সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : হিন্দু ধর্মে শক্তি, সাহস ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে যাঁর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন শ্রী হনুমানজি (Lord Hanuman)। রামভক্ত বজরংবলির আশীর্বাদে জীবনের কঠিনতম সময়ও সহজ হয়ে যায়, এমন বিশ্বাস যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে গেঁথে আছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এমন তিনটি রাশি রয়েছে যাঁদের উপর বিশেষভাবে বিরাজ করেন শ্রী হনুমানজি। তাঁর কৃপা এঁদের জীবনের অন্ধকার মুহূর্তে আলো জ্বেলে দেয়, সাহস জোগায়, এবং প্রতিকূল সময়েও পথ দেখায়। বিশেষত মেষ, বৃশ্চিক ও মকর রাশির জাতক-জাতিকারা এই বিশেষ আশীর্বাদে ধন্য বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, হনুমানজি মূলত মঙ্গল (Mars) -এর অধিপতি দেবতা। ফলে যাঁদের রাশিচক্রে মঙ্গল শক্তিশালী বা যাঁদের জীবনে মঙ্গলের প্রভাব প্রবল, তাঁরা হনুমানজির কৃপা সহজে লাভ করেন। প্রতি মঙ্গলবার (Tuesday) ও শনিবার (Saturday) ভগবান হনুমানের পুজো বা ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করলে এই দেবতার আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

মেষ রাশি (Aries): রাশিচক্রের প্রথম রাশি মেষ। এই রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল (Mars), আর সেই কারণেই হনুমানজি মেষ রাশির জাতকদের প্রতি বিশেষ সদয়। এই রাশির মানুষদের জীবনে যদি বাধা আসে, বজরংবলি তাঁদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। অফিসে বা ব্যবসায় হঠাৎ সমস্যার মুখোমুখি হলে তাঁরা ভেঙে পড়েন না। বরং হনুমানজির কৃপায় আরও দৃঢ় হয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। নিয়মিত ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ, লাল ফুল বা লাল রঙের পতাকা নিবেদন করলে কর্মজীবনে উন্নতি, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শান্তি- সবকিছুই বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষী অতুল মিশ্র বলেন, “মেষ রাশির জাতকদের জীবনে যদি আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, তবে প্রতি মঙ্গলবার হনুমানজির নাম স্মরণ করলেই পরিবর্তন আসবে। বজরংবলি তাঁদের পথ প্রদর্শক হয়ে উঠবেন।”
বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): এই রাশির জাতকদের উপর মঙ্গল ও কেতুর (Ketu) যুগল প্রভাব থাকে। ফলে তাঁদের মধ্যে আত্মসম্মান প্রবল ও প্রতিশোধস্পৃহা তীব্র। হনুমানজির কৃপায় এই রাশির ব্যক্তিরা নিজেদের আবেগ ও রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক জীবন বা ব্যক্তিগত সম্পর্কে যখনই জটিলতা আসে, হনুমানজি যেন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেন। ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, বৃশ্চিক রাশির জাতকরা যদি প্রতিদিন সকালবেলা হনুমান মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান এবং একচুল তেল অর্পণ করেন, তবে তাঁদের জীবনে বাধা কেটে যায়। কোনও প্রতিপক্ষ বা শত্রুর ষড়যন্ত্রও ফলপ্রসূ হয় না। এই রাশির মানুষরা হনুমানজির কৃপায় এমন এক আত্মিক শক্তি পান যা তাঁদের ভিতর থেকে শক্ত করে তোলে। জ্যোতিষ বিশারদ রেণু শর্মা বলেন, “বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জীবনে অনেক সময় রাগ বা হতাশা এসে যায়। কিন্তু হনুমানজির আরাধনা তাঁদের মন স্থির রাখে, মানসিক স্থিতি আনে। তাঁর কৃপায় এঁরা জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নির্ভয়ে।”
মকর রাশি (Capricorn): শনির রাশি মকর। কিন্তু মজার বিষয় হল, শনিদেবের রোষ প্রশমিত করতে হনুমানজি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা। তাই মকর রাশির জাতকরা যেমন শনির কৃপায় দৃঢ়, তেমনই হনুমানজির আশীর্বাদে ভাগ্যবান। জীবনের যে কোনও বাধা, যেমন আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক চাপ বা কর্মক্ষেত্রের দুশ্চিন্তা—সবই হনুমানজির আশীর্বাদে কমে যায়। বিশেষত যাঁরা ‘সাড়ে সাতি’ বা শনিদশায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমানজির পুজো অত্যন্ত ফলপ্রদ। একমুঠো ভাজা ছোলা, গুড় ও তেল দিয়ে পুজো করলে মকর রাশির জাতকরা জীবনের স্থবিরতা থেকে মুক্তি পান।
জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় তিওয়ারিজানান, “মকর রাশির মানুষরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও স্থিতধী। হনুমানজির কৃপা পেলে এঁরা জীবনে এমন সাফল্য অর্জন করতে পারেন যা সাধারণত অসম্ভব মনে হয়। তাঁদের জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জই হয়ে ওঠে নতুন সম্ভাবনার দরজা।” জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, যে কেউ হনুমানজির কৃপা চাইলে প্রতিদিন ‘বজরং বান’ বা ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করতে পারেন। মঙ্গলবার লাল চন্দন, লাল ফুল, ও রুদ্রাক্ষ সহযোগে পুজো করলে হনুমানজি দ্রুত সন্তুষ্ট হন। বিশেষ করে মেষ, বৃশ্চিক ও মকর রাশির জাতকরা এই নিয়ম মেনে চললে জীবনে সাফল্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবেন। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমানজি কখনও ভক্তের বিপদে নীরব থাকেন না। তাই এই তিন রাশির জাতকদের জীবনে যতই বাধা আসুক, তাঁরা শেষ পর্যন্ত জয়ী হন বজরংবলির আশীর্বাদেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : zodiac signs for success, office astrology feature | অফিসে সেরার সেরা! এই ৫ রাশির জাতক-জাতিকারা কর্মক্ষেত্রে বলে বলে গোল দেন, সাফল্য টেনে আনেন নিজের মুঠোয়




