সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কৃতিত্বের মুকুটে যুক্ত হল আরও এক উজ্জ্বল পালক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta), সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় (St. Xavier’s University) -এর পর এবার জাপানের ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয় (Yokohama University) মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানাল সাম্মানিক ডিলিট (Honorary D.Litt) দিয়ে। বুধবার বিকেলে কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই ডিগ্রি গ্রহণ করেন। রাজ্য রাজনীতি থেকে সাহিত্যচর্চা, জীবনের দুই দিকেই তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই সম্মান জানানো হয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant), শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu), কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা (Manoj Verma)-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। সমগ্র প্রেক্ষাগৃহে করতালির ধ্বনি ও আনন্দের আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি গ্রহণ করেন, তখন অনেকের চোখে ছিল গর্ব ও আবেগের ছোঁয়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে জাপানের প্রতিনিধিরা বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে (Bengal Global Business Summit) যোগ দিতে বাংলায় এসেছিলেন। তখনই তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জাপানে যাওয়ার জন্য। আমি বলেছিলাম, এ বছর যাওয়া সম্ভব নয়। তখন তারা বলেছিলেন, আপনি না এলে আমরা বাংলায় চলে আসব! আমি কীভাবে না বলি? এ তো শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়, এটি এক বন্ধুত্বের বন্ধন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছর তিনি জাপান সফরে যাবেন। তাঁর কথায়, “আগামী বছরই জাপান যাব। সঙ্গে ছোটখাটো সফরও হয়ে যাবে। জানি, এতে অনেকের অসুবিধা হবে, কিন্তু আমি ভিআইপি (VIP) নই, আমি এলআইপি (LIP) লেস ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন! এভাবেই থাকতে চাই সারা জীবন।”
ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে সততা, প্রশাসনে নেতৃত্বদানের দক্ষতা এবং সাহিত্যে সৃজনশীল অবদান তাঁদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ভারতের নয়, এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহিত্যপ্রেম, সংগীতচর্চা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে এক অনন্য চরিত্রে পরিণত করেছে।” উল্লেখ্য যে, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থ সাম্মানিক ডিলিট। এর আগে তিনি ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২৩ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (KIIT University) -এর তরফে সম্মান পেয়েছিলেন। এই নতুন ডিগ্রির সঙ্গে তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরিসর আরও বিস্তৃত হল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জাপানের মতো দেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পেল, তেমনি রাজ্যের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষত, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বাংলার সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চান, এই ডিলিট তা আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বুধবারের অনুষ্ঠান শেষে ধনধান্য স্টেডিয়ামের বাইরে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও দেখা যায় প্রবল উৎসাহ। কেউ কেউ বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি সাহিত্যিকও। তাঁর হাতে এই আন্তর্জাতিক সম্মান পাওয়া মানে গোটা রাজ্যের গর্ব।” রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “এই সম্মান শুধু মুখ্যমন্ত্রীর নয়, গোটা বাংলার। ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবনও কম আলোচিত নয়। তাঁর একাধিক কবিতাগ্রন্থ, গল্পসংকলন এবং প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতি এবং সাহিত্য দুই জগৎকে একসূত্রে বাঁধার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। প্রসঙ্গত, জাপানের সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক যোগ বহু পুরনো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) একাধিকবার জাপান সফর করেছিলেন এবং সেই সময়ের জাপানি কবি ও শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। এবার সেই সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলে দিল ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জাপান আমার কাছে এক অনুপ্রেরণার দেশ। তাঁদের শৃঙ্খলা, সংস্কৃতি ও মানবিকতা থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। আগামী বছর আমি যখন সেখানে যাব, তখন আশা রাখি নতুন সম্পর্ক ও সহযোগিতার পথ খুলে যাবে।” বাংলার রাজনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আগামী বছর তাঁর জাপান সফরের অপেক্ষায় এখন রাজ্যবাসী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Atal Bihari Vajpayee news | অটলজির সঙ্গে হাসিঠাট্টায় মমতা: “যীশুর জন্মদিনে জন্ম হয়নি, মা-বাবা যা দিয়েছিলেন তাই চলছে”



