রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা।’ উল্লেখ্য, রাজ্যের শিল্প, বন্ধ কারখানাগুলি, অকেজো চিমনি, বেকার শ্রমিকের আর্তনাদ- এসবই ‘অব্যবস্থাপনার জ্বলন্ত প্রমাণ’ বলে দাবি করেন তিনি।শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘এ শুধু অর্থনীতির ক্ষতি নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের ক্ষয়।’

শমীক ভট্টাচার্যের এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসকদলের তরফে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া না মিললেও, বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পোস্ট আগামী দিনে তাঁদের রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের অবনতি তুলে ধরতে বিজেপি আক্রমণের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, শমীক ভট্টাচার্যের পোস্ট রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata Metro Delay, Samik Bhattacharya Statement | চিঙড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটারের জট, রাজ্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন শমীক ভট্টাচার্য

Sasraya News
Author: Sasraya News