সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দ্বারভাঙা, বিহার: ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই এক নামকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। মাত্র ২৫ বছরের মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur), বিজেপির তরুণ প্রার্থী, আলীনগর বিধানসভা কেন্দ্রে যেন ঝড় তুলেছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনার প্রতিটি রাউন্ডেই বাড়ে তাঁর লিড, আর দুপুর গড়াতেই ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১১,০৮২ ভোটে। অভিজ্ঞ জেডিইউ নেতা রমেশ চৌধুরী (Ramesh Choudhary) কে পিছনে ফেলে মৈথিলী জয়ী হয়েছে এখন আলীনগরের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
গণনার ১২টি রাউন্ড শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, মৈথিলী পান ৬৮,৪৫৬ ভোট, রমেশ চৌধুরীর ঝুলিতে ৫৭,৩৭৪। আরজেডির সুধীর যাদব (Sudhir Yadav) অনেকটাই পিছিয়ে, মাত্র ১৮,৯২১ ভোটে অবস্থান করছেন তৃতীয় স্থানে। ভোটের এই রূপরেখা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, আলীনগরে পরিবর্তনের ঢেউ বইছে, আর সেই ঢেউয়ের মুখ্য চালক যুব নেতৃত্বের মৈথিলী।
এই তাঁর জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি সাংস্কৃতিক স্বপ্ন, আলীনগরের নাম বদলে করা হবে ‘সীতা নগর’। এই প্রতিশ্রুতিই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি বয়সে ছোট, কিন্তু স্বপ্নে বড়। আলীনগরকে সীতা নগর করব, কারণ এই মাটিতেই সীতার জন্ম। মিথিলার গৌরব ফেরানোই আমার লক্ষ্য।” লোককথা অনুযায়ী, আলীনগরের কাছে অবস্থিত ‘সীতাকুণ্ড’ ও ‘জানকী মন্দির’ থেকেই সীতার জন্মস্থান দাবি করে থাকেন বহু বাসিন্দা। সেই ঐতিহাসিক আবেগকে কেন্দ্র করেই মৈথিলীর এই নাম-বদলের প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ মহিলাদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ৫৫% মহিলা ভোটারের এই কেন্দ্রে তাঁর ‘নারী শক্তি’ বার্তা জয়ী সমীকরণ তৈরি করেছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
দ্বারভাঙার মেয়ে মৈথিলী রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। তাঁর বাবা রাজেন্দ্র ঠাকুর (Rajendra Thakur) একসময় আরএসএস-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে গ্রাম পঞ্চায়েতের মুখিয়া হয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই তাঁর পরিচিতি ‘মিথিলার মেয়ে’। বিজেপির কৌশলবিদেরা তাঁকে এই নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর স্লোগান, “যুবতীর হাতে যুব বিহার”— প্রচারের মাঠে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।
প্রচারের সময় দেখা গেছে তাঁকে সাইকেলে চেপে গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দরজায় দরজায় কথা বলছেন। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani) প্রচারসভায় বলেছিলেন, “মৈথিলী বিহারের ভবিষ্যৎ। ও জিতলে বিহারে নতুন যুগের সূচনা হবে।” বিজেপি রাজ্য সভাপতি সম্রাট চৌধুরী (Samrat Choudhary)ও তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে আশাবাদী মন্তব্য করেছিলেন।
অন্যদিকে, জেডিইউ প্রার্থী রমেশ চৌধুরী অভিজ্ঞতার তাস খেললেও তা ভোটারদের মন জয় করতে পারেনি। তরুণ নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে রেখে তৈরি মৈথিলীর প্রচার যজ্ঞের সামনে তাঁর প্রচার ছিল তুলনামূলকভাবে নীরব এবং একঘেয়ে।
‘সীতা নগর’ প্রতিশ্রুতির বিষয়ে মৈথিলীর যুক্তি স্পষ্ট, পর্যটন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, এবং মিথিলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বে তুলে ধরা। তিনি এক সভায় বলেছিলেন, “এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় গুরুত্ব— সবকিছুর সঙ্গে সীতার সম্পর্ক। নাম বদলে দিলে শুধু পরিচিতিই বদলাবে না, বদলাবে মানুষের জীবনযাত্রা।”
তরুণ প্রার্থী, নারী-ভোটারের শক্তিশালী সমর্থন, সাংস্কৃতিক আবেগ, এবং বিজেপির সর্বস্তরের প্রচার, এই চারটি উপাদান মৈথিলীর জয়ের রাস্তা অনেকটাই প্রশস্ত করেছে। দুপুর থেকে যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তাতে বুঝাই যাচ্ছে, আলীনগর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, এবার এক নতুন নেতৃত্বের হাতে ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত




